সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শেষ প্রচার, হাউসে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরাযুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষা কর ছাড় চালু হচ্ছে ২০২৭ সালে, অনুদানে মিলবে সুবিধাস্কুলে যাওয়ার পথে গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের, মাকে ভিসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রএমআইটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ভর্তি কমেছে ১৫ শতাংশলন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ, লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৩৯ ফিলিস্তিনপন্থী

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষা কর ছাড় চালু হচ্ছে ২০২৭ সালে, অনুদানে মিলবে সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষা কর ছাড়ে ২০২৭ সাল থেকে নির্দিষ্ট শিক্ষা অনুদানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত কর সুবিধা পাবেন যোগ্য করদাতারা।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষা কর ছাড় চালু হচ্ছে ২০২৭ সালে, অনুদানে মিলবে সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষা কর ছাড় চালু হচ্ছে ২০২৭ সালে, অনুদানে মিলবে সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি চলছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য করদাতারা নির্দিষ্ট বেসরকারি বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে অর্থ অনুদান দিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত ফেডারেল আয়কর ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়তা করার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
নতুন কর্মসূচিটির নাম ফেডারেল স্কলারশিপ ট্যাক্স ক্রেডিট। এটি শিক্ষা স্বাধীনতা কর ছাড় নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের বড় কর ও বাজেট আইন, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আইনে পরিণত হয়, তার ৭০৪১১ নম্বর ধারায় এই কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে। নতুন আইনের ২৫এফ ধারায় এর আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ২০২৭ করবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির অর্থের জোগান বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যালয়ের বেতন, অতিরিক্ত পাঠদান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার খরচ অনেক পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতাদের অনুদান দিতে উৎসাহিত করা হবে। সেই অনুদানের অর্থ নির্দিষ্ট বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করবে এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি হিসেবে বিতরণ করবে।
নতুন ব্যবস্থায় একজন যোগ্য ব্যক্তি নির্দিষ্ট বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে অর্থ অনুদান দিলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত ফেডারেল আয়কর ছাড় দাবি করতে পারবেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১ হাজার ৭০০ ডলার সরাসরি কোনো শিক্ষার্থী বা অনুদানদাতাকে সরকার থেকে দেওয়া হবে না। এটি হচ্ছে কর ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নিজের অর্থ থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেবেন এবং নিয়ম মেনে সেই অনুদানের বিপরীতে নিজের ফেডারেল আয়করের হিসাব থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমানোর সুযোগ পাবেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন করদাতা যোগ্য প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ডলার অনুদান দিলেন। তিনি অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে ওই অনুদানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার কর ছাড় দাবি করতে পারবেন। আবার কেউ ২ হাজার ডলার অনুদান দিলেও ফেডারেল কর ছাড়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ সীমা থাকবে ১ হাজার ৭০০ ডলার। তবে কর ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারণে অন্যান্য প্রযোজ্য বিধিনিষেধও বিবেচনায় নিতে হবে।
বিবাহিত দম্পতিদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুযোগ। যৌথভাবে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকে আলাদাভাবে যোগ্য অনুদান দিলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার করে মোট ৩ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত কর ছাড় দাবি করতে পারবেন। অর্থাৎ নতুন বিধিমালায় স্বামী-স্ত্রীকে দুটি পৃথক করদাতা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে উভয়কে নিজ নিজ যোগ্য অনুদান দিতে হবে এবং পরিবারের মোট করের দায়ের সীমাও প্রযোজ্য হবে।
তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। প্রথমত, যে প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া হবে সেটিকে সরকারের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে বৃত্তি প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হবে। সাধারণভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে করমুক্ত দাতব্য সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ বিতরণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য নয়। কোনো অঙ্গরাজ্য চাইলে স্বেচ্ছায় এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারবে। অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্যকে নিজেদের এলাকায় যোগ্য বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগে জমা দিতে হবে। সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত যোগ্য প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিলেই কেবল সংশ্লিষ্ট কর ছাড় দাবি করা যাবে।
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জন্য ৩০টি অঙ্গরাজ্য এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগাম সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তালিকায় রয়েছে আলাবামা, আলাস্কা, আরকানসাস, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, কেনটাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ডাকোটা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ভার্জিনিয়া, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ওয়াইওমিং।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তি যে অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন, শুধু সেই অঙ্গরাজ্যের প্রতিষ্ঠানেই অনুদান দিতে হবে এমন নয়। সরকারের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, করদাতারা অন্য অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানেও অনুদান দিতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত তালিকায় থাকতে হবে। ফলে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী করদাতারাও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে অন্য অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্যের প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার বিষয়টিও নতুন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ব্যবস্থায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ার উপযুক্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ৩০০ শতাংশের কম হতে হবে। অর্থাৎ পরিবারের আয়ের সীমা নির্ধারণে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই নির্দিষ্ট ডলারের অঙ্ক ব্যবহার করা হবে না। যে এলাকায় পরিবারটি বসবাস করে, সেই এলাকার মধ্যম আয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ শুধু বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্যই এই কর্মসূচি তৈরি করা হয়নি। সরকারি বিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থী এবং চার্টার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

বৃত্তির অর্থ কী কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষা ব্যয়ের মধ্যে বেসরকারি বিদ্যালয়ের বেতন, অতিরিক্ত পাঠদান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা, বই, শিক্ষা উপকরণ, কম্পিউটার এবং পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে কোন খাতে অর্থ ব্যয় করা যাবে, তার চূড়ান্ত ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত নির্দেশনা পৃথকভাবে প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একজন করদাতার কর ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা ১ হাজার ৭০০ ডলার হলেও একজন শিক্ষার্থীর বৃত্তির পরিমাণ একই অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে থাকা অর্থ, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন এবং নিজস্ব বৃত্তি বিতরণের নিয়ম অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে। অর্থাৎ অনুদানদাতার কর ছাড়ের সীমা এবং শিক্ষার্থীর বৃত্তির পরিমাণ দুটি আলাদা বিষয়।
নতুন কর্মসূচিতে কর ছাড়টি ফেরতযোগ্য নয়। এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তির ফেডারেল আয়করের দায়ের চেয়ে কর ছাড়ের পরিমাণ বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ নগদ ফেরত হিসেবে পাওয়া যাবে না। তবে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অব্যবহৃত যোগ্য কর ছাড় নির্দিষ্ট শর্তে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত বহন করার সুযোগ থাকতে পারে। ফলে করদাতাদের অনুদান দেওয়ার আগে নিজেদের কর পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য নিয়ম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশের ঘোষণা দেয়। পরদিন ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রস্তাবিত বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী বিধিমালা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়। এসব বিধিমালায় অঙ্গরাজ্যের অংশগ্রহণ, বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, অনুদানের হিসাব, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধিমালার ওপর সাধারণ জনগণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বৃত্তি প্রদানকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে একটি জনশুনানির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তুর প্রস্তাব জমা না পড়লে সেই শুনানি বাতিল হতে পারে।
অস্থায়ী বিধিমালার কিছু অংশ ২০২৭ সালের জন্য কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট শর্ত মেনে সংশ্লিষ্ট করদাতা, অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এসব প্রস্তাবিত নিয়ম অনুসরণ করতে পারবে। তবে সব শিক্ষা ব্যয়ের চূড়ান্ত সংজ্ঞা এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে কর্মসূচির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আরও নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ থেকে ৭০০টি বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। একই সময়ে বছরে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি করদাতা প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তির অর্থের ব্যবস্থা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এগুলো সরকারের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফলাফল নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তান প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছে, তারা ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, এই কর ছাড় মূলত যোগ্য প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য। এটি প্রত্যেক বাংলাদেশি পরিবার বা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সরাসরি সরকারি বৃত্তি নয়।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের করদাতা হিসেবে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তিনিও অনুদানদাতা হিসেবে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবাই এই সুবিধা পাবেন না। করদাতার যোগ্যতা, অনুদানের ধরন, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চালু হতে যাওয়া নতুন ফেডারেল শিক্ষা কর ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা অর্থায়ন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। একদিকে করদাতারা নির্দিষ্ট অনুদানের বিপরীতে কর ছাড় পাবেন, অন্যদিকে সেই অর্থ দিয়ে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে প্রকৃত সুবিধা কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে অঙ্গরাজ্যের অংশগ্রহণ, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, চূড়ান্ত বিধিমালা এবং শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ওপর।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষাশিক্ষা বৃত্তিনতুন কর ছাড়ফেডারেল শিক্ষা কর্মসূচিবাংলাদেশি প্রবাসীযুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনাশিক্ষার্থীদের সহায়তাশিক্ষা অনুদানট্রাম্প প্রশাসনযুক্তরাষ্ট্রের করনীতি।

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।