সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মার্কিন মিডটার্মে টানটান উত্তেজনা: পর্যবেক্ষক মোতায়েনে রেকর্ড, দুই রাজ্যে আদালতের বড় রায়সুখবর! আমেরিকায় পড়ার স্বপ্ন? বাংলাদেশিদের জন্য ৪ স্কলারশিপ, আজ রাতেই ডেডলাইন ২টিরযুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় অ্যাপার্টমেন্টে আগুন, ঘর হারিয়ে বিপাকে ১৫টি পরিবারওয়াশিংটনে বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে থাকা কর্মীদের সতর্কতাযুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের একজন ২০ বছরের তরুণী সহচালক নাথালিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের একজন ২০ বছরের তরুণী সহচালক নাথালিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ ব্যক্তিগত বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ২০ বছর বয়সী তরুণ সহচালক নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুয়েরাস।

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের একজন ২০ বছরের তরুণী সহচালক নাথালিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের একজন ২০ বছরের তরুণী সহচালক নাথালিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ বছর বয়সী তরুণী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুয়েরাস। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্যক্তিগত বিমান চালানোর অনুমতিপত্র অর্জন করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের চালক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল তাঁর জীবন। ১ নভেম্বর রোববার সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় বিমানটির নয়জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নাথালিয়া ওই বিমানের সহচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মা কামিলা কোরতেলেতি সংবাদমাধ্যমকে মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি ব্যক্তিগত বিমানে সহচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নাথালিয়ার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তাঁর পরিচিতজন, সহকর্মী এবং বিমান চালনা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার গ্রিনএকার্স এলাকায়, পাম বিচ কাউন্টির অন্তর্গত একটি জনবসতিপূর্ণ সড়কে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে লিয়ারজেট ৬০ মডেলের একটি ব্যক্তিগত বিমান সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে। বিমানটি মাটিতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আগুনের গোলা তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও কালো ধোঁয়া। দুর্ঘটনার আঘাতে সড়কের একটি অংশে বড় গর্ত তৈরি হয়। আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে মোট নয়জন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন ছিলেন উড্ডয়নকর্মী এবং সাতজন যাত্রী। দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে ফিরতে পারেননি। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন শহরের বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এর গন্তব্য ছিল বাহামাসের নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দর। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ফ্লোরিডায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
নাথালিয়ার জীবনের দিকে তাকালে বোঝা যায়, ছোটবেলা থেকেই বিমান চালনার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি বিমান চালনা শেখার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ২০২০ সালে তিনি বিমান চালনার তাত্ত্বিক শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তাঁর বাবা অ্যালান ফিলগুয়েরাসও শখের বশে বিমান চালনা শিখেছিলেন। বাবার কাছ থেকেও তিনি বিমান চালনা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জানতে পারেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি ফ্লোরিডার ওয়েস্ট বোকা র‍্যাটন কমিউনিটি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে বিশেষ বিমান চালনা শিক্ষাক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। বিদ্যালয়ের এই বিশেষ শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিমান চালনার বিভিন্ন বিষয়, কৃত্রিম উড্ডয়ন অনুশীলন এবং আকাশযান পরিচালনার প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।
২০২৩ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্যক্তিগত বিমান চালানোর অনুমতিপত্র অর্জন করেন নাথালিয়া। সে সময় তাঁর উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের মোট সময় ছিল ৮৮ ঘণ্টা। তাঁর প্রশিক্ষণের ব্যয়ের একটি অংশ বহন করেছিল পাম বিচ কাউন্টির বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিমান চালনা শিক্ষাক্রম। এই সাফল্যের কারণে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
একটি সাক্ষাৎকারে নাথালিয়া জানিয়েছিলেন, অনেকে বিষয়টি অবাক হয়ে দেখতেন যে তিনি গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়ার আগেই বিমান চালাতে পারতেন। বিষয়টি তিনি হাস্যরসের সঙ্গে উপভোগ করতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে একজন দক্ষ বাণিজ্যিক বিমানচালক হওয়া। সেই লক্ষ্যে তিনি আরও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বিমান চালনার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে আরও শিক্ষা গ্রহণ করেন। বিমান চালনার বিভিন্ন যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি তিনি নিজের পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তাঁকে বিমানের চালকের আসনে এবং আকাশে বিমান পরিচালনা করতে দেখা যায়। এসব ছবি থেকে বিমান চালনার প্রতি তাঁর আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বিমানটি ছিল লিয়ারজেট ৬০ মডেলের একটি মাঝারি আকারের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিমান। এটি পরিচালনার সঙ্গে অরোরা এভিয়েশন নামের প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল, যারা আপার জেটস নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। বিমানটি টেক্সাস থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। উড্ডয়নের পর বেশ কিছু সময় স্বাভাবিকভাবে চলার পর আকাশেই সমস্যার মুখে পড়ে এটি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটের দিকে বিমানের চালকেরা আকাশে বরফ জমা এবং মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনির সমস্যার কথা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকে জানান।
চালকেরা জানান, বিমানের গায়ে হালকা স্বচ্ছ বরফ জমছিল। পাশাপাশি ঝাঁকুনির কারণে বিমানটির উচ্চতায় প্রায় ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা হচ্ছিল। ওই সময় বিমানটির বাইরের তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা।
এরপর বিমানটির চালকেরা আরও দুই হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চান। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে সেই অনুমতিও দেওয়া হয়। কিন্তু এর ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। বিমানটি হঠাৎ উচ্চতা হারাতে শুরু করে। চালকেরা জরুরি বিপৎসংকেত পাঠান এবং বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে বলে জানান।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের সময় চালকদের পাঠানো শেষ বার্তাগুলোতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে ওঠে। তাঁরা জানান, বিমানটি অত্যন্ত দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একপর্যায়ে মাটিতে আছড়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও জানান তাঁরা। এরপরই বিমানটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সংস্থাটির সদস্য টম চ্যাপম্যান ২ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিকভাবে এমন কিছু আলামত পাওয়া গেছে, যাতে ধারণা করা হচ্ছে বিমানটি মাটিতে আঘাত করার আগেই ভেঙে যেতে শুরু করেছিল। তবে বিমানের কোন অংশ কখন বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, বিমানের কিছু ভাঙা অংশ মূল দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরেও পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে আশপাশের এলাকায় ধ্বংসাবশেষ খোঁজার কাজ চলছে। বিমানের যন্ত্রাংশ, কাঠামো, আবহাওয়া, উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে কথোপকথন পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তে প্রায় ২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে বিমান কাঠামো, যন্ত্রপাতি, আবহাওয়া, উড্ডয়ন তথ্য এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিশ্লেষণের বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন এবং বিমানটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও তদন্তে সহযোগিতা করছেন।
তবে তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেননি। বিমানে বরফ জমা, মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনি, বৃষ্টিপাত এবং হঠাৎ উচ্চতা হারানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুধু আবহাওয়াকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় শুধু বিমানের নয়জন আরোহীই প্রাণ হারাননি, আশপাশের বাসিন্দাদের জীবনেও নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। বিমানটি যেখানে আছড়ে পড়ে, তার আশপাশে একটি আবাসিক এলাকা রয়েছে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে তাঁদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে কাজ শুরু করে।
এলাকার এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিমানের ধ্বংসাবশেষ তাঁর বাড়িতেও এসে পড়েছিল। চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সড়কেও আগুন জ্বলছিল। আরেক বাসিন্দা জানান, বিমানটি বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। পরে বিকট শব্দের সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দুর্ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনায় মাটিতে থাকা একজন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বিমানের আরোহীদের কেউ বেঁচে ছিলেন না। আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প এবং তাঁদের দুই শিশু সন্তান এমা ও চার্লিও রয়েছেন। শিশু দুটির বয়স ছিল যথাক্রমে চার বছর ও দুই বছর। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশুদের পরিচর্যাকারী আনিতা মারিয়া সেতিনাও প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া র‍্যাচেল রিড ও চারমি ফেয়ারের নামও নিহতদের মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
নাথালিয়ার বিমান চালানোর অনুমতিপত্রে লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমান চালানোর যোগ্যতার উল্লেখ ছিল। তবে তিনি ওই উড্ডয়নের প্রধান চালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিলেন না। দুর্ঘটনার সময় তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তিনি কী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একজন তরুণীর জন্য বিমান চালনা ছিল শুধু পেশা নয়, ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। অল্প বয়সে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে তিনি অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর পরিবার এখন এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় নিহত বাকি আটজনের পরিবারও প্রিয়জন হারিয়ে শোকের মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলেও পুরো তদন্ত শেষ হতে আরও সময় লাগবে। বিমানের যন্ত্রাংশ পরীক্ষা, উড্ডয়নের তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহের পর দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি, চালক বা নির্দিষ্ট যান্ত্রিক সমস্যাকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে না।
নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুয়েরাসের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রতিটি বিষয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একটি মুহূর্তের বিপর্যয় নয়টি পরিবারের জীবন বদলে দিয়েছে। একজন তরুণীর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নও থেমে গেছে চিরতরে।


ট্যাগ: নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুয়েরাসফ্লোরিডা বিমান দুর্ঘটনাপাম বিচ কাউন্টিযুক্তরাষ্ট্রের খবরবিমান বিধ্বস্তনয়জন নিহততরুণী সহচালকলিয়ারজেট দুর্ঘটনাবিমান নিরাপত্তাযুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী সংবাদ।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।