সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে কাল মধ্যবর্তী নির্বাচন, আগাম ভোট দিয়েছেন ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরটেক্সাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল, ভোটার সাত দশমিক সাত মিলিয়ন ছাড়ালযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়ার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারিনিউইয়র্কে ব্যাটারির আগুনে মা ও তিন সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় কোন দল বেশি আসন পাবে, তা ঠিক করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। এর প্রভাব পড়বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগামী দুই বছরের শাসনকাজেও।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেস ভবন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেস ভবন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সময় ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও অনেকটা এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত। একটি প্রতিনিধি পরিষদ এবং অন্যটি সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদে মোট ৪৩৫টি আসন রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সব আসনেই ভোট গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট পার্টি এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান আসনসংখ্যার তুলনায় অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। আর সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন। ফলে দুই কক্ষের নির্বাচনই দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন শুধু আইনপ্রণেতা বাছাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের মনোভাবও প্রকাশ পাবে। জীবনযাত্রার ব্যয়, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, অভিবাসননীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সরকার পরিচালনা করলেও আইন পাস, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতির ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদি রিপাবলিকানরা দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য নিজের দলীয় সমর্থন নিয়ে আইন ও নীতি বাস্তবায়ন করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ অথবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে।

বিশেষ করে অভিবাসননীতি, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, করনীতি এবং বিদেশনীতি নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই নির্বাচনের ফলাফল আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট গ্রহণেও ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ভোটারদের উপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে নির্বাচনের আগে কোনো দলই নিশ্চিতভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নতুনভাবে নির্ধারিত হবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রমধ্যবর্তী নির্বাচনমার্কিন রাজনীতি

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।