যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের অবস্থান জানাচ্ছে না সরকার, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের অবস্থান গোপন রাখার নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে চারটি আইনি সহায়তা সংস্থা। এতে পরিবার ও আইনজীবীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হেফাজতে থাকা হাজারো মানুষের অবস্থান গোপন রাখার সরকারি নীতির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে চারটি আইনি সহায়তা সংস্থা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কারণে আটক ব্যক্তিদের পরিবার, স্বজন ও আইনজীবীরা তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইস (আইসিই) আগে তাদের অনলাইন বন্দি অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের অবস্থান জানার সুযোগ দিত। পরিবারের সদস্য, আইনজীবী কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতেন। কিন্তু নতুন নীতির আওতায় চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান অনলাইন তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু অনলাইন ব্যবস্থাতেই নয়, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা ফোন করে জানতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই নীতির বিরুদ্ধে চারটি আইনি সহায়তা সংস্থা ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। সংস্থাগুলো হলো গ্রেটার বোস্টন লিগ্যাল সার্ভিসেস, রিয়ান ইমিগ্র্যান্ট সেন্টার, ফ্লোরেন্স ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস প্রজেক্ট এবং অ্যামিকা সেন্টার ফর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস। তাদের দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে আটক ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ পাওয়া আটক ব্যক্তিদের অবস্থান প্রকাশ বন্ধ করা হয়েছে। এতে আইসের হেফাজতে থাকা প্রায় ৬৯ হাজার মানুষের মধ্যে ১৬ হাজারের বেশি ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আওতায় পড়েছেন। ফলে হাজারো মানুষ কোথায় আটক রয়েছেন, তা জানা আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে গেছে।
আইনজীবীদের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ থাকলেও তার সব ধরনের আইনি সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা আদালতে নতুন করে আবেদন করতে পারেন, আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে পারেন কিংবা আটক থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। কেউ কেউ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা না গেলে আইনজীবীদের পক্ষে এসব পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মামলাকারী সংস্থাগুলোর ভাষ্য, নতুন নিয়ম চালুর পর তাদের আইনজীবীদের অনেক সময় বিভিন্ন আটককেন্দ্রে ফোন করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মক্কেলদের খুঁজতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফোনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে কিছু আইনি আবেদন দাখিলে দেরি হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সংস্থাগুলো আরও বলেছে, এই নীতি শুধু আটক ব্যক্তিদের জন্য নয়, তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোনো স্বজন আটক হওয়ার পর তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে না পারলে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছাতে কিংবা আইনজীবীর সহায়তা নিশ্চিত করতে সমস্যায় পড়েন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ ব্যাখ্যা ও জনসাধারণকে আগে থেকে না জানিয়ে এই নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং আইনজীবীদের কাজের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্থাগুলো আদালতের কাছে নীতিটিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি মামলার বিচার চলাকালে এই নিয়ম স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন সুযোগ এখনো রয়েছে। বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ রয়েছে, তাদের বহিষ্কার করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর বক্তব্য, ফোনে যোগাযোগের সুযোগ থাকলেই একজন আটক ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া বা তার আইনি অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে একজন ব্যক্তিকে এক আটককেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হলে তার অবস্থান জানা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এখন আদালত এই নীতির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা। মামলার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের অবস্থান জানার সুযোগ এবং তাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।