সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসুযোগে বড় ধাক্কা, প্রশিক্ষণ অনুমতিতে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলারযুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছরের থাকার নিয়ম আদালতের বাধায় আপাতত কার্যকর নয়নিউইয়র্কের বাউনে পার্কে শিশুদের হ্যালোইন উৎসবে আনন্দে মাতলেন মেয়র জোহরান মামদানবিন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদটেক্সাসের নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছরের থাকার নিয়ম আদালতের বাধায় আপাতত কার্যকর নয়

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছর থাকার নতুন নিয়ম আদালতের বাধায় স্থগিত, আপাতত আগের নিয়মেই বৈধভাবে থাকতে পারবেন এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছরের থাকার নিয়ম আদালতের বাধায় আপাতত কার্যকর নয়
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছরের থাকার নিয়ম আদালতের বাধায় আপাতত কার্যকর নয়

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ আপাতত আটকে গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত নতুন বিধি অনুযায়ী, এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা নির্দিষ্ট মেয়াদবিহীন অবস্থানের ব্যবস্থা বাতিল করে সর্বোচ্চ চার বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে কার্যকর হওয়ার ঠিক এক দিন আগে, ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর একটি ফেডারেল আদালত নতুন বিধি বাস্তবায়নে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আপাতত আগের নিয়মই বহাল রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা স্নাতকোত্তর, গবেষণা কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা করছেন, তাঁদের জন্য নতুন নিয়মটি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। কারণ চার বছরের মধ্যে পড়াশোনা শেষ না হলে অতিরিক্ত সময় থাকার জন্য নতুন করে সরকারি অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই ফেডারেল রেজিস্টারে চূড়ান্ত বিধিটি প্রকাশ করে। বিধিটির নাম ছিল বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অবস্থান বাড়ানোর নতুন পদ্ধতি চালু করা। এর আগে ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করা হয়েছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামত বিবেচনার পর চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ করা হয়। প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের আদেশে সেই পরিকল্পনা থেমে যায়।
নতুন বিধির মূল বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া। এত দিন এফ-১ ভিসাধারীরা সাধারণত তাঁদের অনুমোদিত শিক্ষাক্রম চালিয়ে যাওয়ার পুরো সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে পারতেন। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর অনুমোদিত শিক্ষাক্রম যত দিন চলবে এবং তিনি ভিসার শর্ত মেনে চলবেন, তত দিন তাঁর অবস্থানের অনুমতি বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে সবার জন্য একটিমাত্র নির্দিষ্ট চার বছরের সময়সীমা ছিল না।
নতুন বিধি অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা তুলে দিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদে অবস্থানের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রমের মেয়াদ অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হলেও সর্বোচ্চ সময়সীমা চার বছর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের হলে প্রথম চার বছরের পর অতিরিক্ত সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের কাছে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। নতুন বিধিতে চার বছরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা ছিল না। বরং চার বছরকে প্রাথমিক অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি ও ভিসার শর্ত মানার বিষয়টি যাচাই করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যোগ্য শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে পারতেন। তবে সেই আবেদন অনুমোদন পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতো।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পিএইচডি কর্মসূচি শেষ করতে পাঁচ থেকে সাত বছর কিংবা তারও বেশি সময় লাগে। গবেষণার বিষয়, পরীক্ষাগারের কাজ, গবেষণার ফলাফল, গবেষণাপত্র তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে চার বছর পর এসব শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত অবস্থানের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হতো। ফলে তাঁদের পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র, আবেদন ফি এবং অনুমোদনের অপেক্ষা নিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারত। তবে চার বছর পার হলেই তাঁদের দেশ ছাড়তে হতো, বিষয়টি এমন নয়। যথাযথ যোগ্যতা থাকলে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।
এ ছাড়া নতুন বিধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং শিক্ষার বিষয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষার লক্ষ্য পরিবর্তন ও অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এসব পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারত।
নতুন বিধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য অতিরিক্ত সময় কমিয়ে আনা। বর্তমানে এফ-১ ভিসাধারীরা সাধারণত পড়াশোনা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৬০ দিন সময় পান। নতুন বিধিতে এই সময় কমিয়ে ৩০ দিন করার কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের হাতে আগের তুলনায় ৩০ দিন কম সময় থাকত।
তবে জে-১ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। তাঁদের জন্য প্রচলিত নিয়মেই সাধারণত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৩০ দিন সময় রয়েছে। তাই ৬০ দিন থেকে ৩০ দিনে কমানোর পরিবর্তনটি মূলত এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। এটিকে সব ধরনের শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির জন্য একই পরিবর্তন হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না।
তবে নতুন বিধি নিয়ে আপত্তি ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংগঠন এবং অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, নতুন নিয়মের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার শিক্ষার্থীদের বারবার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তরের কাজের চাপ বাড়বে। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানের পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এই বিরোধের জের ধরে নতুন বিধির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে যায়। মামলার নাম প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্সসহ অন্যান্য বনাম স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নতুন বিধির বৈধতা এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক এফ ডেনিস সেইলর নতুন বিধি বাস্তবায়নের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর ফলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিধিটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক মনে করেন, নতুন বিধির পক্ষে সরকারের দেওয়া যুক্তি যথেষ্ট শক্তিশালী নয় এবং বিকল্প ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, নতুন বিধি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার আকর্ষণও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ এফ-১ ভিসাধারী এবং প্রায় পাঁচ লাখ জে-১ ভিসাধারী ছিলেন। তাঁদের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল।

আদালতের আদেশের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়, আপাতত নতুন নিয়ম অনুযায়ী অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করার প্রয়োজন নেই। এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারীরা আগের মতো তাঁদের অনুমোদিত শিক্ষাক্রম বা বিনিময় কর্মসূচির শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং শিক্ষার লক্ষ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিতে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত বিধিনিষেধও আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষক সহায়তা দপ্তর ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন বিধি ১৫ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে না। শিক্ষার্থী ও তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা আগের নিয়ম অনুযায়ী অবস্থান করতে পারবেন। নতুন ব্যবস্থার অধীনে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও আপাতত প্রয়োজন নেই। একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তাঁদের অনেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভর্তি হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করা, অধ্যাপকদের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত জীবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকে অনেকের।

বিশেষ করে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গবেষণার সময়সীমা সব সময় আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। কোনো গবেষণায় নতুন তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারের ফলাফল পেতে দেরি হয়, আবার কোনো গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। এসব কারণে চার বছরের মধ্যে গবেষণা শেষ করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে।
নতুন বিধি কার্যকর হলে চার বছর শেষে অতিরিক্ত অবস্থানের অনুমতি চাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হতো। এতে আবেদন ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা এবং সরকারি অনুমোদনের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। কোনো আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনুমোদিত কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিধিতে কিছু সুরক্ষাও রাখা হয়েছিল। যথাসময়ে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা এফ-১ শিক্ষার্থীরা আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তে পূর্ণকালীন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতেন। জে-১ অংশগ্রহণকারীদের জন্যও অনুমোদিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন বিধি শুধু এফ-১ ও জে-১ ভিসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যবহৃত আই-শ্রেণির ভিসার অবস্থানের সময়সীমা পরিবর্তনের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বিধির সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলোও আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তাই শুধু শিক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভিসাধারীদের জন্যও আদালতের সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা কত দিন বহাল থাকবে এবং মামলার চূড়ান্ত রায় কী হবে। ১৪ সেপ্টেম্বরের আদেশটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ আদালত এখনো মামলার সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। মামলা চলমান রয়েছে। সরকার চাইলে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারে। অন্যদিকে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিধি কার্যকর করা যাবে না। ফলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিধিতে আরও বলা হয়েছিল, আগে থেকেই দেশটিতে অবস্থানরত এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারীদের জন্য আলাদা পরিবর্তনকাল থাকবে। যাঁরা নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার দিন বৈধ অবস্থানে থাকবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের শেষ তারিখ অথবা নতুন বিধি কার্যকরের চার বছর পর—এই দুই সময়ের মধ্যে যেটি আগে আসবে, সেটি বিবেচনা করার পরিকল্পনা ছিল। তবে নতুন বিধি কার্যকর না হওয়ায় এই পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থাও এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
এখানে শিক্ষার্থীদের আই-৯৪ নথি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এই নথিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অনুমোদিত অবস্থানের তথ্য থাকে। নতুন বিধি কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট শেষ তারিখ উল্লেখ করার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত আগের অবস্থানকালীন ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের আই-৯৪, আই-২০ এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নথি নিয়মিত যাচাই করা উচিত।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া। আদালতের আদেশে নতুন চার বছরের নিয়ম স্থগিত থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ভিসার সব শর্ত থেকে মুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ভর্তি থাকা, অনুমোদিত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ না করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।
যাঁদের পিএইচডি বা গবেষণার সময় চার বছরের বেশি হতে পারে, তাঁদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভবিষ্যতে আদালতের সিদ্ধান্ত বা সরকারের নতুন পদক্ষেপের কারণে নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পরামর্শক এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ভালো।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রবাংলাদেশি শিক্ষার্থীশিক্ষার্থী ভিসাএফ-১ ভিসাজে-১ ভিসাপিএইচডিবিদেশে উচ্চশিক্ষামার্কিন অভিবাসনভিসার মেয়াদফেডারেল আদালত

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।