যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বসবাস, জীবনযাপন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। একদিকে নিউইয়র্কের উচ্চ আবাসন ব্যয়, বাড়িভাড়া, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা অনেক অভিবাসী পরিবারকে বিকল্প শহর খুঁজতে উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে টেক্সাসের হিউস্টন ও ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে তুলনামূলক বড় বাড়ি, শহরতলির আবাসন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে হিউস্টন, আরভিং, প্লানো, ফ্রিসকো ও আশপাশের এলাকাগুলো বাংলাদেশি পরিবারগুলোর কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য কনস্যুলার সেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা শেখানো, শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখা এবং আগামী পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিয়েও বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ও অভিবাসনবিষয়ক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও টেক্সাসের প্রতি মানুষের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ টেক্সাসে এসেছেন। একই সময়ে টেক্সাস থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে গেছেন প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আসা মানুষের সংখ্যা চলে যাওয়া মানুষের চেয়ে প্রায় ৭২ হাজার ৭০০ বেশি। এই তালিকায় নিউইয়র্কও রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ২৮ হাজার ২০০ মানুষ টেক্সাসে বসবাসের জন্য গেছেন। তবে এই পরিসংখ্যান সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সম্মিলিত হিসাব। এখানে কতজন বাংলাদেশি ছিলেন, কিংবা তাঁদের কতজন হিউস্টন, ডালাস অথবা আরভিংয়ে বসতি গড়েছেন, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। হিউস্টনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির চিত্রও এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। টেক্সাসের জনসংখ্যাবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ২৪ লাখ ৭০ হাজার নতুন বাসিন্দা যুক্ত হয়েছেন। এর বড় অংশের বসতি হয়েছে হিউস্টন ও ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের বৃহত্তর মহানগর অঞ্চলে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বৃহত্তর হিউস্টন অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭২০ জন এবং ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৭ জন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হিসাব পাওয়া গেছে। এই বৃদ্ধির পেছনে আবাসন, কর্মসংস্থান, পারিবারিক পরিবেশ এবং শহরতলির জীবনযাত্রার মতো বিষয় কাজ করছে। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে অনেক পরিবারের জন্য উপযুক্ত আয়তনের বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করা পরিবারগুলোর কাছে একাধিক শয়নকক্ষ, গাড়ি রাখার জায়গা, খোলা পরিবেশ এবং ভালো বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
টেক্সাসের বিভিন্ন শহরতলিতে এসব সুবিধা তুলনামূলক সহজে পাওয়া যেতে পারে। তবে সব এলাকায় বাড়িভাড়া বা বাড়ির দাম কম, এমন ধারণা সঠিক নয়। হিউস্টন, ডালাস এবং তাদের আশপাশের এলাকার মধ্যেও আবাসন ব্যয়ের বড় পার্থক্য রয়েছে। কাজের জায়গা থেকে দূরত্ব, যাতায়াতের খরচ, বিদ্যালয়ের মান, বাড়ির কর এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় হিসাব করেই পরিবারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। হিউস্টনের বাংলাদেশি কমিউনিটিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন কেউ সেখানে গেলে পরিচিত মানুষের মাধ্যমে বাসা খোঁজা, চাকরির তথ্য সংগ্রহ, শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাংলাদেশিরা নতুন অভিবাসীদের জন্য এক ধরনের সহায়তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। হিউস্টনের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করছে। সংগঠনটির কার্যক্রমে সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি কমিউনিটির কল্যাণমূলক উদ্যোগও রয়েছে। সংগঠনটি বাংলাদেশ আমেরিকান সেন্টার গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ কমিউনিটি সদস্য অংশ নিয়েছিলেন বলে সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। ডালাসের আশপাশের আরভিং, প্লানো ও ফ্রিসকোতেও বাংলাদেশি পরিবার, শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীদের বসবাস রয়েছে। বিশেষ করে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠায় অনেক পরিবার শহরের কেন্দ্রের বাইরে বসবাসের সুযোগ খুঁজছে। তবে আরভিং শহর নিজেও জনসংখ্যা হারিয়েছে—২০২৫ সালের আদমশুমারির প্রাক্কলন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য রয়েছে। তাই পুরো ডালাস অঞ্চল বাড়ছে বলেই আরভিংয়ের প্রতিটি এলাকায় জনসংখ্যা বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার সেবার গুরুত্বও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কনস্যুলেট জেনারেল একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র। এখান থেকে ই-পাসপোর্ট, পাসপোর্ট নবায়ন, জন্মনিবন্ধন, ভিসা, অনাপত্তিপত্র, দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ এবং বিভিন্ন নথি সত্যায়নের মতো সেবা পাওয়া যায়।
কনস্যুলেটের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে প্রথমে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদনকারীর বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা যাচাইযোগ্য ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন সনদ থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ই-পাসপোর্টের আঙুলের ছাপ ও ছবি দেওয়ার জন্য আগে থেকে সাক্ষাতের সময় নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কর্মদিবসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কনস্যুলেটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত না থাকলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগে। আঙুলের ছাপ দেওয়ার আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। এ কারণে অনেক আবেদনকারীকে অপেক্ষা করতে হয়। সরকারি নির্দেশনায় বায়োমেট্রিক কার্যক্রমের জন্য প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাসপোর্ট তৈরির সময় সম্পর্কেও কনস্যুলেটের নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সাধারণ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ কর্মদিবস এবং দ্রুত সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে। তবে কাগজপত্রে তথ্যের অমিল বা বিশেষ সমস্যার কারণে সময় আরও বাড়তে পারে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, লস অ্যাঞ্জেলেসে ই-পাসপোর্টের আবেদন আগের তুলনায় কত শতাংশ বেড়েছে, সে বিষয়ে কনস্যুলেটের প্রকাশিত কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তাই সেবার চাহিদা বেড়েছে বলে নিশ্চিত দাবি করার সুযোগ নেই। তবে কনস্যুলেটের প্রকাশিত নির্দেশনায় আবেদনকারীদের জন্য বিস্তারিত প্রস্তুতির নিয়ম এবং অপেক্ষার সময় উল্লেখ থাকায় সেবাটি নিতে আগ্রহীদের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া যায়। কনস্যুলার সেবার পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি ও বৃহত্তর বাঙালি সমাজে ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসে জন্ম নেওয়া অনেক শিশুর দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজির ব্যবহার বেশি। ফলে তাদের বাংলা পড়া, লেখা, বলা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার জন্য অভিভাবকেরা বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাঙালি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলা অ্যাসোসিয়েশন অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া উল্লেখযোগ্য। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং তাদের অধীনে পাঠশালা ও পাঠভবন নামে দুটি বাংলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে শুধু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না; এগুলো বৃহত্তর বাঙালি সমাজের সাংস্কৃতিক উদ্যোগের অংশ।
হিউস্টনেও বাংলা ভাষা শেখানোর কার্যক্রম রয়েছে। হিউস্টন দুর্গাবাড়ি সোসাইটির বাংলা বিদ্যালয়ে প্রতি রবিবার শিশুদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শেখানো হয়। সেখানে বাংলা পড়া, লেখা এবং ভাষার ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, হিউস্টনের উদ্যোগেও বাংলা ভাষা ও কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ধরনের বিদ্যালয় শুধু ভাষা শেখানোর জায়গা নয়। এগুলো প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহিত্য, সংগীত, জাতীয় দিবস এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পহেলা বৈশাখকে ঘিরেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাঙালি সমাজের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। হিউস্টনে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, হিউস্টনের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের অনুষ্ঠান হয়েছিল বলে স্থানীয় কমিউনিটি আয়োজনের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। নতুন বছরকে ঘিরে এ ধরনের আয়োজন প্রবাসী সমাজের জন্য শুধু আনন্দের বিষয় নয়; এটি নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করারও একটি সুযোগ। শিশুদের গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, বাংলা পোশাক এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
তবে ২০২৭ সালের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে হিউস্টন, ডালাস, আরভিং এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্দিষ্ট কমিউনিটি সভা বা প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন নিশ্চিত ঘোষণা প্রকাশ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব শহরে ইতিমধ্যে বৈঠক চলছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সংগঠন ভবিষ্যতে আয়োজনের পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেটিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত হবে না। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জীবনযাত্রায় দুটি প্রবণতা লক্ষণীয়। একদিকে আবাসন ও পারিবারিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মানুষ। অন্যদিকে নতুন শহরে বসতি গড়ার পর নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক সম্পর্ক এবং দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। নিউইয়র্কের বাইরে টেক্সাসের বিভিন্ন শহর এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশিদের সামাজিক উপস্থিতি এই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। তবে স্থানান্তরের প্রকৃত কারণ, বাংলাদেশি পরিবারের সংখ্যা এবং কনস্যুলার সেবার চাহিদা সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট সরকারি তথ্য প্রয়োজন। প্রবাসে নতুন জীবন গড়ার ক্ষেত্রে শুধু বাড়িভাড়া কম হলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির সুযোগ, শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত এবং সামাজিক নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে পরিবার, বিদ্যালয় এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আগামী দিনগুলোতে টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি সমাজে এসব উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।