সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বিন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদটেক্সাসের নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সজ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরিএইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষারমৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটছে ক্রিস্টা পাইকের

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

টেক্সাসের নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে গিয়ে ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকোকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন জেডি ভ্যান্স।

টেক্সাসের নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
টেক্সাসের নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে তিনি টালারিকোকে ‘এম্পটি স্যুট’ বা যোগ্যতাহীন ও ব্যক্তিত্বহীন নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, বর্ণবৈষম্য, নারী-পুরুষের পরিচয়, রূপান্তরকামী মানুষের অধিকার এবং জ্বালানি নীতি নিয়ে একের পর এক সমালোচনা করেন ভ্যান্স।
গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার টেক্সাসের ওয়েদারফোর্ড শহরে জেআরজে কনস্ট্রাকশন এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাস থেকে সিনেট সদস্য নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে দেশটির জাতীয় রাজনীতিতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্যের শুরুতে ভ্যান্স টেক্সাসের নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই আসন ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপর কেন প্যাক্সটনের প্রশংসা করে তাঁকে সিনেটে পাঠানোর জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকোর সমালোচনা এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা।
টালারিকোকে আক্রমণ করার আগে ভ্যান্স সমাবেশে উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, তাঁর কি এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করা উচিত? উপস্থিত সমর্থকেরা তাঁকে সমালোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরপর ভ্যান্স বলেন, টালারিকোকে ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট নেতারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছেন। তাঁর অভিযোগ, টালারিকো নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ টেক্সাসবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন না।

এরপরই তিনি টালারিকোকে ‘এম্পটি স্যুট’ বলে মন্তব্য করেন। ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, টালারিকো সিনেটে নির্বাচিত হলে তিনি টেক্সাসের মানুষের স্বার্থের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের নির্দেশনা অনুসরণ করবেন। তবে এটি ভ্যান্সের রাজনৈতিক অভিযোগ ও নির্বাচনী প্রচারের বক্তব্য; টালারিকো ভবিষ্যতে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা এখনো নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়নি।
ভ্যান্সের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে টালারিকোর অতীতের কিছু মন্তব্য। তিনি অভিযোগ করেন, টালারিকো শ্বেতাঙ্গ পরিচয়, পুরুষত্ব এবং সমাজে বর্ণগত বৈষম্য নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভ্যান্স দাবি করেন, টালারিকো শ্বেতাঙ্গ পরিচয়কে নেতিবাচকভাবে দেখেন এবং এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন।
ভ্যান্স নিজের বক্তব্যে বলেন, মানুষের গায়ের রং দিয়ে কাউকে বিচার করা উচিত নয়। বরং একজন মানুষের চরিত্র ও কাজের ভিত্তিতে তাঁকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিন কিংবা শ্বেতাঙ্গ—যে পরিচয়ের মানুষই হোন না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের সমান মর্যাদা থাকা উচিত। টালারিকোর বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, বর্ণগত পরিচয় নিয়ে তাঁর বক্তব্য এই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ভ্যান্সের বক্তব্যে টালারিকোর অতীতের কিছু মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা হয়নি। ফলে ভ্যান্সের অভিযোগকে সরাসরি প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। এটি নির্বাচনী প্রচারে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী নেতার বক্তব্য ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
নারী-পুরুষের পরিচয় এবং রূপান্তরকামী মানুষের অধিকার নিয়েও টালারিকোর সমালোচনা করেন ভ্যান্স। তিনি দাবি করেন, টালারিকো এমন কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান সমর্থন করেন, যা টেক্সাসের রক্ষণশীল ভোটারদের মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না। বিশেষ করে শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তন, অভিভাবকদের অধিকার এবং নারী ক্রীড়ায় রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো সামনে আনেন তিনি।

ভ্যান্স তাঁর বক্তব্যে একটি ১১ বছর বয়সী শিশুকে লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তনে উৎসাহিত করে চিঠি পাঠানোর অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দেশটির বিচার বিভাগকে তদন্ত করতে বলা হবে। তবে ওই চিঠি কে পাঠিয়েছিল, কোন প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে জড়িত ছিল কিংবা ঘটনাটির স্বাধীন তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে সমাবেশের বক্তব্যে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেসব অভিভাবক তাঁদের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন, তাঁদের সম্পর্কে টালারিকো নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এ প্রসঙ্গে ভ্যান্স টালারিকোর বক্তব্যের একটি অংশ উদ্ধৃত করার দাবি করেন। তবে বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই না করে ওই অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
ভ্যান্সের এসব মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল টেক্সাসের রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে টালারিকোকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিরোধী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা। বিশেষ করে পরিবার, শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং নারী ক্রীড়ার বিষয়গুলো রিপাবলিকান প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

জ্বালানি নীতি নিয়েও সমাবেশে দীর্ঘ বক্তব্য দেন ভ্যান্স। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং তেল উত্তোলন সম্প্রসারণ করা হলে সাধারণ মানুষের জ্বালানি ব্যয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, কেন প্যাক্সটন দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে কাজ করেছেন। অন্যদিকে টালারিকো জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়ে এমন অবস্থান নিয়েছেন, যা ভ্যান্সের মতে জ্বালানি খরচ বাড়াতে পারে।
ভ্যান্সের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে তেল উত্তোলন ও শোধনাগার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। তিনি বলেন, টেক্সাসে আরও বেশি তেল ও গ্যাস উৎপাদন, নতুন কারখানা নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো প্রয়োজন।

তবে জ্বালানি নীতির বিষয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। ভ্যান্স তাঁর বক্তব্যে টালারিকোর জ্বালানি অবস্থানকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এই অভিযোগের পক্ষে সমাবেশে বিস্তারিত নীতিগত তথ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তুলনামূলক হিসাব উপস্থাপন করেননি। জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজার, উৎপাদন, পরিশোধন, পরিবহন ও করসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই কেবল একজন প্রার্থীর নীতিকে জ্বালানির দাম বাড়া বা কমার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সমাবেশে ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর মতে, টেক্সাসের মতো জ্বালানিসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্যে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিও উপকৃত হবে। তিনি প্যাক্সটনের নেতৃত্বে এসব উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, এই নির্বাচনে টালারিকোর প্রচারের মূল বক্তব্য ভিন্ন। তিনি ধনী ব্যক্তি ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক প্রভাব, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করা। তিনি শুধু ডেমোক্র্যাটদের নয়, রিপাবলিকান ভোটারদেরও নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।
গত ১৫ অক্টোবর টেক্সাসের সান মার্কোসে এক নির্বাচনী সমাবেশে টালারিকো নিজের প্রচারকে ধনী ও ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর প্রচারে তরুণ ভোটার এবং রাজনৈতিকভাবে দলনিরপেক্ষ মানুষের অংশগ্রহণও আলোচনায় এসেছে।

টেক্সাসের এই সিনেট নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। অঙ্গরাজ্যটিতে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি। ফলে টালারিকো জয়ী হলে সেটি শুধু একটি সিনেট আসনের পরিবর্তন হবে না, বরং টেক্সাসের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
৩৭ বছর বয়সী টালারিকো টেক্সাসের অঙ্গরাজ্য আইনসভার প্রতিনিধি। অন্যদিকে কেন প্যাক্সটন বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্যাক্সটনের রাজনৈতিক জীবনেও রয়েছে বিতর্ক। ২০২৩ সালে অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিম্নকক্ষ তাঁকে অভিশংসিত করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে। তবে পরবর্তী সময়ে অঙ্গরাজ্য সিনেটে বিচারের পর তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। এই অতীত ঘটনাকে সামনে রেখে টালারিকো প্যাক্সটনের সততা ও নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই প্রার্থীর প্রচার আরও জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একাধিকবার টেক্সাসে গিয়ে প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ের রিপাবলিকান নেতারাও এই আসন ধরে রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। অন্যদিকে টালারিকোর প্রচারেও উল্লেখযোগ্য অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টেক্সাস ট্রিবিউনের ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেট নির্বাচনী লড়াইগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষের বিজ্ঞাপন বাবদ সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
নির্বাচনের আগে ভোটার উপস্থিতি নিয়েও দুই দলের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সিবিএস টেক্সাসের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগাম ভোটে রিপাবলিকানদের অংশগ্রহণ নিয়ে দলটির নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভোটের আগের কয়েক দিনের তথ্য অনুযায়ী, আগে রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এমন আট লাখের বেশি মানুষ তখনো ভোট দেননি। একই সময়ে আগাম ভোট দেওয়া মানুষের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রাথমিক নির্বাচনের ইতিহাস থাকা ভোটারের সংখ্যা রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনের ইতিহাস থাকা ভোটারের চেয়ে বেশি ছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে এই ব্যবধান কিছুটা কমেছে।

৩১ অক্টোবর টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাক্সটন ও টালারিকোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। কয়েক মাস ধরে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে টালারিকো সামান্য এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও এই আসনকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এদিকে টালারিকোও নিজের প্রচারে প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগ তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্য, টেক্সাসের মানুষের সামনে এখন শুধু দুই দলের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার বিষয় নেই; বরং অঙ্গরাজ্যটি ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে, সেটি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাসের এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে জয় পেলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সে কারণে টেক্সাসের আসনটি দুই দলের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।


ট্যাগ: জেডি ভ্যান্সডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনটেক্সাস নির্বাচনকেন প্যাক্সটনজেমস টালারিকোমার্কিন সিনেটরিপাবলিকান দলডেমোক্র্যাট দলযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিমধ্যবর্তী নির্বাচননির্বাচনী প্রচারণা।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।