ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ২৬ হাজার সরকারি কর্মী চাকরি ছেড়েছেন
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার কর্মী চাকরি ছেড়েছেন; অধিকাংশই পদত্যাগ বা অবসরে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১৮ মাসে প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার পূর্ণকালীন সরকারি কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। এই সংখ্যা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের মোট কর্মীর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের তথ্য এবং সরকারি বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করেছে।
চাকরি ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের সবাইকে সরকার থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। তাঁদের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিজেরাই পদত্যাগ করেছেন অথবা অবসরে গেছেন। অন্যদিকে প্রায় ৩২ হাজার কর্মীকে সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় কমানো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীসংখ্যা ছোট করার উদ্যোগ নেয়। প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল সরকারি খরচ কমানো, অপ্রয়োজনীয় পদ বাদ দেওয়া এবং বিভিন্ন দপ্তরের কাজের ধরন পরিবর্তন করা।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি নিয়োগ সীমিত করা, কর্মীদের আগাম অবসরের সুযোগ দেওয়া এবং স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি কর্মী সরকারি চাকরি ছেড়েছেন। ওই এক মাসেই প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কর্মী কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি থেকে বিদায় নেন। এর পেছনে আগাম পদত্যাগ ও অবসরের জন্য দেওয়া বিশেষ সুযোগের বড় ভূমিকা ছিল।
তবে ৪ লাখ ২৬ হাজার কর্মী চলে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সরকারের মোট কর্মীসংখ্যা একই পরিমাণ কমে গেছে। কারণ এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে কিছু চাকরিচ্যুত কর্মীকে আবারও কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়োগ এবং চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার কমেছে। এটি মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্যেও কর্মীসংখ্যা কমার বিষয়টি উঠে এসেছে। দপ্তরটির ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ হিসাবে, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার কমেছে।সরকারি কর্মী কমানোর প্রভাব বিভিন্ন দপ্তরে এক রকম নয়। কিছু দপ্তরে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থ এবং পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা কমেছে।
এদিকে সরকারি কর্মী কমানোর কারণে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থা। সংস্থাটির মতে, প্রয়োজনীয় কর্মী ও অভিজ্ঞ লোকের অভাব হলে বিভিন্ন সরকারি কাজের গতি কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় কিছু দপ্তরকে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, নতুন নিয়োগ অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হতে পারে।
সরকারি কর্মী কমানোর পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, এতে সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর্মী কমানো হলে সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা ব্যাহত হতে পারে।ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে সরকারের ব্যয় কতটা কমবে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা পেতে কতটা সুবিধা বা অসুবিধার মুখে পড়বেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।