সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরিএইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষারমৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটছে ক্রিস্টা পাইকেরজর্জিয়ায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, যৌন অসদাচরণের দুই অভিযোগে তদন্ত ঘিরে চাঞ্চল্যসৌদির আগুনে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির শেষ সাতজনের মরদেহ ফিরল দেশে

এইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষার

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী।

এইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষার
এইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষার

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট গড় পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটিই কমেছে। শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট গড় অর্জন করেছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এবার সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১। ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকারীর সংখ্যা কমে যাওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ বেশি। তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সংখ্যার পাশাপাশি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্রীদের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে উত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ এবং উত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮। ফলে উত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ বেশি। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ক্ষেত্রেও উত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রের তুলনায় বেশি। এ ফলাফল নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের ধারাকে সামনে এনেছে।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এ বছর ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। এ ক্ষেত্রে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট গড় অর্জন করেছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল যুক্ত হওয়ার পর সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তবে নিবন্ধিত সব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে। এতে অংশ নিয়েছে ৯ হাজার ৩৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত বছরের তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৮৮টি। অন্যদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে ৪০টি।

ফলাফলের পরিসংখ্যানে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া প্রতিষ্ঠানও উঠে এসেছে। এ বছর ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিপরীতে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছরের তুলনায় শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকসংকট ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

এবারের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চলে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা পরে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফলাফল প্রকাশের ওয়েবসাইট এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী, ফলাফল শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বোর্ডের কার্যালয়ে সরাসরি পাওয়া যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নিজস্ব ব্যবস্থায় ফলাফল সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জানাতে পারবে।

ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়ম, ফি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, সামগ্রিক পাসের হার কমে যাওয়াকে শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরীক্ষার প্রস্তুতি, পাঠ্যক্রমের বাস্তবায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকারিতা সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ফলাফল বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা জরুরি।

এবারের ফলাফল উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার সামগ্রিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। পাসের হার কমলেও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ছাত্রীদের সাফল্য এবং বিভিন্ন বোর্ডের পার্থক্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।


ট্যাগ: এইচএসসি ফলাফলউচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাসমমান পরীক্ষাশিক্ষা বোর্ডপরীক্ষার ফল প্রকাশপাসের হারজিপিএ-৫শিক্ষার্থীশিক্ষা সংবাদবাংলাদেশ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।