যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে শুনানি ৬ নভেম্বর
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সীমিত করার সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছে চারটি উচ্চশিক্ষা সংগঠন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সীমিত হতে পারে—এমন নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা সংগঠন। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে আদালত সরকারের নতুন নির্দেশনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আবেদনের বিষয়ে যুক্তি শুনবেন।
এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি। এটি এমন একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ বা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করে এই কর্মসূচি। তবে সিপিটিতে অংশ নিতে হলে শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রমের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক থাকতে হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
বিতর্ক শুরু হয় গত আগস্টে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা বা আইসিই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দুটি বার্তা পাঠায়। সেখানে সিপিটি অনুমোদনের বিষয়ে আগের ব্যাখ্যার চেয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়। নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাক্রমের সব শিক্ষার্থীর জন্য ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক না হলে সেটির জন্য সিপিটি অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।এর ফলে এমন শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়তে পারেন, যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সেটি ডিগ্রি সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। উদাহরণ হিসেবে কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনার অংশ হিসেবে বিচারকের অধীনে কাজ শেখা, জাদুঘরে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলে নতুন ব্যাখ্যার কারণে সেই সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ অক্টোবর চারটি সংগঠন একসঙ্গে মামলা করে। সংগঠনগুলো হলো অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান ইউনিভার্সিটিজ, নাফসা, প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ ইন ম্যাসাচুসেটস। তারা যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, আইসিই এবং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করে।
মামলাকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিপিটি ব্যবস্থার ব্যাখ্যা হঠাৎ পরিবর্তন করা হয়েছে। অথচ এত বড় পরিবর্তনের আগে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ, বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, সরকারি বার্তার মাধ্যমে নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাই আদালতের কাছে তাঁরা এই পদক্ষেপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছেন। সংগঠনগুলোর দাবি, নতুন ব্যাখ্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সিপিটি অনুমোদন স্থগিত বা সীমিত করেছে। এতে কিছু শিক্ষার্থী আগে থেকে পাওয়া ইন্টার্নশিপের সুযোগও হারিয়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা কয়েক মাস আগে কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ বা কাজের সুযোগ নিশ্চিত করেছিলেন, তাঁদের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে বলে মামলাকারীরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার আদালতে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে জবাব দিয়েছে। নাফসার প্রকাশিত মামলার অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, সরকারের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল এবং সরকার ওই দিন নিজেদের বক্তব্য জমা দিয়েছে। এখন মামলাকারী সংগঠনগুলোকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ৬ নভেম্বর বিকেল ৩টায় আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারক প্রথমে দেখবেন, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের নতুন ব্যাখ্যা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন কি না। এই শুনানির পর আদালত অন্তর্বর্তীকালীন কোনো নির্দেশ দিতে পারেন। তবে শুনানির দিনই চূড়ান্ত রায় হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সিপিটি এবং পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ দেওয়া ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা অপটি এক বিষয় নয়। সিপিটি সাধারণত পড়াশোনার সময় শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, অপটি হলো পড়াশোনার আগে বা পরে নির্দিষ্ট শর্তে কাজের অনুমতি পাওয়ার আলাদা ব্যবস্থা। এই মামলাটি মূলত সিপিটি কর্মসূচির নিয়ম নিয়ে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন, পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ চাকরির প্রস্তুতির জন্য ইন্টার্নশিপের ওপর নির্ভর করেন। নতুন ব্যাখ্যা বহাল থাকলে তাঁদের কিছু প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সীমিত হতে পারে।
তবে এখনই সব বিদেশি শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ বন্ধ হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কোন শিক্ষার্থী সিপিটির জন্য যোগ্য হবেন, তা তাঁর শিক্ষাক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন এবং প্রযোজ্য অভিবাসন নিয়মের ওপর নির্ভর করে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ওপরও পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।