অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে আদালতের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া বন্ধে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দেশটির বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক ট্রিনা থম্পসন ৩০ অক্টোবর শুক্রবার এই নির্দেশ দেন। এতে বিচার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর নির্দিষ্ট ধরনের চাপ প্রয়োগ এবং ফৌজদারি মামলার ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোট দেবেন দেশটির নাগরিকেরা। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে আদালতের এই নির্দেশকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার সূত্রপাত হয় ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিচার বিভাগ বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে এমন ভোটারদের তথ্য চেয়েছিল, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সরকারের সন্দেহ রয়েছে। এসব ভোটারের মধ্যে অনেকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের কাছে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ব্যালট আলাদা করে রাখার দাবি জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের ধারণা ছিল, এই তালিকায় থাকা কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নাও হতে পারেন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
কিন্তু রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের একটি অংশ এই দাবির বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের বক্তব্য, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো ভোটারের ব্যালট আলাদা করে রাখা বা ভোট গণনা থেকে বাদ দেওয়া হলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তালিকার নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনকর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক সংগঠন এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন হয়। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ফৌজদারি মামলার ভয় দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মানতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচন পরিচালনার স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মামলাটি পর্যালোচনা করে বিচারক ট্রিনা থম্পসন বলেন, বাদীপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ড ভোটাধিকার আইনের বিধান লঙ্ঘন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এ ধরনের চাপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার শুধু কোনো ভোটারকে অযোগ্য বলে সন্দেহ করার কারণে তাঁর ব্যালট আলাদা করে রাখা, ভোট গণনা বন্ধ করা কিংবা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের চাপ দিতে পারবে না। এ ধরনের নির্দেশ না মানলে ফৌজদারি মামলা করা হবে—এমন হুমকিও দেওয়া যাবে না।
আদালত আরও বলেছে, নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনে ভোট গ্রহণ, ব্যালট প্রক্রিয়াকরণ এবং গণনার কাজ করলে শুধু কোনো ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে সরকারের সন্দেহ থাকার কারণে তাঁদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এ ছাড়া বিচার বিভাগকে নির্বাচনসংক্রান্ত এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো তল্লাশি পরোয়ানা, গ্র্যান্ড জুরি সমন বা নির্বাচনী নথি ও ব্যালট সংগ্রহের অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সে বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশ ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আগামী ১৩ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখনো চূড়ান্ত রায় নয়; মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অনিয়ম ও অযোগ্য ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই করা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে নির্বাচন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর বক্তব্য, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলেই কোনো নিবন্ধিত ভোটারের ভোট আটকে দেওয়া যায় না। প্রতিটি অভিযোগ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের অধিকার, ব্যালট গণনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাজের স্বাধীনতা এবং ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন মার্কিন সিনেটর

ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের অপমান করলেন ট্রাম্প, আবদুলকে ঘিরে নতুন আলোচনা

আবদুলকে ভোট দিলে আপনারা পাগল, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের প্রকাশ্যে বললেন ট্রাম্প






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।