যুক্তরাষ্ট্রে আজ রাতে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে, বাড়বে ঘুমের সময়
১ নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ পাবেন ঘুমের জন্য অতিরিক্ত এক ঘণ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও পরিবর্তন হচ্ছে ঘড়ির সময়। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর, রোববার দেশটির অধিকাংশ এলাকায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের পরিবর্তে স্বাভাবিক সময় চালু হবে। এতে স্থানীয় সময় অনুযায়ী মানুষ ঘুমানোর জন্য অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সময় নির্ধারণকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি জানিয়েছে, ১ নভেম্বর স্থানীয় সময় রাত ২টায় ঘড়ির কাঁটা আবার রাত ১টায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অর্থাৎ রাতের ওই এক ঘণ্টা সময় আবারও গণনা করা হবে। ফলে ওই দিন সাধারণ দিনের তুলনায় এক ঘণ্টা বেশি সময় পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তন করা হয়। বসন্তকালে দিনের আলো বেশি সময় পাওয়ার জন্য ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়। আবার শরৎকালে সেই সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে স্বাভাবিক সময় ফিরিয়ে আনা হয়। এই ব্যবস্থাকে দিবালোক সাশ্রয়ী সময় বলা হয়। চলতি বছরের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকে দেশটির অধিকাংশ এলাকায় এই বিশেষ সময় চালু ছিল। এবার ১ নভেম্বর সেই ব্যবস্থা শেষ হচ্ছে।
ঘড়ির সময় পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে স্থানীয় সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধানও এক ঘণ্টা বেড়ে যাবে। যেমন নিউইয়র্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান আগে ১০ ঘণ্টা থাকলেও পরিবর্তনের পর তা হবে ১১ ঘণ্টা। একইভাবে ওয়াশিংটন ডিসি ও অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় শহরের সময়ও বাংলাদেশের তুলনায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব এলাকায় এই নিয়ম কার্যকর হবে না। হাওয়াই অঙ্গরাজ্য এবং অ্যারিজোনার অধিকাংশ এলাকায় সাধারণত ঘড়ির সময় পরিবর্তন করা হয় না। এ ছাড়া পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলেও এই সময় পরিবর্তনের নিয়ম নেই। তবে অ্যারিজোনার নাভাহো জাতির এলাকায় নিয়মটি অনুসরণ করা হয়।
এই সময় পরিবর্তনের কারণে অফিস, স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাঁরা চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাঁদের নতুন সময়ের ব্যবধান বিবেচনায় রাখতে হবে। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযুক্ত ঘড়িতে সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময় পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে সাধারণ হাতঘড়ি ও দেয়ালঘড়ির সময় নিজে থেকে ঠিক করে নিতে হবে।
নতুন সময় অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক সময় চালু থাকবে ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত। ওই দিন আবার দিবালোক সাশ্রয়ী সময় শুরু হবে এবং ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির সময় পরিবর্তনের এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। তবে প্রতিবছর দুইবার সময় পরিবর্তন করা উচিত কি না, তা নিয়ে দেশটিতে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ স্থায়ীভাবে একই সময় চালু রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।