সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরিএইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষারমৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটছে ক্রিস্টা পাইকেরজর্জিয়ায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, যৌন অসদাচরণের দুই অভিযোগে তদন্ত ঘিরে চাঞ্চল্যসৌদির আগুনে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির শেষ সাতজনের মরদেহ ফিরল দেশে

জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে কম্বোডিয়ায় যাত্রা স্থগিত আবাসিক প্রমোদতরি, মাত্র সাত ঘণ্টার নোটিশে জাহাজ ছেড়ে অনিশ্চয়তায় দুই শতাধিক যাত্রী।

জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরি
জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরি

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবাসিক প্রমোদতরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেসের ‘ওডিসি’ জাহাজের বিশ্বভ্রমণ যাত্রা স্থগিত হওয়ায় কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে আটকে পড়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী। দীর্ঘদিন সমুদ্রপথে বসবাস ও বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে জাহাজে ওঠা এসব যাত্রীর জন্য আকস্মিক এ সিদ্ধান্ত তৈরি করেছে অনিশ্চয়তা। জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে না পারার কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কম্বোডিয়ায় তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, এত অল্প সময়ের নোটিশে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় তাঁরা আবাসন, যাতায়াত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

কম্বোডিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর থাইল্যান্ড থেকে সিহানুকভিল বন্দরে পৌঁছায় ওডিসি। জাহাজটিতে তখন ২০৩ জন যাত্রী এবং ১৫৬ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য ছিল ভিয়েতনাম। কিন্তু ২৭ অক্টোবর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিলে যাত্রীদের যাত্রা থেমে যায়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার জন্য মাত্র সাত ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই এত অল্প সময়ে নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেননি।

ভিলা ভি রেসিডেন্সেসের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ পরিচালনা আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগে প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি ব্যয় গড়ে প্রায় এক হাজার আটশ ডলার ছিল। এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে সেই ব্যয় বেড়ে ছয় হাজার থেকে আট হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এত বড় ব্যয়ের বৃদ্ধি যাত্রীদের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে পরিচালন ব্যয় ও আয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যবধান সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। 

প্রতিষ্ঠানটির মতে, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য জাহাজের গতি কমানো এবং বন্দরে বেশি সময় অবস্থানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব উদ্যোগ ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আর্থিক পুনর্গঠন ও নতুন মূলধন সংগ্রহের চেষ্টা করবে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত নয়। ফলে জাহাজটির দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা আবার শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। 

ওডিসি সাধারণ কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ নয়। দীর্ঘমেয়াদি কিংবা স্থায়ীভাবে সমুদ্রে বসবাসের ধারণাকে কেন্দ্র করে এটি পরিচালিত হচ্ছিল। যাত্রীরা চাইলে জাহাজের কেবিন ভাড়া নিতে পারতেন, আবার নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় কেবিন কিনেও বসবাসের সুযোগ ছিল। কেউ কেউ অবসরজীবন কাটানোর পরিকল্পনা নিয়ে জাহাজে উঠেছিলেন। আবার অনেকে বাড়ি, গাড়ি কিংবা ব্যবসা বিক্রি করে সমুদ্রপথে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। তাঁদের কাছে জাহাজটি ছিল শুধু ভ্রমণের বাহন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি আবাসস্থল।

২০২৪ সালের অক্টোবরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ওডিসি। পরিকল্পনা ছিল প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিশ্বভ্রমণ। বিভিন্ন দেশের চার শতাধিক বন্দরে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৫০ জন। কিন্তু যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যা ও পরিকল্পনার পরিবর্তন নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

যাত্রীদের অভিজ্ঞতাও এক রকম নয়। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানি ও অন্যান্য খরচের জন্য তাঁদের কাছে বারবার অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হয়েছে। কেউ কেউ সেবার মান কমে যাওয়া, ভ্রমণসূচি পরিবর্তন এবং যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যার কথাও বলেছেন। অন্যদিকে কিছু যাত্রী বলেছেন, এত বড় বিপর্যয়ের পরও তাঁরা তাঁদের সমুদ্রভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে অনুতপ্ত নন। তাঁদের মতে, জাহাজে কাটানো সময় তাঁদের জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায়। 

যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ক্যারল লারসন তাঁদের একজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নিজের কেবিনের জন্য প্রায় এক লাখ বিশ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। জাহাজে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা ভেঙে গেলেও তিনি অভিজ্ঞতাটিকে মূল্যবান বলে মনে করেন। অন্যদিকে কয়েকজন যাত্রী পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, জাহাজ ছাড়ার নির্দেশের পর অনেককে নিজেদের আবাসন ও পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিজেরাই করতে হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রীদের সহায়তা না করার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার ব্যবস্থা সমন্বয় এবং সাময়িক আবাসনের বিকল্প খুঁজতে কাজ করা হচ্ছে। কম্বোডিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কিছু যাত্রী ইতিমধ্যে বিমানযোগে অন্যত্র চলে গেছেন, আবার অনেকে সিহানুকভিল শহরে অবস্থান করছেন। 

জাহাজটির ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ নতুন বিনিয়োগকারী কিংবা অন্য কোনো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা পুনরায় চালুর আশা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। ৩১ অক্টোবর জাহাজটির জ্বালানি নেওয়ার পর কম্বোডিয়া ছাড়ার কথা স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রা পুনরায় শুরু করা এবং যাত্রীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্নকে স্থায়ী আবাসনের ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেছিল ওডিসি। কিন্তু জ্বালানি ব্যয়, আর্থিক চাপ এবং পরিচালনাগত সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন এখন বড় পরীক্ষার মুখে। কম্বোডিয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য আপাতত সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিরাপদ আবাসন, দেশে ফেরার ব্যবস্থা এবং তাঁদের বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া।


ট্যাগ: কম্বোডিয়াসিহানুকভিলআবাসিক প্রমোদতরিওডিসিভিলা ভি রেসিডেন্সেসযাত্রী দুর্ভোগজ্বালানি সংকটবিশ্বভ্রমণসমুদ্রভ্রমণআন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।