সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ঘিরে আলোচিত সাবেক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু, তুরাগে মিলল মরদেহ৪৪৬ মিলিয়ন ডলারের চমক! মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্থ ঢাললেন ইলন মাস্কনভেম্বর মাসেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, আগের মূল্যেই বিক্রি চলবে দেশজুড়েযুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ছয়শ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদজাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ছয় চুক্তিতে খুলছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

আবদুলকে ভোট দিলে আপনারা পাগল, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের প্রকাশ্যে বললেন ট্রাম্প

আবদুল এল-সায়েদকে সমর্থন করলে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটাররা পাগল—দক্ষিণ ক্যারোলিনার নির্বাচনী সমাবেশে এমন মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প।

কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে সমর্থন করা কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি ভোটার যদি আবদুলকে ভোট দেন, তাহলে তাঁরা পাগল। শুধু তাই নয়, বক্তব্যের পরপরই তিনি বলেন, তাঁরা এমনিতেই পাগল। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের রক হিলে একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সমাবেশটি মূলত রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হলেও একপর্যায়ে তিনি মিশিগানের সিনেট নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। সেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে আক্রমণ করার পাশাপাশি তাঁর সমর্থকদেরও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেন।

ট্রাম্প বলেন, “আপনি যদি কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি হন এবং আবদুলকে ভোট দেন, তাহলে আপনি পাগল।” এরপর তিনি আবার বলেন, “আপনারা এমনিতেই পাগল।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্দিষ্ট দুটি জনগোষ্ঠীর ভোটারদের আবদুল এল-সায়েদের সমর্থন না করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প শুধু ভোটারদের নিয়েই মন্তব্য করেননি, আবদুল এল-সায়েদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, এল-সায়েদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তাঁর বক্তব্যে কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এল-সায়েদ বারবার এই সংগঠনের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও তাঁর ব্যক্তিগতভাবে ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও এল-সায়েদের মধ্যে বিরোধ বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। রজার্সকে সমর্থন করছেন ট্রাম্প। ফলে মিশিগানের এই নির্বাচন এখন শুধু দুই প্রার্থীর লড়াই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে।

আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি আগে ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর প্রার্থিতা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনায় এসেছে। তিনি নির্বাচিত হলে দেশটির সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রিপাবলিকান শিবির এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থান, অতীতের বক্তব্য এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে তাঁর মুসলিম পরিচয় এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে অবস্থানকে নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এল-সায়েদের সমর্থকদের অভিযোগ, এসব বিষয় সামনে এনে মূল নির্বাচনী ইস্যু থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা চলছে।

ট্রাম্পের এবারের বক্তব্যকে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর ব্যবহার করা কৌশলের সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে। ওই সময়ও তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক জনগোষ্ঠীর ভোটারদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছিলেন যে, তাঁরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দিলে ভুল করবেন বা তাঁদের মাথা পরীক্ষা করা উচিত। এবারও তিনি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করলেন।

এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ মিশিগানের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি, মুসলিম, আরব-আমেরিকানসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো একটি জনগোষ্ঠীর ভোট অন্যদিকে চলে গেলে নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই নির্বাচনের শেষ সময়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মিশিগানের সিনেট আসনটি দুই দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনের ফল সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে দুই দলের জাতীয় নেতারাই নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় হয়েছেন। আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার কারণে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের ‘পাগল’ বলার ট্রাম্পের মন্তব্য নির্বাচনী প্রচারে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই বক্তব্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পআবদুলএলসায়েদযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিমিশিগাননির্বাচনমধ্যবর্তী নির্বাচন

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।