সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরিএইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষারমৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটছে ক্রিস্টা পাইকেরজর্জিয়ায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, যৌন অসদাচরণের দুই অভিযোগে তদন্ত ঘিরে চাঞ্চল্যসৌদির আগুনে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির শেষ সাতজনের মরদেহ ফিরল দেশে

চাকরির মাধ্যমে গ্রিনকার্ড পেতে নতুন নিয়ম আনার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে গ্রিনকার্ড পেতে নতুন নিয়ম আনার প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়নি, বর্তমান নিয়মই বহাল রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের আবেদনসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের আবেদনসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই।

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড পেতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। দেশটির শ্রম বিভাগ চাকরিভিত্তিক গ্রিনকার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আধুনিক করার একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাবটির হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। ফলে এটি প্রকাশের পরবর্তী ধাপে এগিয়েছে। তবে এখনো নতুন কোনো নিয়ম কার্যকর হয়নি।

এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো পিইআরএম বা স্থায়ী শ্রম সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে চাইলে সাধারণত এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের বেতন বা কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নিয়মবিষয়ক তথ্যভান্ডারে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, শ্রম বিভাগের প্রস্তাবটির নাম ‘মডার্নাইজিং দ্য লেবার মার্কেট টেস্ট অ্যান্ড ইমপ্রুভিং প্রোটেকশনস ফর ইউএস ওয়ার্কার্স ইন দ্য পিইআরএম ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রাম’। এর উদ্দেশ্য হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ও অধিকার আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত করা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়াকে বর্তমান শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

অভিবাসন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা শেষ করেছে। এখন এটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকাশিত হলে সাধারণ মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত জানানোর সুযোগ পাবে। এরপর শ্রম বিভাগ সেই মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নিয়ম তৈরির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে কীভাবে যোগ্য মার্কিন কর্মী খুঁজবে, সেই নিয়োগ বিজ্ঞাপনের নিয়ম আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই হলে তার প্রভাব বিদেশি কর্মী নিয়োগের ওপর কীভাবে পড়বে, তা আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার বিষয় রয়েছে। তৃতীয়ত, বিদেশি কর্মী নিয়োগের সময় বৈষম্য না করার নিয়ম এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণের বিষয়েও নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে এসব বিষয় প্রস্তাবের সম্ভাব্য দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ খসড়া নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোন শর্ত কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে এখনই বলা ঠিক হবে না যে বিদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিনকার্ড পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে কিংবা আবেদনকারীদের নতুন কোনো শর্ত পূরণ করতে হবে।

পিইআরএম প্রক্রিয়াটি বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির গ্রিনকার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী কাজের ভিসায় চাকরি করার পর নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে পিইআরএম প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তাই এই নিয়মে পরিবর্তন এলে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ খোঁজেন। তাঁদের জন্য বিষয়টি জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের প্রস্তাবটির অগ্রগতি নজরে রাখা উচিত। তবে শুধু এই খবরের ভিত্তিতে চাকরি পরিবর্তন, আবেদন বন্ধ রাখা কিংবা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না

হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মানেই নতুন নিয়ম অনুমোদন বা কার্যকর হওয়া নয়। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ, জনমত গ্রহণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মতো আরও কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে। তত দিন পর্যন্ত আবেদনকারী ও নিয়োগকর্তাদের বিদ্যমান নিয়ম মেনেই চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের এই প্রস্তাবের পরবর্তী অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা এবং চাকরিভিত্তিক গ্রিনকার্ডের আবেদনপ্রক্রিয়ায় ঠিক কী পরিবর্তন আসতে পারে, তা আরও পরিষ্কার হবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রগ্রিনকার্ডঅভিবাসনপ্রবাসীচাকরিরভিসা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।