সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরিএইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষারমৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটছে ক্রিস্টা পাইকেরজর্জিয়ায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, যৌন অসদাচরণের দুই অভিযোগে তদন্ত ঘিরে চাঞ্চল্যসৌদির আগুনে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির শেষ সাতজনের মরদেহ ফিরল দেশে

কাগজপত্র ঠিক না থাকলে গ্রিনকার্ড ও কাজের অনুমতির আবেদন গ্রহণ করবে না যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসন আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা না দিলে আগের মতো সংশোধনের সুযোগ নাও দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদন যাচাই।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদন যাচাই।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাগজপত্র না থাকলে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কাগজপত্র চেয়ে নোটিশ না পাঠিয়েও আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। আগে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনে প্রয়োজনীয় তথ্য বা প্রমাণের ঘাটতি থাকলে আবেদনকারীকে তা পূরণের সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু নতুন নির্দেশনার ফলে সেই সুযোগ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত থাকছে না।

২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ইউএসসিআইএস নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসন সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই নিজের যোগ্যতার প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে হবে। শুধু আবেদন জমা দিলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিও কাগজপত্রের মাধ্যমে দেখাতে হবে। নতুন নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো আবেদনকারী প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ জমা না দিলে অথবা জমা দেওয়া কাগজপত্রে তার যোগ্যতা প্রমাণিত না হলে কর্মকর্তা চাইলে আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে আগে অতিরিক্ত প্রমাণ চেয়ে নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক নয়।

আগে অনেক আবেদন যাচাইয়ের সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করত। এই নোটিশকে বলা হয় ‘রিকোয়েস্ট ফর এভিডেন্স’ বা আরএফই। অর্থাৎ, আবেদনকারীর জমা দেওয়া কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়ে চিঠি পাঠাতে পারত। আবার কিছু ক্ষেত্রে আবেদন প্রত্যাখ্যানের আগে ‘নোটিশ অব ইনটেন্ট টু ডিনাই’ বা এনওআইডি পাঠানো হতো। এর মাধ্যমে আবেদনকারীকে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের কারণ জানিয়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

নতুন নিয়মে এই দুই ধরনের নোটিশ পাঠানোর সুযোগ বন্ধ করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাগজপত্র না থাকলে কর্মকর্তারা আর সব ক্ষেত্রে আগে নোটিশ পাঠাতে বাধ্য নন। তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। ফলে আবেদনকারীদের প্রথমবারেই নির্ধারিত সব কাগজপত্র ও প্রমাণ ঠিকভাবে জমা দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব তাদেরই। কোন ধরনের আবেদনের সঙ্গে কী কী কাগজপত্র জমা দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রের নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সেই নির্দেশনা ভালোভাবে পড়া এবং প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ যুক্ত করা জরুরি।

এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদনকারীদের ওপর। এর মধ্যে চাকরির মাধ্যমে অভিবাসন, পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আবেদন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানো বা অবস্থানের ধরন পরিবর্তন এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতির মতো বিভিন্ন আবেদন থাকতে পারে। তবে কোন আবেদন কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আবেদনপ্রক্রিয়া ও তার নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী প্রতিষ্ঠানও নতুন নির্দেশনা নিয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, নতুন নিয়মের কারণে এফ-১ শিক্ষার্থী, এইচ-১বি কর্মী এবং অন্যান্য কিছু শ্রেণির আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কোনো নির্দিষ্ট ভিসার অধিকারী হলেই এই নিয়মের আওতায় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদন ও তার প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন নির্দেশনাটি ৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া আবেদনের পাশাপাশি ওই তারিখে প্রক্রিয়াধীন থাকা আবেদনেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে আলাদা আইন বা নিয়ম থাকলে সেগুলো অনুসরণ করা হবে। আশ্রয় আবেদনের মতো কিছু প্রক্রিয়ায় আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এদিকে, আবেদনকারী যদি অতিরিক্ত কাগজপত্র চেয়ে আরএফই বা এনওআইডি পান, তাহলে চিঠিতে উল্লেখ করা সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সব তথ্য জমা দেওয়া জরুরি। নতুন নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ফলে সবাইকে একই সময় দেওয়া হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথি, স্বাক্ষর, অনুবাদ এবং যোগ্যতার প্রমাণ ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বাদ পড়লে বা ভুল তথ্য দেওয়া হলে আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত আবেদন বা জটিল পরিস্থিতির ক্ষেত্রে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়মের মূল বার্তা হলো—প্রথমবার আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতার প্রমাণ ঠিকভাবে দিতে হবে। কারণ এখন সব ক্ষেত্রে ভুল বা ঘাটতি সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ পাওয়া নিশ্চিত নয়।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসনগ্রিনকার্ডইমিগ্রেশনআবেদন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।