হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোকে ‘মুর্খ’ বললেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের সমালোচক অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোকে আক্রমণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে হলিউডের করছাড় চাওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও ব্যঙ্গ করলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোকে নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের জন্য করছাড় চাওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও ব্যঙ্গ করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফ্লোরিডার ডেটোনা বিচে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প রবার্ট ডি নিরোর প্রসঙ্গ তোলেন। অভিনেতাকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ডি নিরো কি একজন মুর্খ? এরপর নিজেই তাঁকে মুর্খ বলে মন্তব্য করেন। শুধু তাই নয়, অভিনেতার ব্যক্তিত্ব ও অভিনয় নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, একসময় তিনি ডি নিরোর অভিনয় পছন্দ করতেন। কিন্তু এখন তাঁকে আর পর্দায় দেখতে ভালো লাগে না। বিশেষ করে কৌতুকধর্মী সিনেমায় ডি নিরোর অভিনয় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রবার্ট ডি নিরো দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমালোচক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করেছেন। ফলে দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিরোধ রয়েছে। ডি নিরোকে নিয়ে মন্তব্যের পর ট্রাম্প হলিউডের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের করছাড়ের বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর দাবি, হলিউডের কয়েকজন ব্যক্তি ও শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এখন তাঁর সঙ্গে বৈঠক করতে চাইছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ ও আর্থিক সুবিধা বাড়ছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন, তাঁদের কয়েকজন এখন হোয়াইট হাউসে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, তাঁরা এখন তাঁকে একজন ভালো প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রশংসা করছেন এবং বৈঠকের সুযোগ চাইছেন। এ সময় ইন্টারনেটের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ইন্টারনেটের সুবিধা হলো, কয়েকটি ক্লিক করলেই গত ২০ বছরে কে কী বলেছেন, তা খুঁজে বের করা সম্ভব। অর্থাৎ, অতীতে তাঁর সমালোচনা করা ব্যক্তিদের পুরোনো বক্তব্যও এখন তাঁর সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প যেসব হলিউড ব্যক্তিত্বের কথা বলেছেন, তাঁদের সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেননি। ফলে কারা তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বা করছাড় চেয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের একটি বড় উদ্বেগ হলো, নির্মাণকাজের একটি অংশ কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণে করছাড় ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। ফলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় পর্যায়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাণে করছাড় দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে। ট্রাম্প কংগ্রেসের প্রতি এ বিষয়ে আইন তৈরির আহ্বানও জানিয়েছেন। অভিনেতা জন ভয়েটও যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ ফিরিয়ে আনতে করছাড়ের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত সিনেমা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরির ওপর ২০ শতাংশ করছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়া আইন নাই।ফ্লোরিডার সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, হলিউডের জন্য করছাড় দেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করতে পারেন। তবে কী পরিমাণ করছাড় দেওয়া হবে, কোন প্রতিষ্ঠান সুবিধা পাবে কিংবা কবে থেকে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি তিনি।
ফলে তাঁর বক্তব্যকে নতুন কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপের অপেক্ষা করতে হবে। রবার্ট ডি নিরোকে নিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং হলিউডের করছাড় নিয়ে তাঁর মন্তব্য একই সমাবেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে হলিউডের প্রতিনিধিদের পরিচয় এবং করছাড়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—দুটিই এখনো স্পষ্ট নয়।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।