নিউইয়র্কের নির্বাচনে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয়া ভোটারদের কাছে বড় ইস্যু অভিবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়
নির্বাচনের আগে দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এসব বিষয় নির্বাচনে তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে বলে উঠে এসেছে অভিবাসী সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যম ডকুমেন্টেডের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনটিতে নিউইয়র্কের দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নির্বাচনী অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। ভোটারদের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, কর্মজীবী মানুষের আর্থিক চাপ এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযান নিয়ে উদ্বেগ।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি অংশ বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। তাঁদের অনেকের কাছে বাড়িভাড়া, যাতায়াত ব্যয়, সন্তানের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ সামলানো প্রতিদিনের বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে নির্বাচনে প্রার্থীরা এসব সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন, তা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে কয়েকজন দক্ষিণ এশীয় ভোটারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের কেউ অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবাসন, কর্মসংস্থান ও জননিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অনেক নতুন নাগরিক প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকেও নাগরিক অংশগ্রহণ এবং ভোটার সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে ৩ নভেম্বর নির্বাচনের দিন নির্ধারিত। এর আগে আগাম ভোটের সুযোগও রয়েছে। তবে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নাগরিকত্ব ও নির্বাচনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন অভিবাসীরা সাধারণত ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জন্য এবারের নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণে নিজেদের মতামত জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বাড়িভাড়া, চাকরি, শিক্ষা, অভিবাসননীতি ও জননিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে প্রার্থীদের অবস্থান যাচাই করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন কমিউনিটি সচেতন ব্যক্তিরা।
নির্বাচন ঘিরে অভিবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে এবং তাঁদের প্রধান দাবিগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে নিউইয়র্কের দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।