ব্রেকিং
নিউইয়র্কে পুলিশকে বরফ ছোড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক, মেয়র মামদানির মন্তব্যে বিতর্ক তীব্রলোহিত সাগরে হুতিদের দুই ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পের ব্যালটে বারকোডের আদেশে নিউসমের মামলা, শাকির খানের জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গেক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ আগুনের পর দমকলকর্মীদের প্রচেষ্টায় প্রিয় বিড়াল ফিরে পেল পরিবারসৌদি-ইরান আলোচনায় নতুন মোড়, ইয়েমেন সংকট সমাধানে সংলাপের প্রস্তাব তেহরানের

ট্রাম্পের ব্যালটে বারকোডের আদেশে নিউসমের মামলা, শাকির খানের জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনী জালিয়াতির মামলায় শাকির খানের দণ্ডের পর ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা ও ট্রাম্পের নতুন আদেশ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

ট্রাম্পের ব্যালটে বারকোডের আদেশে নিউসমের মামলা, শাকির খানের জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে
ট্রাম্পের ব্যালটে বারকোডের আদেশে নিউসমের মামলা, শাকির খানের জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ এবং গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, সাবেক লোডি নগর কাউন্সিল সদস্য শাকির খানের বাড়িতে ৭১ জনের নাম এবং পূরণ করা ৪১টি ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পাওয়া গিয়েছিল। এ কারণে নিউসম ট্রাম্পের ব্যালটে বারকোড ব্যবহারের আদেশের বিরোধিতা করছেন বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, শাকির খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী জালিয়াতির মামলা ও দণ্ডের ঘটনা সত্য হলেও, এই মামলার সঙ্গে নিউসমের আইনি পদক্ষেপের সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার লোডি শহরের সাবেক কাউন্সিল সদস্য শাকির খান ২০২০ সালের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধসহ একাধিক মামলায় দোষ স্বীকার না করেও বিচারিক অর্থে অভিযোগ মেনে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় এ ধরনের আবেদনকে ‘নো কনটেস্ট’ বলা হয়। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি অপরাধ স্বীকার না করলেও আদালতের দণ্ড মেনে নেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে খান মোট ৭৭টি অভিযোগে এমন আবেদন করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে নির্বাচনী জালিয়াতি, অবৈধ জুয়া, অর্থপাচার, কর ফাঁকি, বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সুবিধা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। ২০২৬ সালের মার্চে আদালত তাঁকে তিন বছরের কাউন্টি কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে এক বছর স্থগিত রাখা হয় এবং শর্তসাপেক্ষ তত্ত্বাবধানের বিধান রাখা হয়। ।

তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে খানের বাড়িতে ২০২০ সালের নির্বাচনের জন্য পূরণ করা ও সিল করা ৪১টি ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পাওয়া যায়। এ ছাড়া তাঁর বাড়ির ঠিকানায় ২৩ জনের ভোটার নিবন্ধনের নথি পাওয়া গিয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আরও ৪৭ জনের নিবন্ধনে তাঁর ব্যক্তিগত ইমেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৭০ জনের বেশি ব্যক্তির নিবন্ধনের সঙ্গে তাঁর ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্যের যোগসূত্র উঠে আসে। অন্যদিকে, কিছু প্রতিবেদনে তাঁর ঠিকানা, ফোন নম্বর অথবা ইমেইলের সঙ্গে সম্পর্কিত ৭১টি নামের কথা বলা হয়েছে। তবে এই সংখ্যার অর্থ এই নয় যে, ৭১ জনই জাল ভোট দিয়েছেন বা তাঁদের প্রত্যেকের ভোট গণনা করা হয়েছে। ভোটার নিবন্ধনের তথ্য, ব্যালটের উপস্থিতি এবং চূড়ান্তভাবে গণনা করা ভোট—এগুলো পৃথক বিষয়।

খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগগুলোর মধ্যে ভুয়া ভোটার নিবন্ধন, কাল্পনিক ব্যক্তির নামে নিবন্ধন, মনোনয়নপত্রে মিথ্যা তথ্য এবং বেআইনিভাবে ভোট দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগ ছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি লোডি নগর কাউন্সিলের একটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং মামলার কারণে তিনি পদ হারান। ২০২৪ সালে অভিযোগগুলোতে তাঁর আবেদন এবং ২০২৬ সালে দণ্ডাদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়। এই ঘটনা স্থানীয় নির্বাচনে অনিয়মের একটি বাস্তব উদাহরণ। তবে একটি নির্দিষ্ট মামলার তথ্য দিয়ে পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনব্যবস্থায় ব্যাপক জালিয়াতি হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

এবার আসা যাক ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিষয়ে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তিনি ‘নির্বাচনে নাগরিকত্ব যাচাই ও ভোটার যোগ্যতা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, এই আদেশে ফেডারেল নির্বাচনের ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই, যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরি এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কথা বলা হয়েছে। আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো ডাকযোগে ও অনুপস্থিত ভোটের ব্যালটের খামে বিশেষ পরিচিতিমূলক বারকোড ব্যবহারের জন্য নিয়ম তৈরির নির্দেশও রয়েছে। এই বারকোডের মাধ্যমে ডাক বিভাগের ব্যবস্থায় ব্যালটের চলাচল শনাক্ত ও অনুসরণ করা সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের বক্তব্য। পাশাপাশি, নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এসব ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াবে এবং ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে অনিয়ম কমাতে সহায়তা করবে। কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনে কে ভোট দিতে পারবেন এবং কীভাবে ভোট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সেই ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তৈরি করা ভোটার তালিকায় ভুল থাকলে বৈধ ভোটারদের ব্যালট পাঠানো বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ঠিক এই ক্ষমতার প্রশ্নই ট্রাম্প প্রশাসন এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে আইনি বিরোধের অন্যতম কারণ।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল আরও ২২ জন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নরের সঙ্গে মিলে ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর, এবং প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে ভোটারদের যোগ্যতা ও ডাকযোগে ভোটের নিয়মে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা সীমিত। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমও এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন। অর্থাৎ, মামলাটির ঘোষিত ভিত্তি ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা, ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সাংবিধানিক বিরোধ। শাকির খানের মামলাকে সমর্থন করে বা তাঁকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে—এমন প্রমাণ সরকারি বিবৃতি বা প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিতর্কটি আগস্টে আরও জটিল হয়। ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়া ও আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের নতুন বিধির বিরুদ্ধে আবার মামলা করে। ওই বিধি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছ থেকে যোগ্য ডাকযোগে ভোটারদের তালিকা নেওয়া এবং সেই তালিকার সঙ্গে না মেলা কিছু ব্যালট গ্রহণে বাধা দেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এতে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের হাতে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা যাচাই ও ব্যালট অনুসরণের মাধ্যমে নির্বাচনী নিরাপত্তা উন্নত করা সম্ভব।

এই আইনি বিরোধে আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জরুরি আবেদনে আগের একটি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পর নিম্ন আদালতের বিচারক ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নে থাকা বাধাগুলো তুলে নেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর ফলে প্রশাসন আপাতত আদেশটি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর সুযোগ পায়। তবে কোনো নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া মানেই আদালত নির্বাহী আদেশের প্রতিটি বিধানকে চূড়ান্তভাবে সাংবিধানিক ঘোষণা করেছে—এমন নয়। মামলার মূল আইনি প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তি এবং পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদা বিষয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে ব্যালটের নিরাপত্তা শুধু বারকোডের ওপর নির্ভর করে না। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাকযোগে ফেরত আসা ব্যালটের খামের স্বাক্ষর ভোটারের নিবন্ধন-সংক্রান্ত নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। স্বাক্ষর না মিললে পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাম খোলা বা ভোট গণনার প্রক্রিয়া আটকে রাখা হতে পারে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, পরিচয় যাচাই এবং ব্যালটের নিরাপদ সংরক্ষণও নির্বাচনী ব্যবস্থার অংশ। কোনো ব্যবস্থায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা প্রয়োজন, কিন্তু একক অপরাধের ঘটনা থেকে গোটা ব্যবস্থাকে জালিয়াতিপূর্ণ বলা তথ্যসম্মত নয়।

শাকির খানের ঘটনা তাই দুইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন ও ব্যালট ব্যবস্থার অপব্যবহার ঘটতে পারে এবং এমন অভিযোগের তদন্ত ও বিচার প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার করার নামে কেন্দ্রীয় সরকার কত দূর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে পারে, সেটিও একটি পৃথক সাংবিধানিক প্রশ্ন। একটি অপরাধের বিচার হওয়া এবং নির্বাচনের নিয়ম নিয়ে সরকারের মধ্যে মতবিরোধ থাকা পরস্পরবিরোধী বিষয় নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অপরাধের তদন্ত ও বিচার যেমন জরুরি, তেমনি ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং ক্ষমতার সাংবিধানিক সীমা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।


ট্যাগ: ক্যালিফোর্নিয়াগ্যাভিন নিউসমডোনাল্ড ট্রাম্পশাকির খাননির্বাচনী জালিয়াতিডাকযোগে ভোটভোটার অধিকারযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।