ব্রেকিং
নিউইয়র্কে পুলিশকে বরফ ছোড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক, মেয়র মামদানির মন্তব্যে বিতর্ক তীব্রলোহিত সাগরে হুতিদের দুই ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পের ব্যালটে বারকোডের আদেশে নিউসমের মামলা, শাকির খানের জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গেক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ আগুনের পর দমকলকর্মীদের প্রচেষ্টায় প্রিয় বিড়াল ফিরে পেল পরিবারসৌদি-ইরান আলোচনায় নতুন মোড়, ইয়েমেন সংকট সমাধানে সংলাপের প্রস্তাব তেহরানের

লোহিত সাগরে হুতিদের দুই ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র

লোহিত সাগরে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হুমকি মোকাবিলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

লোহিত সাগরে হুতিদের দুই ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র
লোহিত সাগরে হুতিদের দুই ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র

লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক চালকবিহীন আকাশযান ধ্বংস করার যে দাবি প্রচারিত হচ্ছে, সেটির নির্দিষ্ট সময়, স্থান এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো হালনাগাদ নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পূর্ববর্তী সরকারি বিবৃতিতে একই অঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান ধ্বংসের একাধিক ঘটনার তথ্য রয়েছে। তাই দাবিটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলার সুযোগ নেই, আবার সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত সত্য বলারও যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এ পথের সঙ্গে সুয়েজ খাল এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহনের ব্যয় এবং জাহাজ চলাচলের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে, লোহিত সাগর ও এর আশপাশে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং চালকবিহীন আকাশযান বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক নৌযানের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০২৪ সালের ১ জুনের সরকারি বিবৃতিতে দক্ষিণ লোহিত সাগরে একটি চালকবিহীন আকাশযান ধ্বংস এবং আরও দুটি আকাশযান সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। একই বিবৃতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজের দিকে ছোড়া দুটি হুতি জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের তথ্যও দেওয়া হয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানো। প্রচারিত দাবিতে আকাশপথে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী অস্ত্রের কথা বলা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের আগের সরকারি বিবৃতিগুলোর কয়েকটিতে হুতিদের জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের কথা রয়েছে। দুটি শব্দের অর্থ এক নয়। প্রথমটি সাধারণত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র বা ব্যবস্থাকে বোঝায়। দ্বিতীয়টি এমন ক্ষেপণাস্ত্র, যা জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। মূল ঘটনার সরকারি বিবৃতি ছাড়া কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা ঠিক হবে না।
২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছিল, দক্ষিণ লোহিত সাগরের দিকে তাক করা এবং উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত হুতিদের দুটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শনাক্ত করা হয়। মার্কিন বাহিনী সেগুলোকে আসন্ন হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আঘাত হানে এবং ধ্বংস করে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজকে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করা।

এ ধরনের অভিযান পরিচালনার পেছনে লোহিত সাগরে হুতিদের দীর্ঘদিনের হামলার প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গোষ্ঠীটি বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করে। হুতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে জাহাজের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ছিল, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং আসন্ন হামলার সক্ষমতা কমানো এসব অভিযানের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, হুতিরা পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে নিজেদের সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে লোহিত সাগর ও ইয়েমেন উপকূল ঘিরে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি দীর্ঘায়িত হয়েছে।
লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ হলো, এই নৌপথে বিঘ্ন ঘটলে জাহাজ চলাচলের রুট পরিবর্তন করতে হতে পারে। অনেক জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হলে যাত্রার সময় ও জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব পরিবহন খরচ, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বাজারে পণ্যের দামের ওপর পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে কতটা অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা জানতে আলাদা পরিসংখ্যান ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান প্রতিহত করার দাবি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধু এ ধরনের দাবি দিয়ে কোনো পক্ষের সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা বা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন, লক্ষ্যবস্তু, ধ্বংসের মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকা জরুরি। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বিবৃতি এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বর্তমান দাবির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, ঠিক কোন তারিখে যুক্তরাষ্ট্র দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক চালকবিহীন আকাশযান ধ্বংস করেছে, তার নির্ভরযোগ্য সমসাময়িক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে নতুন দাবির কিছু মিল থাকলেও সেগুলোকে একই ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের সরকারি বিবৃতিকে ২০২৬ সালের নতুন অভিযান হিসেবে প্রচার করা তথ্যগতভাবে বিভ্রান্তিকর হবে।

এ ছাড়া কোনো হতাহত হয়েছে কি না, বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, কিংবা মার্কিন নৌযান সরাসরি হামলার মুখে পড়েছিল কি না—এসব বিষয়ে আলোচিত দাবির সঙ্গে মেলে এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সুতরাং এসব বিষয়ে অনুমাননির্ভর বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়।


ট্যাগ: লোহিত সাগরযুক্তরাষ্ট্রহুতি গোষ্ঠীইয়েমেনক্ষেপণাস্ত্রচালকবিহীন আকাশযানসামুদ্রিক নিরাপত্তামধ্যপ্রাচ্যআন্তর্জাতিক বাণিজ্য

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।