ইলন মাস্কের অভিযোগে তোলপাড় টেক্সাস, মানসিক হাসপাতালে থাকার দাবি ঘিরে বিতর্ক
অসুস্থতার কারণে প্রচার থেকে বিরত থাকার ব্যাখ্যা ঘিরে জেমস টালারিকোকে নিয়ে নতুন বিতর্ক, তবে হাসপাতালে থাকার অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
Desk Reporter
সিএসবি নিউজ ইউএসএ
ইলন মাস্কের অভিযোগে তোলপাড় টেক্সাস, মানসিক হাসপাতালে থাকার দাবি ঘিরে বিতর্ক
৪ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর অসুস্থতার কারণে নির্বাচনী প্রচার থেকে বিরত থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থানের অভিযোগ। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন বলে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টালারিকো বেশ কয়েক দিন জনসমক্ষে উপস্থিত না থাকায় তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর নির্বাচনী শিবির জানিয়েছিল, তিনি ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে টেক্সাসের অস্টিনে বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি কথোপকথনের রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে দাবি ওঠে, তিনি নাকি ওই সময় ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছিলেন। মাস্কের নামে প্রচারিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভোটারদের জানার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য টালারিকোর নির্বাচনী শিবির গোপন করছে। তবে এই মন্তব্যের পাশাপাশি যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, সেটির পক্ষে কী ধরনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া কিংবা কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলে সেটিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীন সাংবাদিক নিক সর্টর ও রেইন আমাচার একটি কথোপকথনের রেকর্ডিং প্রকাশ করেন। তাঁদের প্রকাশিত উপাদানের ভিত্তিতে দাবি করা হয়, ওহাইওর ম্যাসন শহরে অবস্থিত লিন্ডনার সেন্টার অব হোপ নামের একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফোন করা হয়েছিল। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক নারী কর্মী নাকি টালারিকোর ওই কেন্দ্র থেকে ছাড়া পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রতিবেদনে ফোনের উত্তর দেওয়া কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ওই কর্মী যে সত্যিই টালারিকো সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়েছিলেন, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকেও তাঁর সেখানে থাকার বিষয়ে স্বাধীন নিশ্চিতকরণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে রেকর্ডিংয়ে শোনা কথার ভিত্তিতে টালারিকো সেখানে চিকিৎসা নিয়েছিলেন বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারীও এ সম্ভাবনার কথা তুলেছেন। তাই শুধু নামের মিল কিংবা ফোনালাপের কোনো অংশকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার আগে ব্যক্তির পরিচয়, তথ্যের উৎস এবং ঘটনার সময়কাল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, টালারিকোর নির্বাচনী শিবির অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শিবিরের মুখপাত্র বলেন, এটি একটি মিথ্যা দাবি এবং ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব ছড়ানোর চেষ্টা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টালারিকো গত সপ্তাহে টেক্সাসের অস্টিনে নিজের বাড়িতে থেকে ফ্লু থেকে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। অর্থাৎ অভিযোগকারীদের বক্তব্যের বিপরীতে নির্বাচনী শিবিরের স্পষ্ট অস্বীকৃতি রয়েছে।
টালারিকোর প্রচার থেকে বিরতি নেওয়ার ঘটনাটি অবশ্য নতুন নয়। টেক্সাস ট্রিবিউনের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের পর তিনি বেশ কয়েক দিন সরাসরি নির্বাচনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিস্পানিক বিজনেস কাউন্সিলের একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত না হয়ে দূর থেকে যুক্ত হন। সেদিন তিনি জানান, তাঁর শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছিল এবং আগের রাতে ডালাসের একটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে ফ্লু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। টালারিকোর নির্বাচনী শিবিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে তিনি সরাসরি জনসমাগমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। সংক্রামক অসুস্থতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তবে তাঁর চিকিৎসার সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ্যে নেই। এই তথ্যের অনুপস্থিতি থেকে অন্য কোনো রোগ বা চিকিৎসার কথা নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া যায় না।
৯ অক্টোবর শুক্রবার টালারিকো আবার জনসমক্ষে উপস্থিত হন। টেক্সাস ট্রিবিউন ও সিবিএস টেক্সাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অস্টিনের অস্টিন সিটি লিমিটস সংগীত উৎসবের প্রাঙ্গণে যান এবং সেখানে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। এটি ছিল কয়েক দিন বিরতির পর তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রকাশ্য উপস্থিতি। তাঁর নির্বাচনী শিবিরের একজন মুখপাত্রও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতির কথা জানান। এই উপস্থিতি থেকে বোঝা যায়, তিনি আবার জনসমক্ষে ফিরেছেন। কিন্তু এর মাধ্যমে তাঁর অসুস্থতার সম্পূর্ণ কারণ বা চিকিৎসার বিস্তারিত প্রমাণিত হয় না। একইভাবে, কয়েক দিন জনসমক্ষে না থাকার ঘটনাও কোনো মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি থাকার প্রমাণ নয়। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন নির্বাচনী প্রচার ও ভোটারদের মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টালারিকো ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনও তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। টালারিকোর অনুপস্থিতি নিয়ে এর আগে রিপাবলিকান শিবিরের বিভিন্ন ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলে টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মাস্কের মন্তব্য এবং কথোপকথনের রেকর্ডিং নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগ এবং যাচাই করা তথ্য এই তিনটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক হবে না। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত ভাষায় নেতিবাচক দাবি প্রচার করলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।