ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির আঙিনায় ঘুমন্ত অভিবাসন কর্মকর্তা, বৃদ্ধের গুলিতে আহত হয়ে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির আঙিনায় ঘুমিয়ে থাকা এক অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বৃদ্ধ ও তাঁর মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন।

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির আঙিনায় ঘুমন্ত অভিবাসন কর্মকর্তা, বৃদ্ধের গুলিতে আহত হয়ে গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির আঙিনায় ঘুমন্ত অভিবাসন কর্মকর্তা, বৃদ্ধের গুলিতে আহত হয়ে গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরে এক অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর মেয়েকে শারীরিকভাবে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে যখন ওই কর্মকর্তা একটি বাড়ির সামনের ঘাসে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাড়ির বাসিন্দারা তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ঘটনার সব দিক এখনো তদন্তাধীন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহত কর্মকর্তার নাম ডেভিড গনজালেজ। তাঁর বয়স ৩২ বছর এবং তিনি টেক্সাসের বাসিন্দা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা। ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না এবং একাই ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাত পেরিয়ে ভোররাতের দিকে। ফ্রেসনো পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এক নারী বাড়ি ফিরে নিজের বাড়ির সামনের আঙিনায় গনজালেজকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। এরপর তিনি বাড়িতে থাকা তাঁর ৭২ বছর বয়সী বাবাকে বিষয়টি জানান। বৃদ্ধ ব্যক্তি বাইরে এসে ওই কর্মকর্তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।

পুলিশের প্রাথমিক বিবরণে বলা হয়েছে, ঘুম থেকে জেগে গনজালেজকে উত্তেজিত ও নেশাগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছিল। এরপর তিনি ওই বৃদ্ধকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বৃদ্ধের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। বাবাকে রক্ষা করতে মেয়ে এগিয়ে এলে তাঁকেও আক্রমণ করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী মাটিতে পড়ে যান।

নিজের ও মেয়ের শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বৃদ্ধ ব্যক্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন। এরপর তিনি একটি গুলি ছোড়েন, যা গনজালেজের শরীরের মধ্যভাগে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি আহত হন। পুলিশ এখনো ঘটনার পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করছে।

ঘটনার পর ওই নারীর প্রেমিক, যিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং তখন দায়িত্বে ছিলেন না, ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি গনজালেজকে হাতকড়া পরিয়ে আটকে রাখেন। পরে গুলির খবর পেয়ে ফ্রেসনো পুলিশের সদস্যরা সেখানে যান। তাঁদের পৌঁছানোর সময় গনজালেজ হাতকড়া পরা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ছিলেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত কর্মকর্তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছিল। তবে সর্বশেষ চিকিৎসাগত অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বা তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন এমন কোনো দাবি নিশ্চিত তথ্য ছাড়া করা সমীচীন নয়।

ফ্রেসনো পুলিশ জানিয়েছে, গনজালেজের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক আক্রমণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে এমন আক্রমণও রয়েছে, যার ফলে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে অভিযোগ আনা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে।

এ ঘটনায় গুলি চালানো ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি নিজের ও মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন। তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র বৈধভাবে তাঁর কাছে ছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে তদন্তের ফল অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্তই পরিবর্তিত হতে পারে না।

পুলিশের কাছে এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয় গনজালেজ কেন ওই বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না এবং একাই সেখানে ছিলেন। তাঁর সেখানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যাঞ্চলে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ এ ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং চলমান অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ ঘটনাকে কোনো বৃহত্তর সরকারি নীতি বা অভিবাসনবিরোধী সংঘাতের সরাসরি ফল হিসেবে দেখানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন ফেডারেল কর্মকর্তা হলেও, দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত স্থানীয় পুলিশ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাও নিজস্ব প্রশাসনিক তদন্ত করতে পারে। ফৌজদারি তদন্ত এবং চাকরিসংক্রান্ত তদন্ত আলাদা প্রক্রিয়া; একটির ফল অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু দুটিকে একই বিষয় হিসেবে দেখা যায় না।

ফ্রেসনোর ঘটনাটি একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ, আত্মরক্ষার দাবি এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গুলি চালানো বৃদ্ধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযোগ আনা হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়া এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের আগে কোনো পক্ষকে চূড়ান্তভাবে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করা উচিত নয়।

ট্যাগ: দেশযুক্তরাষ্ট্রক্যালিফোর্নিয়াফ্রেসন

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…