ব্রেকিং
নিউইয়র্কে পুলিশকে বরফ ছোড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক, মেয়র মামদানির মন্তব্যে বিতর্ক তীব্রলোহিত সাগরে হুতিদের দুই ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পের ব্যালটে বারকোডের আদেশে নিউসমের মামলা, শাকির খানের জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গেক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ আগুনের পর দমকলকর্মীদের প্রচেষ্টায় প্রিয় বিড়াল ফিরে পেল পরিবারসৌদি-ইরান আলোচনায় নতুন মোড়, ইয়েমেন সংকট সমাধানে সংলাপের প্রস্তাব তেহরানের

নিউইয়র্কে পুলিশকে বরফ ছোড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক, মেয়র মামদানির মন্তব্যে বিতর্ক তীব্র

নিউইয়র্কে তুষারযুদ্ধের সময় পুলিশকে বরফ ছোড়ার অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী গুসমান কুলিবালিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে গুরুতর অভিযোগ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

নিউইয়র্কে পুলিশকে বরফ ছোড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক, মেয়র মামদানির মন্তব্যে বিতর্ক তীব্র
নিউইয়র্কে পুলিশকে বরফ ছোড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক, মেয়র মামদানির মন্তব্যে বিতর্ক তীব্র

নিউইয়র্কে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বরফ ও শক্ত তুষার ছোড়ার ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম গুসমান কুলিবালি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে সংঘটিত এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া তুষারযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করায় পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন ও মেয়রের সমালোচকেরা তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তবে গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, আদালতের কার্যক্রম এবং মেয়রের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যকে সম্পূর্ণ সত্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক তুষারপাতের পর নিউইয়র্কের ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজনের প্রচার ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে বড় ধরনের তুষারযুদ্ধ শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের দিকে তুষার ছুড়ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পর কয়েকজন অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের দিকেও তুষার ও বরফ ছুড়তে থাকেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাটির ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বারবার তুষার ছুড়তে দেখা যায়। কয়েকজনকে পুলিশ সদস্যদের কাছাকাছি গিয়ে তুষার ছুড়তেও দেখা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনের ধাক্কাধাক্কির দৃশ্যও সামনে আসে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিযোগ পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের লক্ষ্য করে তুষার ও বরফ ছোড়া হয়। পরে তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পুলিশের বক্তব্য, ঘটনাটি নিছক আনন্দের তুষারযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং কিছু অংশগ্রহণকারীর আচরণ পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

তবে ঘটনাটির সব অংশগ্রহণকারী একই ধরনের আচরণ করেছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বড় জমায়েতে অনেকেই সাধারণ তুষারযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, পুলিশকে লক্ষ্য করে তুষার ছোড়ার অভিযোগে কয়েকজনকে শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। ফলে পুরো ঘটনাকে এক কথায় নিরীহ আনন্দ অথবা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার আগে প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গ্রেপ্তার হওয়া কুলিবালি এই ঘটনার অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর। ফলে মেয়রের বক্তব্যে অংশগ্রহণকারীদের শিশু বা কিশোর হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নেতারা বলেন, একজন ২৭ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ভূমিকা বিবেচনায় ঘটনাটিকে কেবল শিশুদের খেলা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। মামদানি ঘটনাটিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি শিশু—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। তিনি ভিডিও দেখে ঘটনাটিকে এমন একটি তুষারযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, ওই পরিস্থিতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা প্রয়োজন কি না। অন্যদিকে, পুলিশ বিভাগ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছিল।

অতএব, মেয়র ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেছেন—এমন দাবি প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। কুলিবালির বয়স ২৭ বছর হওয়া তাঁর বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, কিন্তু শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে মিথ্যাবাদী ঘোষণা করা নিরপেক্ষ তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি নয়। বরং তাঁর বক্তব্য, পুলিশের বিবৃতি এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য পাশাপাশি বিচার করাই যুক্তিসংগত।

কুলিবালির বিরুদ্ধে প্রথম দিকে পুলিশ সদস্যকে আক্রমণের গুরুতর অভিযোগসহ একাধিক অভিযোগ আনার কথা প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সরকারি প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের আঘাতের সঙ্গে কুলিবালির কাজের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যকে আঘাত করার গুরুতর অভিযোগটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।

আদালতে কুলিবালি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রাথমিক শুনানির পর বিচারক তাঁকে তত্ত্বাবধানের শর্তে মুক্তি দেন। অর্থাৎ, গ্রেপ্তার হওয়া মানেই তিনি সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণের বিষয়টি আলাদা। তাই তাঁকে নিশ্চিতভাবে পুলিশ সদস্যদের আহত করার অপরাধে দোষী বলা আইনগতভাবে যথাযথ হবে না।
ঘটনাটি নিউইয়র্কের মেয়র ও পুলিশ বিভাগের নেতৃত্বের মধ্যকার মতপার্থক্যও সামনে নিয়ে আসে। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নেতারাও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাকে সাধারণ মজা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
অন্যদিকে, মামদানি বলেন, পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন হলেও তিনি যে ভিডিও দেখেছেন, তাতে ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া তুষারযুদ্ধ বলেই মনে হয়েছে। তাঁর অবস্থান ছিল, প্রতিটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য ফৌজদারি অভিযোগ প্রয়োজন কি না, তা প্রমাণ ও ঘটনার প্রকৃতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা উচিত। তবে তাঁর এই বক্তব্য পুলিশ সংগঠনের নেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে ঘটনাটি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি নগর প্রশাসনের নীতি, পুলিশের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েও বিতর্ক তৈরি করে।
এ ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কুলিবালির আগের গ্রেপ্তারের তথ্য। পুলিশ জানিয়েছিল, তুষারযুদ্ধের ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে গণপরিবহন ব্যবস্থায় ডাকাতির চেষ্টা-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে আগের কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নতুন অভিযোগেও দোষী এমন নয়। আগের অভিযোগের তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে, কিন্তু বর্তমান মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সেটিকে বিকল্প প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে কুলিবালিকে পশ্চিম আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বংশপরিচয় বা জাতিগত পরিচয় এই ঘটনার অপরাধমূলক দায় নির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক নয়। তদন্তে তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা, ভিডিওচিত্র, সাক্ষ্য এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, পুলিশের প্রতি সমর্থন জানানো কিংবা মেয়রের সমালোচনা করার রাজনৈতিক আহ্বানও কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না।


ট্যাগ: নিউইয়র্কজোহরান মামদানিগুসমান কুলিবালিপুলিশতুষারযুদ্ধগ্রেপ্তারআদালতযুক্তরাষ্ট্র

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।