পেনসিলভানিয়ার এরি শহরে বাড়িতে গুলিতে নিহত আটজন, আত্মহত্যা করলেন সন্দেহভাজন বন্দুকধারী নিজেও
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার এরি শহরে বাড়িতে বন্দুকধারীর হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে একটি বাড়িতে বন্দুকধারীর গুলিতে আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও মারা গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেলে আবাসিক এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার, ১০ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। ঘটনাটি শহরজুড়ে শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স ছিল ৪৫ বছর। নিহত আটজনের মধ্যে সাতজন তাঁর পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং অপর একজন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা নারীর পরিচিত ব্যক্তি। তবে নিহতদের সবার নাম ও পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। স্বজনদের অবহিত করা এবং তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য পরে প্রকাশ করা হতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে এরি শহরের পেরি স্ট্রিটের একটি আবাসিক বাড়িতে। স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার কাছাকাছি গোলাগুলির খবর পাওয়ার পর পুলিশকে সতর্ক করা হয়। গুলির শব্দ শনাক্ত করার একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকেত পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংকেত পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বাড়ির বাইরে দুই নারীর মরদেহ দেখতে পায়। পরে বাড়ির ভেতরে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে শিশু, এক বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু, দুই নারী এবং দুই তরুণ ছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তির মরদেহও বাড়ির ভেতরে পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজের গুলিতে মারা গেছেন।
পুলিশের প্রধান রিক লোরাহ জানান, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা তিনি খুব কমই দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। তদন্তকারীরা বাড়ির ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পরীক্ষা করছেন।
তদন্তে সংগৃহীত ভিডিও ও শব্দসংক্রান্ত প্রমাণে দেখা গেছে, বাড়িতে গুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর দুই নারী সেখানে পৌঁছান। তাঁরা উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাড়ির দরজায় আঘাত করছিলেন। পরে বন্দুকধারী বাইরে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে পুলিশের প্রাথমিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি আবার বাড়ির ভেতরে চলে যান। তবে ওই দুই নারী কেন সেখানে এসেছিলেন এবং বাড়ির ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা পুরোপুরি জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ পৌঁছানোর পর নতুন করে কোনো গুলি চালানো হয়নি। অভিযান চলাকালে যে শব্দ শুনে কেউ কেউ আবার গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করেছিলেন, সেগুলো ছিল পুলিশের বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত বিস্ফোরকধর্মী শব্দসৃষ্টিকারী সরঞ্জামের আওয়াজ। কর্তৃপক্ষ এই ব্যাখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধনের চেষ্টা করেছে।
এ ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ প্রধান এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। তদন্তকারীরা নিহত নারীদের মুঠোফোনসহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করছেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলছেন। এসব তথ্যের মাধ্যমে ঘটনার আগে বাড়িতে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং হামলার কারণ কী হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাচাই না করা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দিতে। এ ধরনের ঘটনার পর ভুল নাম, নিহতের সংখ্যা কিংবা হামলার কারণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ সম্পর্কে অনুমাননির্ভর বক্তব্য না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের সহিংসতা এবং পারিবারিক পরিসরে প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকি নিয়ে আবারও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে এ ঘটনার কারণকে কোনো নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করার মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের ফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
এরি শহরের এই গুলির ঘটনায় আটজন নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুর ফলে একটি পরিবার ও পুরো সম্প্রদায় গভীর সংকটে পড়েছে। নিহতদের মধ্যে অল্পবয়সী দুই শিশুর উপস্থিতি ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে।




