ব্রেকিং
রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, পাকিস্তানি নাগরিক নিহত, আহত ১১ জনইলন মাস্কের অভিযোগে তোলপাড় টেক্সাস, মানসিক হাসপাতালে থাকার দাবি ঘিরে বিতর্কনিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বাড়বে সাইবার হামলা, আগামী বছর ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা বিল গেটসেরভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল ভারত, আটকেও পিছু হটছে না ‘তেলাপোকা’ তরুণদের আন্দোলনরুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল ভারত, আটকেও পিছু হটছে না ‘তেলাপোকা’ তরুণদের আন্দোলন

ভোটার তালিকা থেকে কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং ধরপাকড় ঘিরে ভারতে তরুণদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল ভারত, আটকেও পিছু হটছে না ‘তেলাপোকা’ তরুণদের আন্দোলন
ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল ভারত, আটকেও পিছু হটছে না ‘তেলাপোকা’ তরুণদের আন্দোলন

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তরুণদের আন্দোলন এখন দেশটির রাজনীতি, নির্বাচনব্যবস্থা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত তরুণদের সংগঠন এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঘোষণা দিয়েছে, ব্যাপক ধরপাকড় ও নেতাদের আটক করেও তাদের আন্দোলন থামানো যাবে না। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটকের পরও আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার এই অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। 

কিন্তু এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে একাধিক ঘটনা। শিক্ষাক্ষেত্রে পরীক্ষার অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে হতাশা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং সর্বশেষ ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিতর্ক—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া একটি উদ্যোগ কীভাবে জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হলো, তা বুঝতে হলে এর পেছনের ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখা জরুরি।

এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল চলতি বছরের মে মাসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের মধ্য দিয়ে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। শুরুতে এটি ছিল তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি অভিনব উদ্যোগ। পরে শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনটি রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির নাম রাখা হয় ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’। নামটি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে অপমানকে প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করার চেষ্টা। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ৬ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেকার তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই পরিচয় জনপ্রিয়তা পায়। 

ভারতের তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের পেছনে রয়েছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। দেশটির বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফল প্রকাশে ভুল, মূল্যায়ন নিয়ে অভিযোগ কিংবা পরীক্ষার আয়োজন ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেকের কাছে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পর পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং তাদের পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের প্রতি অবিচার।

এই পরিস্থিতিতে তেলাপোকা জনতা পার্টি শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে সরব হয়। গত জুনে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সংগঠনটির প্রথম বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছিল এই প্রতিবাদের মূল বিষয়। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রম যথাযথ মূল্যায়ন পাবে না। 

জুলাই মাসে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০ জুলাই সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২৩ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করে। সংস্থাটি প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলে। ওই সংঘর্ষে শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। তবে পুলিশের বক্তব্য ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; তাই সংঘর্ষের প্রতিটি ঘটনার দায় নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

জুলাইয়ের আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এই ঘটনাকে সংগঠনটির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। কারণ, তরুণদের একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সামনে আনতে পেরেছিল। এর ফলে সংগঠনটির প্রতি শিক্ষার্থী, তরুণ কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আগ্রহ বাড়ে। তবে মন্ত্রীর পদত্যাগের পেছনে আন্দোলনের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণের ভূমিকা কতটা ছিল, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। 

এরপর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা। নতুন বিতর্কের মূল বিষয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তি, একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটার এবং স্থানান্তরিত বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমন ব্যক্তিদের নাম যাচাই করে তালিকা হালনাগাদ করা। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংশোধনের পদ্ধতিতে ত্রুটি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। এতে প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের উপাত্ত উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশজুড়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ব্যক্তিকে মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখকে অন্যত্র চলে যাওয়া, ১ কোটি ব্যক্তিকে একাধিকবার তালিকাভুক্ত এবং প্রায় ৩ কোটি ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংখ্যা নির্বাচন কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত; এগুলো থেকে সরাসরি প্রমাণ হয় না যে সব নাম বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিষয়টি যাচাইয়ের নির্ভুলতা এবং প্রকৃত ভোটারদের অধিকার রক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। 

বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, এই সংশোধনপ্রক্রিয়ায় দরিদ্র মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি নেই কিংবা যাঁরা স্থান পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের পক্ষে নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, এর ফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারে। তবে এই অভিযোগ এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়; ভোটার তালিকার প্রতিটি সংশোধন ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো সর্বজনস্বীকৃত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

নির্বাচন কমিশন এবং ক্ষমতাসীন দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈতভাবে নিবন্ধিত কিংবা শনাক্ত করা যায়নি এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কমিশন আরও বলেছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পেতে পারেন। ভারতের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের ২৫ জুলাই প্রকাশিত বিবৃতিতেও বলা হয়, সংশোধনপ্রক্রিয়ায় নোটিশ, যাচাই, দাবি-আপত্তি এবং আপিলের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দুটি প্রশ্ন—প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত কি না এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া বাস্তবে সব যোগ্য ভোটারের অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করছে কি না। 

বিতর্কটি আরও জোরালো হয় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের কথা প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধনপদ্ধতি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। এরপর বিরোধী দল ও তরুণদের সংগঠন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। তবে কমিশন জানায়, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং তাদের সিদ্ধান্ত আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে তেলাপোকা জনতা পার্টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে একজন যোগ্য নাগরিকও নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। আন্দোলনকারীদের কাছে এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন নয়; বরং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়।

অক্টোবরের শুরুতে নয়াদিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। ২ অক্টোবরের বিক্ষোভেও পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। এরপর ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশের ডাক দেওয়া হলে রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়। যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশের পথ বন্ধ করা হয়, বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং বহু পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি এলাকায় মুঠোফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়। কিছু গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়ে। 

১০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়। তাঁদের পাশাপাশি ছাত্রনেতা নেহা বোরাসহ অন্যান্য বিক্ষোভকারী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের আটক করার খবর প্রকাশিত হয়। সংগঠনটির দাবি, দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। সংগঠনটির দেওয়া সংখ্যা এবং প্রশাসনের নিশ্চিত করা হিসাব এক নয়; তাই সব দাবিকে যাচাই করা সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। 

১১ অক্টোবর পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আটকসংক্রান্ত পদক্ষেপকে অবৈধ বলে উল্লেখ করার পর বহু বিক্ষোভকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দীপকে ও তাঁর দুই সহযোগীও মুক্তি পান। তবে তাঁদের মুক্তির সঙ্গে এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গ না করার শর্ত যুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক হওয়া সাংবাদিকদেরও অনেকে মুক্তি পান। এই ঘটনায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতার সীমা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। 

মুক্তির পর আন্দোলনের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, তাঁরা পিছু হটবেন না। তাঁদের বক্তব্য, আটক বা ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বন্ধ করা যাবে না। ১১ অক্টোবরও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট প্রতিবাদ অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া যায়। তবে ভবিষ্যতে আন্দোলন কত বড় হবে, সরকার কী পদক্ষেপ নেবে এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। 

এই আন্দোলনকে শুধু একটি সংগঠনের পদত্যাগের দাবি হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর তাৎপর্য বোঝা কঠিন। শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের প্রতিবাদ থেকে শুরু হয়ে আন্দোলনটি এখন ভোটাধিকার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের একটি অংশ মনে করছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আস্থা হারালে শুধু আনুষ্ঠানিক নিয়ম মেনে চলার দাবি যথেষ্ট নয়; বাস্তবেও স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, যাচাই ছাড়া অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয় এবং ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখাও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনরুদ্ধারের কার্যকর ব্যবস্থা এবং আটক ও বলপ্রয়োগের ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ পর্যালোচনা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে; আবার প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা।

ট্যাগ: ভারততেলাপোকা আন্দোলনতরুণদের বিক্ষোভছাত্র আন্দোলনভোটার তালিকানির্বাচন কমিশন

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।