মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সতর্ক করে বলেছেন, নিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আগামী বছর বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, উন্নত প্রযুক্তি যখন অসৎ ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের হাতে পড়ছে, তখন ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, আর্থিক প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা অচল করে দেওয়ার মতো ঘটনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। প্রযুক্তির নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল করে ব্যবহার করার সুযোগ থাকলে বিপদের মাত্রা আরও বাড়বে বলেও তিনি মনে করেন।
১১ অক্টোবর রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, আগামী এক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে যেসব নেতিবাচক ঘটনা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে সামনে আসতে পারে, তার মধ্যে সাইবার হামলা অন্যতম। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—বর্তমান সময়ে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া নয়; বরং মানুষ কীভাবে এই প্রযুক্তিকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। গেটসের মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। কিন্তু এসব সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়া বা নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ থাকলে অসৎ ব্যক্তিরা প্রযুক্তির শক্তিকে অপরাধের কাজে লাগাতে পারে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, অপরাধমূলক উদ্দেশ্য এবং দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয় আগামী দিনে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সাইবার অপরাধ কীভাবে আরও বিপজ্জনক হতে পারে, তা বুঝতে বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর মানুষের নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। ব্যাংকিং, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগব্যবস্থার বড় অংশ এখন কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ ঘটলে শুধু ব্যক্তিগত তথ্যই ঝুঁকিতে পড়ে না, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাও ব্যাহত হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতারকেরা আরও বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া বার্তা তৈরি করতে পারে। পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের কাছে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানো সহজ হতে পারে। আগে যেসব প্রতারণামূলক বার্তায় বানান ভুল, অস্বাভাবিক ভাষা কিংবা সন্দেহজনক বাক্য থাকত, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো আরও স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকল বার্তার পার্থক্য শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, কণ্ঠস্বর নকল করার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত কারও কণ্ঠে ফোন করে অর্থ চাওয়া কিংবা জরুরি নির্দেশ দেওয়ার মতো প্রতারণার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে এসব সম্ভাবনার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তির বৈধ ব্যবহার এবং অপরাধমূলক ব্যবহারকে আলাদা করে দেখা জরুরি। গেটসের সতর্কতার মূল বিষয় হলো, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে শক্তিশালী প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ রেখে দিলে অপরাধীরা সুবিধা পেতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। মানুষের নাম, পরিচয়পত্রের তথ্য, আর্থিক বিবরণ, পাসওয়ার্ড কিংবা প্রতিষ্ঠানের গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসব অপরাধের প্রস্তুতি দ্রুত করতে, লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য বিশ্লেষণ করতে এবং প্রতারণার বার্তা তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে কোনো হামলা সফল হবে কি না, তা নির্ভর করে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, লক্ষ্যবস্তুর দুর্বলতা এবং অপরাধীদের সক্ষমতার ওপর।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও বিষয়টি উদ্বেগজনক। কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে তথ্য আটকে দেওয়া, সেবা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি গ্রাহকদের তথ্যও বিপদে পড়তে পারে। গেটস সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, কাউকে ক্ষতির হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা কিংবা কোনো কিছুতে বিঘ্ন ঘটিয়ে আর্থিক বাজারে প্রভাব তৈরির মতো অপরাধমূলক উদ্দেশ্যও প্রযুক্তির অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে তাঁর উদ্বেগ শুধু সাইবার অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার জৈব সন্ত্রাসের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপজ্জনক জৈব উপাদান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কিংবা ক্ষতিকর গবেষণায় সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার, ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই, ক্ষতিকর নির্দেশ শনাক্তকরণ এবং গবেষণাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো বিপর্যয় ঘটবেই, এমন দাবি করার ভিত্তি নেই; গেটস মূলত সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
গেটস মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানবসমাজের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বাধীন তদারকি এবং কার্যকর নিয়ম থাকা দরকার। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা যাচাই করবে—এমন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ, দ্রুত প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
এ কারণে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গবেষক এবং প্রযুক্তি নির্মাতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই, গুরুতর ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ এবং অপরাধমূলক ব্যবহার শনাক্ত করার পদ্ধতি গড়ে তোলা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নিয়ম এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে ক্ষতিকর ব্যবহার রোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও গবেষণায় প্রযুক্তির ইতিবাচক সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত না হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গেটসের সাম্প্রতিক সতর্কতার সঙ্গে তাঁর আগের বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনপ্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অংশগ্রহণের পক্ষে কথা বলেন। তিনি তখনও বলেন, শুধু প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। তাঁর মতে, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রযুক্তির ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়া দরকার।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও তুলে ধরেছেন গেটস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন নিজে থেকেই মানুষের নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করতে পারে কি না, সেটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার ঝুঁকি ইতিমধ্যেই সামনে রয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কতটা স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠবে, শুধু সেই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করলে চলবে না; বর্তমানে যেসব মানুষ ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তাদের ঠেকানোর ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিরাপত্তার কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ যথাসম্ভব সীমিত করতে হবে। সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে তদন্তে সহায়তা করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির দুর্বলতা শনাক্ত হলে দ্রুত সংশোধন, স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ব্যবহারকারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া দরকার। এসব পদক্ষেপ ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও ক্ষতির সম্ভাবনা কমাতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকা জরুরি। অপরিচিত বার্তার মাধ্যমে পাঠানো সংযোগে প্রবেশ করা, যাচাই না করে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া কিংবা ফোনে পরিচিত কারও কণ্ঠ শুনেই অর্থ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অর্থ লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হলে পরিচিত ও স্বাধীন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করা ভালো। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে আলাদা শক্তিশালী গোপন সংকেত এবং একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা ব্যবহার করলে নিরাপত্তা বাড়ে। সন্দেহজনক বার্তা পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখাও কার্যকর প্রতিরোধের অংশ। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল বিপদের উৎস হিসেবে দেখার পক্ষপাতী নন গেটস। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এ প্রযুক্তি রোগ শনাক্তকরণ, শিক্ষা, গবেষণা এবং বিভিন্ন জনসেবার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। একই প্রযুক্তি সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতেও কাজে লাগানো সম্ভব। সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা, বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা এবং আক্রমণের লক্ষণ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো কাজে নিরাপত্তাকর্মীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিতে পারেন। ফলে প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোর পাশাপাশি নিরাপদ ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। গেটসের সতর্কবার্তার মূল তাৎপর্য হলো, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জবাবদিহিও এগিয়ে নিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়; বরং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার শনাক্ত করা, অপরাধীদের সুযোগ কমানো এবং ক্ষতিকর ঘটনার জন্য দায় নির্ধারণের কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। আগামী বছরে সাইবার হামলা কতটা বাড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে অপরাধমূলক অপব্যবহারের সম্ভাবনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে গেটসের বক্তব্য স্পষ্ট। বিশ্বজুড়ে সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সময়মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, কার্যকর আইন, স্বচ্ছ তদারকি, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া গেলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব। তাই বিল গেটসের সতর্কবার্তাকে নিশ্চিত বিপর্যয়ের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান হিসেবে দেখা যুক্তিসংগত।