ঢাকা কাস্টমসে সিএন্ডএফ এজেন্টদের অভিযোগ: রাজস্ব আদায়ে বাধা, রাজনৈতিক প্রভাব ও হয়রানি
ঢাকা কাস্টমসে রাজনৈতিক প্রভাব, হয়রানি ও ফাইল জটের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রাজস্ব আদায় এবং বাড়ছে আমদানি ব্যয়।
ঢাকা কাস্টমস হাউসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্টরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব, হয়রানি ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, আর সরকার হারাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব।
সিএন্ডএফ এজেন্টদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেক সময় ফাইল আটকে রাখা হয়। শুল্কায়ন, পরীক্ষণ ও ছাড়পত্রের প্রতিটি ধাপে অহেতুক বিলম্ব করা হয়। এতে বন্দরে পণ্য আটকে থাকে, ডেমারেজ ও অতিরিক্ত খরচ বাড়ে, শেষ পর্যন্ত যার বোঝা পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মের বাইরে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যাদের প্রভাব আছে, তাদের ফাইল দ্রুত ছাড় পায়, আর সাধারণ সিএন্ডএফ এজেন্টদের ফাইল দিনের পর দিন ঘুরতে থাকে। এতে একটি বৈষম্যমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে মেধা ও সততার চেয়ে পরিচয় বড় হয়ে উঠছে।
তাদের দাবি, কাস্টমস একটি সম্পূর্ণ রাজস্ব আদায়কারী ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত নিলে যেমন রাজস্ব কমে, তেমনি সৎ কর্মকর্তাদের মনোবলও ভেঙে যায়।
হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতা
সিএন্ডএফ নেতারা অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু চক্র নানা অজুহাতে হয়রানি করে। কখনও কাগজে সামান্য ভুল ধরে, কখনও পুনঃপরীক্ষার নামে সময় নষ্ট করা হয়। অনেক ছোট ও মাঝারি সিএন্ডএফ এজেন্ট টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তাদের ভাষায়, “আমরা চাই স্বচ্ছতা। আমরা রাজস্ব ফাঁকি দিতে চাই না, আমরা চাই দ্রুত ও ন্যায্য প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিদিন হয়রানির মুখে পড়লে বৈধভাবে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যায়।”
রাজস্ব আদায়ে প্রভাব
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কাস্টমসে বাধা মানেই রাজস্বে বাধা। আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া যত দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে, রাজস্ব আদায় তত বাড়বে। হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতা দূর হলে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি পণ্য বৈধ পথে আনতে উৎসাহিত হবেন, ফলে সরকারের আয়ও বাড়বে।
অন্যদিকে, বিলম্ব ও হয়রানি বাড়লে অনেকে বিকল্প অনিয়মের পথ খুঁজতে বাধ্য হন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যা চান সিএন্ডএফ এজেন্টরা
১. কাস্টমসে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
২. ফাইল নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া।
৩. অনলাইন শুল্কায়ন ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করা।
৪. হয়রানির অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
৫. সৎ কর্মকর্তা ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের সুরক্ষা দেওয়া।
সিএন্ডএফ এজেন্টদের প্রত্যাশা, ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রাজস্ব আদায় বাড়বে, ব্যবসার পরিবেশ ভালো হবে এবং দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।