সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির খালি পদ বাড়ল, দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন কর্মী ছাঁটাইফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদার বাজিমাত, পঞ্চমবারও কংগ্রেসে মিশিগান জয়যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী, ঘাতকের ৪০ বছরের কারাদণ্ড অবশেষেমধ্যবর্তী নির্বাচনে চমক! মার্কিন কংগ্রেসে মুসলিম রাজনীতিকদের একের পর এক জয়যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যু, শোকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

মিসিসিপিতে সিনেট নির্বাচনে বড় চমক, রিপাবলিকান নেত্রীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি মিসিসিপিতে সিনেট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট স্কট কোলম, ফলাফল নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।

মিসিসিপিতে সিনেট নির্বাচনে বড় চমক, রিপাবলিকান নেত্রীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী
মিসিসিপিতে সিনেট নির্বাচনে বড় চমক, রিপাবলিকান নেত্রীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কোলম। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন কোলম। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এই নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটের বিভিন্ন আসনেও ভোট গ্রহণ করা হয়। মিসিসিপির সিনেট আসনটি আগে থেকেই রিপাবলিকানদের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম থাকায় ফলাফল ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

৫ নভেম্বরের প্রাপ্ত নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কোলম পেয়েছেন ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬ ভোট। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথ পেয়েছেন ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৮ ভোট। অর্থাৎ কোলম এগিয়ে রয়েছেন ১ হাজার ১৩৮ ভোটে। তবে এই ব্যবধানকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কারণ এখনো কিছু ভোট গণনা ও যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী টাই পিঙ্কিনসও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৩৪ ভোট। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধানের তুলনায় তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে তাঁর অংশগ্রহণও আলোচনায় এসেছে।

স্কট কোলম পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি মিসিসিপির চারটি কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় বিচারব্যবস্থা, অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

কোলমের প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মিসিসিপির সাধারণ ভোটারদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মধ্যবিত্ত পরিবার, কৃষক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক চাপের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় দলীয় বিভাজনের বাইরে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

অন্যদিকে সিন্ডি হাইড-স্মিথ দীর্ঘদিনের পরিচিত রিপাবলিকান রাজনীতিক। ২০১৮ সালে নিয়োগের মাধ্যমে তিনি প্রথমবার সিনেটে দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসনটি ধরে রাখেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর এবার আরও একটি মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নিজের প্রচারণায় হাইড-স্মিথ অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক পরিচিতি এবং রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও পেয়েছেন। নির্বাচনের আগে ২৬ অক্টোবর মিসিসিপির করিন্থ শহরে ট্রাম্প তাঁর পক্ষে প্রচারণামূলক সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে হাইড-স্মিথের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এত বড় রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার পরও তাঁর আসন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মিসিসিপির রাজনৈতিক ইতিহাস এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অঙ্গরাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখানে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে ১৯৮২ সালের পর থেকে অঙ্গরাজ্যটি কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সরাসরি সিনেট নির্বাচনে জয়ী করেনি। ফলে কোলমের এই অগ্রগতি ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় রাজনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

নির্বাচনের ফলাফল এখনো নিশ্চিত না হওয়ার অন্যতম কারণ অসম্পূর্ণ ভোট গণনা। মিসিসিপিতে কিছু ডাকযোগে পাঠানো ভোট এবং বিশেষ যাচাইসাপেক্ষ ভোট গণনার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে যেসব ভোটারের নাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি, তাঁদের দেওয়া বিশেষ ভোট যাচাই করে গণনা করতে হয়। এসব ভোটের বৈধতা নিশ্চিত করার পরই চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত করা হবে।

অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন বা তার আগে ডাকযোগে পাঠানো নির্দিষ্ট ভোট ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিশেষ যাচাইসাপেক্ষ ভোটের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিচয়সংক্রান্ত বিষয় সম্পন্ন করতে হয়। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ভোটারদের আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। ১৩ নভেম্বরের মধ্যে কাউন্টিগুলোর প্রত্যয়িত ফলাফল জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে।

এই নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিসিসিপিতে স্বয়ংক্রিয় পুনর্গণনার ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ ভোটের ব্যবধান কম হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ভোট আবার গণনা করা হবে না। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়নের পর কোনো প্রার্থী ভোট গণনা বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ কারণে নির্বাচনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই নির্বাচন শুধু মিসিসিপির একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতিফলন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। রিপাবলিকানদের শক্তিশালী বলে বিবেচিত কয়েকটি এলাকাতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে এসেছেন। ফলে মিসিসিপির মতো অঙ্গরাজ্যে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

ডেমোক্র্যাটদের জন্য কোলমের সম্ভাব্য বিজয় হবে ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ এতে অঙ্গরাজ্যটির কয়েক দশকের রাজনৈতিক ধারায় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জন্য এই নির্বাচন সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দলটি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল, সেখানেও ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ, কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা ভূমিকা রেখেছে, সেটিও বিশ্লেষণের বিষয়। নির্বাচনী ফলাফল থেকে বোঝা যেতে পারে, স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থার মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।

সব মিলিয়ে মিসিসিপির সিনেট নির্বাচন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে। স্কট কোলমের অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে বাকি ভোট গণনা, যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ডি হাইড-স্মিথের পরাজয় কিংবা কোলমের বিজয় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এখন সবার নজর মিসিসিপির চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফলের দিকে।


ট্যাগ: মার্কিন নির্বাচনমিসিসিপিস্কট কোলমসিন্ডি হাইড-স্মিথডেমোক্র্যাট দলরিপাবলিকান দলযুক্তরাষ্ট্রের সিনেটমধ্যবর্তী নির্বাচনমার্কিন রাজনীতি

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।