থার্ড টার্মিনালে লন্ডনের দেড়শ কোটির বাজি, খুলছে ৫ হাজারের অধিক চাকরির দুয়ার!
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মেনজিস এভিয়েশনের দেড়শ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবে সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে লন্ডনভিত্তিক যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান মেনজিস এভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায়। আর এই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাকরি হবে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থার্ড টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে জায়গা করে নিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের চারটি বড় এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান। এরা হলো তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন, যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডনাটা।
এদের মধ্যে মেনজিস এভিয়েশনের প্রস্তাব এখন সবচেয়ে আলোচিত। তাদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে, ১ হাজারের বেশি সরাসরি চাকরি তৈরি হবে এবং আরও ৪ হাজার ৫০০ পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে।
অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে থার্ড টার্মিনালকে কেন্দ্র করে।
কী কাজ করবে দ্বিতীয় অপারেটর?
এই দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপারেটর কেবল যাত্রীসেবা ও প্যাসেঞ্জার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পরিচালনা করবে। ফলে এয়ারলাইনসগুলো বিমানের বিকল্প সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশের হাতেই থাকবে।
অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব
মেনজিসের পাশাপাশি সেলেবি এভিয়েশন জানিয়েছে, তাদের বিনিয়োগ মেনজিসের প্রস্তাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ স্থানীয় চাকরি। সুইসপোর্ট বাংলাদেশের রিদম গ্রুপের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাব জমা দিয়েছে, আর ডনাটা জোর দিয়েছে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও দক্ষ যাত্রীসেবার ওপর।
সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতাকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কাজটি পেতে তারা কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং হাজার হাজার স্থানীয় কর্মসংস্থানের প্রস্তাব দিচ্ছে।
বেবিচকের শর্ত: শুধু চাকরি নয়, মালিকানাও চাই
তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়েছে। বেবিচক জোর দিয়ে বলছে, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে কেবল স্থানীয় কর্মী নিয়োগ বা সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রকৃত ইক্যুইটি বা ব্যবসায়ের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু শ্রম সরবরাহকারী হিসেবে নয়, মালিকানায় অংশীদার হিসেবে রাখতে হবে। আলোচনায় ২৭ শতাংশ রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়টিও এসেছে, যদিও রাজস্ব ভাগাভাগি আর মালিকানা এক জিনিস নয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
থার্ড টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক রয়েছে।
চালু হলে বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমন অবস্থায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচন বাংলাদেশের এভিয়েশন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সুবিধার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
এখন সবার নজর বেবিচক ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। লন্ডনের দেড়শ কোটি টাকার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ৫,৫০০ চাকরির দরজা খুলে দেবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।