মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশিদের জয়, আবারও সিনেটর হলেন শেখ রহমান ও এমডি মাসুদুর রহমান
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিকের জয়। জর্জিয়া ও কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন শেখ রহমান ও এমডি মাসুদুর রহমান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে যুক্ত হলো নতুন সাফল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিকের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমান নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে জয় পেয়েছেন। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে তাঁদের বিজয়ের তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। দুই রাজনীতিকই ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত এবং নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় দায়িত্ব পালন করছেন।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার সন্তান তিনি। জর্জিয়ার এই আসনে সাধারণ নির্বাচনে তাঁর বিপক্ষে কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে প্রকাশিত নির্বাচনী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর নামে ৩৫ হাজার ১০১ ভোটের তথ্য উল্লেখ করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
তবে এই জয় পাওয়ার আগে তাঁকে দলীয় মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়েছে। গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি। ওই নির্বাচনে শেখ রহমান পেয়েছিলেন ৬ হাজার ১৮৮ ভোট। অন্যদিকে রবিন ম্যাককয় পান ৫ হাজার ১৬৬ ভোট।
শেখ রহমান ২০১৮ সালে প্রথমবার জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি অঙ্গরাজ্যটির ৫ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিত। তাঁর জন্ম বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে যাত্রা শুরু করে রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
অন্যদিকে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন এমডি মাসুদুর রহমান। তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে। এবারের নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করেছেন। স্থানীয় নির্বাচনী ফলাফল এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর জয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মাসুদুর রহমান ২০২২ সালে প্রথমবার কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি নিজের আসন ধরে রেখেছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়েছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনরায় জয় পাওয়ায় অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় তাঁর দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।
এই দুই রাজনীতিকের বিজয়ের পাশাপাশি নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল খানকেও ঘিরে আলোচনা রয়েছে। তিনি রকিংহাম-৩০ নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রাথমিক ফলাফলে তাঁকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও তাঁর বিজয়ের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে একভাবে উপস্থাপিত হয়নি। তাই তাঁর ফলাফল সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য ছাড়া বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা সমীচীন নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোয় স্টেট সিনেটররা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা অঙ্গরাজ্যের বাজেট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং বিভিন্ন আইন প্রণয়ন নিয়ে কাজ করেন। তাঁদের দায়িত্ব ফেডারেল সিনেটরদের দায়িত্ব থেকে আলাদা।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের এই সাফল্য শুধু নির্বাচনে জয় পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন পেশায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্বেও এগিয়ে আসছেন।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর কাছে এই নির্বাচন নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, নাগরিক অধিকার চর্চা এবং স্থানীয় নেতৃত্বে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
জর্জিয়া ও কানেকটিকাটে শেখ রহমান এবং এমডি মাসুদুর রহমানের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হলো।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।