যুক্তরাষ্ট্রগামী সব আন্তর্জাতিক যাত্রীর জন্য নতুন নিয়ম, ইবোলা নিয়ে বাধ্যতামূলক ঘোষণা
ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সব যাত্রীকে যাত্রার আগে নতুন ঘোষণা দিতে হবে। কঙ্গোতে গত ২১ দিনের মধ্যে অবস্থান করলে বিমানে ওঠার অনুমতি মিলবে না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া যাত্রীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলা ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। আগামী ৩ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের একটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই সময়ের পর ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মটি কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীকে লিখিত অথবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিশ্চিত করতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটে ওঠার আগের ২১ দিনের মধ্যে তিনি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অবস্থান করেননি। এই ঘোষণা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নয়; বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সব যাত্রীর জন্য প্রযোজ্য।
সিডিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো যাত্রী গত ২১ দিনের মধ্যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অবস্থান করে থাকলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রগামী বাণিজ্যিক বিমানে উঠতে পারবেন না। কঙ্গো থেকে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পর সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। এমনকি কঙ্গোর কোনো বিমানবন্দরে শুধু সংযোগ ফ্লাইটের জন্য যাত্রাবিরতি করলেও, বিমান থেকে না নামলেও, সেটি অবস্থানের সময়ের মধ্যে গণনা করা হবে।
যারা কঙ্গোতে অবস্থান করেছেন, তাদের দেশটি ছাড়ার পর অন্তত ২১ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বিমানে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ কঙ্গো ছাড়ার পর ২২তম দিন থেকে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
এই নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিমান সংস্থাগুলোকে। যাত্রীদের কাছ থেকে কাগজে অথবা ডিজিটাল মাধ্যমে স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণা সংগ্রহ করতে হবে। বিমান সংস্থাগুলোকে এসব ঘোষণার অনুলিপি কমপক্ষে ৪২ দিন সংরক্ষণ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধে তা দেখাতে হবে।
এদিকে কঙ্গো ছাড়াও দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পৃথক স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে। গত ২১ দিনের মধ্যে এসব দেশে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিদের, গ্রিন কার্ডধারীসহ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাময়িক বিধিনিষেধ রয়েছে। অন্যদিকে এসব দেশে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
নির্ধারিত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
নতুন নিয়ম নিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যেও আপত্তি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন সিডিসিকে নিয়মটি বাস্তবায়নের সময় ও পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যে সব বিমান সংস্থার টিকিট যাচাই, যাত্রীদের ঘোষণা সংগ্রহ, ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রস্তুত করা কঠিন হতে পারে।
তবে সিডিসি জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির ৩০ অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ইবোলা রোগী এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয়নি।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।