সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
চাকরি হারানোর ভয় কমছে, কিন্তু নতুন চাকরি পেতে বাড়ছে প্রতিযোগিতাযুক্তরাষ্ট্রে আজ হ্যালোইনের রাতে শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষযুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা কমেছে ৫০ লাখ মানুষের, চাপে নিম্নআয়ের পরিবার ও অভিবাসী সম্প্রদায়।ফ্লোরিডায় মানবপাচারবিরোধী অভিযানে ২৮১ গ্রেপ্তার, তালিকায় সরকারি কর্মীওযুক্তরাষ্ট্রে পড়েই চাকরির প্রস্তুতি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৪টি বিশেষ শিক্ষাক্রম

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা কমেছে ৫০ লাখ মানুষের, চাপে নিম্নআয়ের পরিবার ও অভিবাসী সম্প্রদায়।

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমেছে। কাজের শর্ত, প্রশাসনিক জটিলতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে বিপাকে পড়তে পারেন নিম্নআয়ের বহু পরিবার।

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা কমেছে ৫০ লাখ মানুষের, চাপে নিম্নআয়ের পরিবার ও অভিবাসী সম্প্রদায়।
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা কমেছে ৫০ লাখ মানুষের, চাপে নিম্নআয়ের পরিবার ও অভিবাসী সম্প্রদায়।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি ‘এসএনএপি’তে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এক বছরে ৫০ লাখের বেশি কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব জানিয়েছে বাজেট ও নীতিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ।

এসএনএপি বা সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম হলো নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য কেনার জন্য সরকারের দেওয়া সহায়তা। যোগ্য ব্যক্তিরা ইলেকট্রনিক বেনিফিট ট্রান্সফার বা ইবিটি কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত দোকান থেকে খাবার কিনতে পারেন। কর্মসূচিটি যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য কেনার খরচ সামলাতে সহায়তা করে।

গবেষণা সংস্থাটির ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নতুন বাজেট আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসএনএপি সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি কমেছে। সংস্থাটির হিসাবে, অংশগ্রহণের হার কমে গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই পতনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। নতুন আইনে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সসীমার অনেক প্রাপ্তবয়স্ক সুবিধাভোগীকে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা অথবা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। শর্ত পূরণ না করলে এবং কোনো ছাড়ের আওতায় না থাকলে তাঁদের খাদ্যসহায়তা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে শুধু কাজের শর্তই নয়, আবেদন ও নবায়নের প্রশাসনিক জটিলতাও বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। নতুন নিয়মে অনেক আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি দিতে না পারা, সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে না পারা কিংবা নবায়নের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু পরিবার সহায়তা হারাচ্ছে।

কেন্টাকি বা লুইজিয়ানার মতো কয়েকটি রাজ্যে প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লুইজিয়ানার তথ্য উদ্ধৃত করে কেএফএফ হেলথ নিউজ জানিয়েছে, ওই রাজ্যে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যাঁরা এসএনএপি সুবিধা হারিয়েছেন, তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশের ক্ষেত্রে কারণ ছিল প্রক্রিয়াগত জটিলতা। অর্থাৎ, তাঁদের অনেকেই যোগ্যতা হারানোর পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা নবায়নের শর্ত পূরণ করতে না পারায় কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছেন।

রাজ্যগুলোর ওপরও নতুন আর্থিক দায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে এসএনএপি পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হচ্ছে। আগে এই ব্যয় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হতো। ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে খাদ্যসহায়তার ব্যয়ের একটি অংশও রাজ্যগুলোকে বহন করতে হতে পারে।

এই পরিবর্তনের কারণে রাজ্য প্রশাসনগুলো আবেদন যাচাই ও ব্যয়ের হিসাব আরও কঠোরভাবে দেখছে। ফলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া, আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব এবং যোগ্য ব্যক্তিদেরও সহায়তা পেতে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব শিশু ও বয়স্কদের ওপরও পড়তে পারে। যেসব পরিবার খাদ্য কেনার জন্য এসএনএপির ওপর নির্ভরশীল, তাদের মাসিক বাজেটে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। খাদ্যব্যাংকগুলোতে সহায়তা চাওয়ার চাপ বাড়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে খাদ্যব্যাংকের সহায়তা সরকারি খাদ্যসহায়তার বিকল্প হিসেবে সব পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারে না।

অভিবাসী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আইনে নির্দিষ্ট কিছু বৈধ অভিবাসন মর্যাদার অধিকারীদের এসএনএপি পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হয়েছে। তবে সব অভিবাসী একই নিয়মের আওতায় পড়েন না। নাগরিকত্ব, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, শরণার্থী বা আশ্রয়প্রাপ্তির মর্যাদা এবং পরিবারের সদস্যদের অবস্থার ওপর যোগ্যতা নির্ভর করতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর উদ্বেগ, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়াকে শুধু মানুষের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাড়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ, চাকরির সুযোগ, খাদ্যপণ্যের দাম এবং আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতাও এই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি জানা জরুরি। পরিবারের কেউ এসএনএপি সুবিধা পেলে রাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের যোগ্যতা, কাজের শর্ত, ছাড় পাওয়ার সুযোগ এবং নবায়নের শেষ তারিখ যাচাই করা উচিত। কোনো চিঠি বা নোটিশ এলে তা উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়া প্রয়োজন। অভিবাসন মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রএসএনএপিখাদ্যসহায়তাখাদ্যনিরাপত্তানিম্ন আয়ের পরিবারসরকারি সহায়তাখাদ্য ভাতাইবিটি কার্ডট্রাম্প প্রশাসননতুন বাজেট আইনকর্মসংস্থান শর্তঅভিবাসী পরিবারবাংলাদেশি অভিবাসি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।