সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়ার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারিনিউইয়র্কে ব্যাটারির আগুনে মা ও তিন সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবাযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন সেবা শিবির, ছুটি ও শিক্ষার্থীদের ঘটনায় বিজ্ঞপ্তিট্রাম্পের রাতের ফোনে ঘুম হারাম, অনুকরণ করে হাসালেন স্পিকার মাইক জনসনফ্লোরিডায় যাত্রীবাহী ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ আরোহ

শখের গাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি তরুণ রমিম

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রমিম উদ্দিন আহমেদ, শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা, ন্যায়বিচারের দাবি পরিবারের।

শখের গাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি তরুণ রমিম
শখের গাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি তরুণ রমিম

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস শহরে নিজের গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলাদেশি তরুণ রমিম উদ্দিন আহমেদ। মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের নিজ গ্রামে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এই তরুণের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও।

২০২৩ সালের ১৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ভোরে সেন্ট লুইস শহরের হ্যাম্পটন অ্যাভিনিউয়ের একটি জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। রমিম সেখানে কাজ করতেন। পাশাপাশি স্থানীয় একটি কলেজে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকা তরুণটির জীবন শেষ হয়ে যায় একটি ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে সে সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রমিমের সঙ্গে থাকা গাড়ি ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। গাড়িটি বাইরে দাঁড় করানো ছিল। দুর্বৃত্তদের তৎপরতা দেখে তিনি বাধা দিতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে এক বন্দুকধারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

বাংলাদেশি সাংবাদিক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল দুর্বৃত্তরা। রমিম বাধা দিলে তাঁকে গুলি করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ঘটনার প্রতিটি মুহূর্তের বিস্তারিত বিবরণ পুলিশের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং তাতে বাধা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সে সময়ের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হচ্ছে।

রমিমের বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সে সময় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছোট ভাই ২০১৬ সালে খালার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে কাজ করতেন তিনি। পরিবারের আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে রমিম নিজের জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলবেন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। পরিবারের কাছে রমিম ছিলেন শুধু একজন শিক্ষার্থী নন, ছিলেন ভবিষ্যতের ভরসা। তাঁর অকালমৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত রমিমের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকায়। তিনি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদের ছেলে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তাঁর পরিবারে ছিল দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্মৃতি। সেই পরিবারের তরুণ সদস্যের বিদেশের মাটিতে এমন নির্মম মৃত্যু স্বজনদের জন্য ছিল গভীর বেদনার।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাসও শোক প্রকাশ করে। ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে রমিমের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রত্যাশা প্রকাশ করে।

দূতাবাসের বক্তব্যে ঘটনাটিকে অর্থহীন সহিংস অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় যাওয়া তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসে।

সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জ্যাটাভিয়ন স্কট নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে খুঁজছিল পুলিশ। তবে শুধু সন্দেহভাজন হিসেবে নাম প্রকাশিত হওয়া কাউকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য নয়। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।

রমিমের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। ২০২৩ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রামে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান। রমিমের বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন, বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়েছিল, ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিদেশের মাটিতে প্রিয়জনের এমন মৃত্যু তাঁদের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি এ ঘটনা ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ নিরাপত্তা পরামর্শ হলো, অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীর মুখোমুখি হলে জীবনকে সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া। তবে রমিমের ঘটনায় তাঁর প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো ধরনের দোষারোপ করা সমীচীন নয়।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক তরুণের জীবন এভাবে শেষ হয়ে যাওয়া পরিবার ও সমাজের জন্য গভীর শোকের ঘটনা। রমিম উদ্দিন আহমেদের মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দেয়, অপরাধের শিকার ব্যক্তির জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ কতটা বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে।

ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা এবং মামলার পরবর্তী অবস্থার নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার হালনাগাদ তথ্য প্রকাশিত হলে তা রমিমের পরিবারের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগ নিরসনেও সহায়ক হতে পারে।


ট্যাগ: রমিম উদ্দিন আহমেদবাংলাদেশি তরুণযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নিহতগাড়ি ছিনতাইমিসৌরিসেন্ট লুইসমীরসরাইপ্রবাসী বাংলাদেশিন্যায়বিচারের দাব

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।