সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও চাকরির বাজার নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপবাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, ঋণগ্রহীতারা পাবেন কী সুবিধা?যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইনের মিষ্টি বিক্রি কমেছে, দাম বেড়ে চাপে পরিবার ও ব্যবসায়ীরাযুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা কমেছে ৫৫ লাখ মানুষের, চাপে নিম্ন আয়ের পরিবারশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় আইনি লড়াই, মেটার বিরুদ্ধে ২৫ বিলিয়ন ডলারের রায় যুক্তরাষ্ট্রে

বাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, ঋণগ্রহীতারা পাবেন কী সুবিধা?

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানা ও গৃহঋণের খরচ কমাতে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। যোগ্য পরিবারগুলো বন্ধকী বিমা ও ঋণ পুনঃঅর্থায়নের খরচে স্বস্তি পেতে পারে।

বাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, ঋণগ্রহীতারা পাবেন কী সুবিধা?
বাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, ঋণগ্রহীতারা পাবেন কী সুবিধা?

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বাড়ির মালিকানা ধরে রাখার খরচ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২২ অক্টোবর তিনি বাড়ির মালিকানা ও গৃহঋণের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের বন্ধকী বিমার খরচ কমানো, বাড়ির ঋণ পুনঃঅর্থায়নের ব্যয় হ্রাস এবং তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি নির্মাণে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনেও এই উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম এবং গৃহঋণের সুদের হার অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান এমন পরিবারগুলোর জন্য প্রাথমিক অর্থের জোগান, ঋণের কিস্তি, বিমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিকানা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন উদ্যোগটি ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

নির্বাহী আদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বন্ধকী বিমার খরচ কমানো। যুক্তরাষ্ট্রে কিছু গৃহঋণগ্রহীতাকে ঋণের শর্ত অনুযায়ী বন্ধকী বিমার জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় ঋণগ্রহীতার নিজস্ব মালিকানার অংশ নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে এই বিমা বাতিল করার সুযোগ থাকতে পারে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সিকে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য এবং ঋণগ্রহীতার নিজস্ব মালিকানার অংশ পর্যালোচনা করে কারা বন্ধকী বিমার খরচ বন্ধ করার যোগ্য, তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা করবে। যোগ্যতা পূরণ হলে ঋণগ্রহীতাকে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মূল্যায়নসংক্রান্ত ব্যয়ের ঝামেলা কমিয়ে দ্রুত অবহিত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

তবে এই সুবিধা সবাই সঙ্গে সঙ্গে পাবেন না। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটি চালু হওয়ার পর নেওয়া নির্দিষ্ট গৃহঋণের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। ঋণগ্রহীতার নিজস্ব মালিকানার অংশ, ঋণ পরিশোধের ইতিহাস, চুক্তির শর্ত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়ম পূরণ করতে হবে। ফলে যাঁরা ইতিমধ্যে বাড়ির মালিক, তাঁদের সবাই এই উদ্যোগের আওতায় পড়বেন—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাড়ির ঋণ পুনঃঅর্থায়নের খরচ কমানোও নতুন উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুনঃঅর্থায়ন বলতে আগের গৃহঋণের পরিবর্তে নতুন ঋণ নেওয়াকে বোঝায়। অনেক ক্ষেত্রে ঋণের শর্ত পরিবর্তন বা মাসিক কিস্তি কমানোর জন্য বাড়ির মালিকেরা এই ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। কিন্তু পুনঃঅর্থায়নের সময় সম্পত্তির মালিকানা যাচাই, বিমা, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার কারণে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

নতুন আদেশে নির্দিষ্ট পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে মালিকানা-সংক্রান্ত বিমার বিকল্প ব্যবস্থা সম্প্রসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ করা। তবে সব ধরনের ঋণ বা সব বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম, ঋণের ধরন এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করবে।

কম খরচে বাড়ি নির্মাণের বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন একটি সরকারি কর্মদল তৈরি করা হবে, যার কাজ হবে আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বাড়ি তৈরির ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা। কারখানায় তৈরি বাড়ির উপাদান, একই ধরনের নকশা ও নির্মাণপদ্ধতি এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে নির্মাণের সময় ও খরচ কমানো সম্ভব কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। এই কর্মদলকে ১৮০ দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কৃষি বিভাগ ও প্রবীণ সেনাসদস্যদের বিষয়ক বিভাগকে তাদের নিজস্ব সরাসরি গৃহঋণ কর্মসূচির সুদের হার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্য ঋণগ্রহীতারা উপকৃত হতে পারেন। তবে সুদের হার কতটা কমবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির উচ্চমূল্য ও গৃহঋণের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ এসেছে। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ত্রিশ বছর মেয়াদি স্থায়ী সুদের গৃহঋণের গড় হার আগের সপ্তাহের ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুদের হার সামান্য কমলেও বাড়ি কেনার সামগ্রিক ব্যয় এখনো অনেক পরিবারের জন্য বড় বাধা।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গৃহঋণের কিছু আনুষঙ্গিক খরচ কমানো, পুনঃঅর্থায়নের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভবিষ্যতে কম খরচে বাড়ি নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া। তবে বাড়ির দাম বা সবার মাসিক কিস্তি অবিলম্বে কমে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কোন পরিবার কতটা সুবিধা পাবে, তা নির্ভর করবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ঋণের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সিদ্ধান্তের ওপর।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রঅস্থায়ী অভিবাসন সুরক্ষাকাজের অনুমতিহাইতিয়ান অভিবাসীপরিচর্যাকর্মীঅভিবাসন নীতিযুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনবয়স্কদের পরিচয়

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।