নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নতুন সংগঠন, বাড়বে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে নতুন সংগঠন চালু হয়েছে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নতুন সংগঠন, বাড়বে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ
৮,৬৪৮ বার পড়া হয়েছে ২ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়িক সমাজে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে গ্লোবাল বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্স। গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এই ঐতিহাসিক লঞ্চিং ইভেন্টে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সফল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা, করপোরেট ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারীরা একত্রিত হন। প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের ব্যবসায়িক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধা, শ্রম ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে পারস্পরিক যোগাযোগ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কিংয়ের অভাবে তাদের অনেকেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছেন না। এই ঘাটতি পূরণে এবং প্রবাসী ব্যবসায়ীদের একক সুতোয় বাঁধতে গ্লোবাল বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্স একটি শক্তিশালী সেতু হিসেবে কাজ করবে। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এক ছাদের নিচে আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন ও সম্ভাবনাময় দ্বার উন্মোচন করা এবং পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও যৌথ বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাদের বক্তব্যে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তারা জানান, নতুন প্রজন্মকে সঠিক ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনা প্রদান, মেন্টরশিপ বা পরামর্শ সহায়তা দেওয়া এবং মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করা এই চেম্বারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এছাড়াও প্রবাসীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও মূলধনকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মুখে কীভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা একে অপরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে পারেন, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন অতিথিরা।
মতবিনিময় পর্বে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তারা জানান, গ্লোবাল বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্স কেবল নিউইয়র্ক বা যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শীঘ্রই বিশ্বের অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক শহরগুলোতেও এই সংগঠনের শাখা বা কার্যক্রম শুরু করা হবে, যাতে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক আরও সুদৃঢ় হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার, সেবা খাতের বিকাশ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে এই প্ল্যাটফর্মটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আমন্ত্রিত অতিথিরা নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশ নেন এবং নিজেদের মধ্যে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। একটি শক্তিশালী ও গতিশীল বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সম্প্রদায় গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কেক কাটা ও ফটোসেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। নিউইয়র্কের মূলধারার ব্যবসায়িক অঙ্গনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই নতুন উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।