সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ক্যালিফোর্নিয়ায় হ্যালোইন দোকানে গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত, আহত ছয়জনহ্যালোইনে কিশোরদের ঝামেলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের চার শহরে রাতের কারফিউ জারিএক ঘণ্টা সময় ফিরে পেল যুক্তরাষ্ট্র, বদলে গেল কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনট্রাম্পের স্মারক তোরণ নির্মাণ ঠেকাতে আদালতে মামলা করল ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়ারেকর্ড উচ্চ জোয়ারে প্লাবিত ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল, হান্টিংটন বিচে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ট্রাম্পের স্মারক তোরণ নির্মাণ ঠেকাতে আদালতে মামলা করল ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়া

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত স্মারক তোরণ নির্মাণ বন্ধে মামলা করেছে ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়া। পরিবেশ, যান চলাচল ও ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ট্রাম্পের স্মারক তোরণ নির্মাণ ঠেকাতে আদালতে মামলা করল ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়া
ট্রাম্পের স্মারক তোরণ নির্মাণ ঠেকাতে আদালতে মামলা করল ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উঁচু স্মারক তোরণ নির্মাণ নিয়ে নতুন করে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়া ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর দায়ের করা এই মামলায় প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। তবে আদালত এখনো নির্মাণ বন্ধের চূড়ান্ত আদেশ দেয়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত স্মারক তোরণ নির্মাণের বিরুদ্ধে দায়ের করা তৃতীয় আইনি চ্যালেঞ্জ। এর আগে তিনজন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাবেক সেনাসদস্য এবং একজন স্থাপত্য ইতিহাসবিদ প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। নতুন মামলার ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব এবং ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জে জোনস যৌথভাবে মামলাটি দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরু হলে দুই অঞ্চলের পরিবহনব্যবস্থা, পরিবেশ, জরুরি সেবা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাঁদের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন ও পর্যালোচনা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়নি।

প্রস্তাবিত তোরণটি পটোম্যাক নদীর ওপর বিস্তৃত সেতুর কাছাকাছি একটি স্থানে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওই সেতু ওয়াশিংটন ডিসিকে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় নির্মাণকাজ শুরু হলে কয়েক বছর ধরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মামলায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত স্থাপনাটি প্রায় ২৫০ ফুট বা ৭৬ মিটার উঁচু হবে। এর উচ্চতা নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির ভিত্তি থেকে মশাল পর্যন্ত উচ্চতার চেয়ে প্রায় ১০০ ফুট বেশি। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ স্মারক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে মেমোরিয়াল সার্কেলের কিছু অংশ বন্ধ রাখতে হতে পারে। মেমোরিয়াল সেতুর পশ্চিমমুখী যান চলাচলের পথও সীমিত হয়ে পড়তে পারে। এতে প্রতিদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজ ও রোগী পরিবহনে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে রাজধানী অঞ্চলে জরুরি পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই অঞ্চলের পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ ও অন্যান্য জরুরি সেবা প্রায়ই সমন্বিতভাবে কাজ করে। মামলায় বলা হয়েছে, নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হলে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের নিরাপদে সরে যাওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট দূষণ, বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে যাওয়া নির্মাণবর্জ্য এবং নদীতে দূষিত পানি প্রবাহ পটোম্যাক নদীর পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি আশপাশের প্রাকৃতিক আবাসস্থল এবং বিপন্ন প্রজাতির বাদুড়ের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় মামলাকারীদের অভিযোগ; আদালতে এখনো এগুলো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

ঐতিহাসিক স্থাপনার দৃশ্যমানতা নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে। মামলাকারীদের মতে, তোরণটি নির্মিত হলে লিংকন স্মৃতিসৌধ থেকে আর্লিংটন হাউসের দিকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিপথ বাধাগ্রস্ত হবে। গৃহযুদ্ধের পর উত্তর ও দক্ষিণের পুনর্মিলনের প্রতীক হিসেবে এই স্থাপনা ও দৃশ্যপথের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

প্রকল্পটির অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটন ডিসির ভবনের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণকারী আইন অনুযায়ী, শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ভবনের উচ্চতা সীমিত। মামলাকারীদের দাবি, প্রস্তাবিত তোরণটির উচ্চতা ওই সীমার প্রায় দ্বিগুণ এবং এটি নির্মাণের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, প্রকল্পটির জন্য নতুন করে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নেই। প্রশাসন প্রায় এক শতাব্দী আগে অনুমোদিত একটি পুরোনো প্রকল্পের আইনি ভিত্তির ওপর নির্ভর করার কথা জানিয়েছে। তবে এই যুক্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং আদালত এখনো বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেনি।

প্রস্তাবিত তোরণের নকশায় বিশাল একটি স্থাপনার ওপর ডানাযুক্ত লেডি লিবার্টির মূর্তি, পর্যবেক্ষণ মঞ্চ, বিভিন্ন কক্ষ, দপ্তর এবং একাধিক তলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নকশা অনুযায়ী, স্থাপনাটিতে দর্শনার্থীদের জন্য ওপরের দিকে ওঠার ব্যবস্থা থাকবে। প্রশাসন বলছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে নির্মিত হবে এবং জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।

তবে প্রশাসনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করেছিলেন তিনজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন স্থাপত্য ইতিহাসবিদ। তাঁদের অভিযোগ, তোরণটি আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের ঐতিহাসিক পরিবেশ ও স্মৃতিসৌধগুলোর মধ্যকার দৃশ্যগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাঁরা নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।

মামলাগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক তানিয়া চুটকানের বিবেচনায় রয়েছে। নতুন মামলাটি আগের মামলার সঙ্গে একত্রে বিবেচনা করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আদালত এখনো নির্মাণ বন্ধের চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। ফলে মামলা দায়েরের ঘটনাকে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় রাজধানী পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটির চূড়ান্ত নকশা ও স্থান নির্ধারণের বিষয়ে ৫ নভেম্বর পর্যালোচনা করতে পারে। কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলে একই দিন নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে এই তারিখ চূড়ান্ত নির্মাণ শুরুর নিশ্চয়তা নয়; অনুমোদন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, স্মারক তোরণটি রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। প্রশাসনের মতে, এই স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সামরিক বীরত্বের স্মারক হিসেবে কাজ করবে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে আইনগত অনুমোদন ও পরিবেশগত পর্যালোচনা এড়িয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত স্মারক তোরণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও আইনগত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্মাণকাজ শুরু হবে কি না, তা নির্ভর করছে আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পরিকল্পনা কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। আপাতত প্রকল্পটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়েছে।


ট্যাগ: োনাল্ড ট্রাম্পস্মারক তোরণওয়াশিংটন ডিসিভার্জিনিয়াযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিফেডারেল আদালতআইনি বিরোধনির্মাণ প্রকল্পপরিবেশগত প্রভাবআর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রপটোম্যাক নদীজাতীয় রাজধানী পরিকল্পনা কমিশন

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।