ক্যালিফোর্নিয়ায় হ্যালোইন দোকানে গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত, আহত ছয়জন
হ্যালোইনের আগের রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ডে দোকানে গুলিতে এক নারী নিহত, আহত ছয়জন; হামলাকারীকে খুঁজছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারফিল্ড শহরে হ্যালোইন সামগ্রীর একটি দোকানে বন্দুক হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সোলানো টাউন সেন্টার বিপণিবিতানের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ভয়াবহ এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত নারীর নাম কনস্ট্যান্স হেজেস। তাঁর বয়স ছিল ৩১ বছর। ফেয়ারফিল্ড পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত নারীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তবে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে সোলানো টাউন সেন্টার বিপণিবিতানের ভেতরে অবস্থিত স্পিরিট হ্যালোইন নামের দোকানটিতে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফেয়ারফিল্ড পুলিশ। সেখানে গিয়ে কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ সাতজনকে দেখতে পান। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন কনস্ট্যান্স হেজেস। বাকি ছয়জনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ এবং ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া ২৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি গুরুতর আহত হলেও তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন কিন্তু স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। অন্য দুই আহত ব্যক্তি, যাঁদের বয়স ১৯ ও ৪৩ বছর, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ বিপণিবিতানটির আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি দোকান ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা।
ফেয়ারফিল্ড পুলিশ বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, এটি নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হতে পারে। তবে হামলার পেছনে কী কারণ ছিল, কাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল কিংবা নিহত ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো পূর্বপরিচয় ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
৩১ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত এর বেশি তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে সহায়তার জন্য যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার স্যাক্রামেন্টো কার্যালয়। সংস্থাটির সদস্যরা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষা এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
ঘটনার সময় দোকানটিতে অনেক ক্রেতা উপস্থিত ছিলেন। হ্যালোইন উৎসবের জন্য পোশাক ও সাজসজ্জার সামগ্রী কিনতে সেখানে এসেছিলেন অনেকে। হঠাৎ গুলির শব্দে দোকানজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ক্রেতারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ দোকান থেকে বেরিয়ে যান, আবার কেউ ভেতরে লুকিয়ে থাকেন।
ভয়াবহ এ ঘটনার পর সোলানো টাউন সেন্টার কর্তৃপক্ষ হ্যালোইন উপলক্ষে শিশুদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আয়োজন বাতিল করেছে। শনিবার বিকেলে বিপণিবিতানজুড়ে শিশুদের নিয়ে মিষ্টি সংগ্রহের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের রাতের হামলার পর নিরাপত্তা ও জনসাধারণের উদ্বেগ বিবেচনায় আয়োজনটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হ্যালোইন উৎসব উপলক্ষে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সবাইকে সতর্ক থাকার এবং কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ফেয়ারফিল্ড শহরটি ক্যালিফোর্নিয়ার সোলানো কাউন্টিতে অবস্থিত। শহরটির একটি ব্যস্ত বিপণিবিতানে এমন বন্দুক হামলার ঘটনায় স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উৎসবের প্রস্তুতির মধ্যে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা বাসিন্দাদের আনন্দকে বিষাদে পরিণত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এবং জড়িত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় কারও কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ থাকলে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
একটি উৎসবের আগমুহূর্তে এমন প্রাণঘাতী হামলা যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিহত নারীর পরিবার শোকের মধ্যে রয়েছে এবং আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।