সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরিএইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষারমৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটছে ক্রিস্টা পাইকেরজর্জিয়ায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, যৌন অসদাচরণের দুই অভিযোগে তদন্ত ঘিরে চাঞ্চল্যসৌদির আগুনে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির শেষ সাতজনের মরদেহ ফিরল দেশে

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চাওয়া শিশুদের সাক্ষাৎকারের নতুন নিয়মে আদালতের বাধা

অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় শুনানি দ্রুত শেষ করার সরকারি উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন আদালত। ফিরছে আগের নিয়ম, স্বস্তি শিশুদের।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসী শিশুরা।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসী শিশুরা।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর এসেছে। শিশুদের আশ্রয় আবেদনের সাক্ষাৎকার দ্রুত শেষ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নতুন নীতিতে সাময়িক বাধা দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিশুদের সাক্ষাৎকারের আগে প্রস্তুতির জন্য আবার অন্তত ২১ দিন সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের নিয়মও ফিরিয়ে আনতে হবে।

আদালতের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। বিচারক ব্রেন্ডান হারসন এই আদেশ দিয়েছেন। মামলাটির নাম ‘দ্য ডোর বনাম এডলো’। আদালতের নির্দেশ আপাতত ১৪ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দিলে আদেশটির মেয়াদ শেষ হবে।

মূলত যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রে মা-বাবা বা আইনগত অভিভাবক ছাড়াই এসেছে এবং নিজেদের দেশে নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে আশ্রয় চাইছে, তাদের বিষয়টি এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছে। এসব শিশু অনেক সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করে, আবার কেউ কেউ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের শিশুদের আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ দুর্বলতা ও বয়স বিবেচনায় নেওয়ার কথা।

ট্রাম্প প্রশাসন গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিশুদের আশ্রয় সাক্ষাৎকারের নিয়মে পরিবর্তন আনে। আগের নিয়মে সাক্ষাৎকারের অন্তত ২১ দিন আগে শিশু ও তাদের আইনজীবীদের জানানো হতো। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের এক দিনেরও কম সময় আগে নোটিশ দেওয়া হচ্ছিল। ফলে শিশুদের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, নিজেদের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার প্রস্তুতি এবং আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

শুধু তাই নয়, সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তনের নিয়মও কঠোর করা হয়েছিল। আগে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রথমবার তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ তুলনামূলক সহজ ছিল। প্রয়োজন হলে দ্বিতীয়বারও যথাযথ কারণ দেখিয়ে সময় নেওয়া যেত। কিন্তু নতুন নীতিতে কেবল বিশেষ ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়। আইনজীবীর অন্য শুনানি থাকা কিংবা প্রস্তুতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন হওয়া অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল না।

এতে অভিবাসী শিশুদের পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন আইনি সহায়তা সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের দাবি, অল্প সময়ের নোটিশে সাক্ষাৎকার আয়োজন করলে শিশুরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দেশে ফিরে গেলে কী ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে, তা সঠিকভাবে তুলে ধরার সুযোগ হারাতে পারে। পাশাপাশি একই সময়ে একাধিক শিশুর সাক্ষাৎকার নির্ধারণ করা হলে আইনজীবীদের পক্ষেও সবার প্রতিনিধিত্ব করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ছয়টি আইনি সহায়তা সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। তাদের মধ্যে রয়েছে অ্যামিকা সেন্টার ফর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস, দ্য ডোর, ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস প্রজেক্টসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তারা আদালতের কাছে শিশুদের জন্য আগের নিয়ম ফিরিয়ে আনার আবেদন জানায়।

মামলার বিষয়টি বিবেচনা করে বিচারক জানান, শিশুদের সাক্ষাৎকারের আগে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া তাদের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ২০০৮ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনেও অভিভাবকহীন শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম প্রশাসনিক পদ্ধতি আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে আদালত মনে করেছেন।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, শিশুদের সাক্ষাৎকারের অন্তত ২১ দিন আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। আগের মতো নির্দিষ্ট শর্তে সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগও রাখতে হবে। এতে শিশুদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ এবং নিজেদের আশ্রয়ের আবেদন ভালোভাবে উপস্থাপনের জন্য সময় পাওয়া সহজ হবে।

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রে সব অভিবাসী শিশুর আশ্রয় আবেদন মঞ্জুর হওয়ার খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আদালত কাউকে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেননি কিংবা কোনো শিশুর আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেননি। এটি মূলত সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়ায় সাময়িক সুরক্ষা ফিরিয়ে আনার আদেশ। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।

এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী অভিভাবকহীন শিশুদের অধিকার এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। আদালত পরবর্তী সময়ে আদেশের মেয়াদ বাড়ান কি না এবং মামলার চূড়ান্ত রায়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসীশিশুআশ্রয়আবেদনট্রাম্পপ্রশাসনযুক্তরাষ্ট্রেরখবর

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।