সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন, ইউক্রেনকে অপেক্ষা করতে হতে পারে কয়েক বছরযুক্তরাজ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে পরিবারগুলোর আয় কমবে ১,০৫০ পাউন্ড, বাড়ছে জীবনযাত্রার সংকটডেটোনার সভায় তিন দফা বাধা, বিক্ষোভকারীদের ‘অপদার্থ’ বলে তোপ দাগলেন ট্রাম্পবাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা, উত্তর কোরিয়ার দিকে সন্দেহের তির যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে ট্রাম্পের নজরমিশিগানে বাংলাভাষীদের চিকিৎসায় বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. মুবিনা খান

আর্মেনিয়ার সংসদে ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ বিতর্ক ঘিরে তুমুল সংঘর্ষ, ঘুষি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি

পুরোনো বিতর্কিত প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে আর্মেনিয়ার সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ঘুষি, ধাক্কা ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

আর্মেনিয়ার সংসদে ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ বিতর্ক ঘিরে তুমুল সংঘর্ষ, ঘুষি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি
আর্মেনিয়ার সংসদে ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ বিতর্ক ঘিরে তুমুল সংঘর্ষ, ঘুষি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি

আর্মেনিয়ার জাতীয় সংসদে পুরোনো একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাজধানী ইয়েরেভানের সংসদ ভবনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যরা পরস্পরের দিকে ঘুষি, ধাক্কা ও চেয়ার ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদের অধিবেশন স্থগিত করা হয় এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে দেশটির সংসদে এটি তৃতীয় বড় ধরনের সংঘর্ষ। তবে ঘটনাটি সরাসরি কোনো মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে সংসদীয় বিতর্কের সময় ঘটেনি। বরং রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পুরোনো একটি বিতর্কিত মন্তব্য উঠে আসার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ক্ষমতাসীন নাগরিক চুক্তি দলের আইনপ্রণেতা তারোন চাকোইয়ানের বক্তব্যের সময়। তিনি সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী শক্তিশালী আর্মেনিয়া দলের নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে মন্তব্য করেন। চাকোইয়ান বলেন, কারাপেতিয়ানের পরিবারের সদস্যরা রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তাঁর এক আত্মীয় এমন একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার ধারণা দিয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য হবে দেশের নারীদের সন্তুষ্ট করা। তিনি এ প্রসঙ্গে নারেক কারাপেতিয়ানের কাছে নারীদের উদ্দেশে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

চাকোইয়ানের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের নেতা নারেক কারাপেতিয়ান নিজের আসন থেকে প্রতিবাদ জানান। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য আসন ছেড়ে বক্তব্যের মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। সরকারি দলের সদস্যরাও সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংসদকক্ষে উপস্থিত অন্য সদস্যরা দুই পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। তবে সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে একে অপরকে ঘুষি ও ধাক্কা দিতে দেখা যায়। সংসদের উপসভাপতি এবং ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ভাহাগন আলেক্সানিয়ান বিরোধী সদস্যদের দিকে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনপ্রণেতাদের মধ্যে পানির বোতল ছোড়াছুড়ি এবং পানি ছিটানোর ঘটনাও ঘটে। ক্ষমতাসীন দলের তারোন চাকোইয়ান এবং বিরোধী দলের সদস্য গারনিক দাভতিয়ানের মধ্যে হাতাহাতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকজন আইনপ্রণেতা আহত হন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সংসদের অধিবেশন পরিচালনাকারী রুবেন রুবিনিয়ান প্রথমে অধিবেশন বন্ধ না করে আইনপ্রণেতাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে সংঘর্ষ আরও তীব্র হলে তিনি বিরতি ঘোষণা করেন এবং সংসদের নিরাপত্তাকর্মীদের অধিবেশনকক্ষে প্রবেশের নির্দেশ দেন। সংঘর্ষের পর সংসদ ভবনের করিডরেও উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা দুই পক্ষের সদস্যদের আলাদা রাখার চেষ্টা করেন। সংসদের অধিবেশনকক্ষের বাইরে থেকেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের খবর পাওয়া যায়।

ঘটনার পর আহত আইনপ্রণেতাদের সহায়তার জন্য সংসদ ভবনে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের সদস্য আন্দ্রানিক গেভরগিয়ানের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল এবং আরেক সদস্য রুবেন মখিতারিয়ানের পোশাক ছিঁড়ে যায়। তবে অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চিকিৎসাকর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই সহায়তার অনুরোধ বাতিল করা হয়। ফলে অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরা কাউকে চিকিৎসা দেননি। আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিতর্কিত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার ধারণাটি মূলত সামনে এসেছিল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। শক্তিশালী আর্মেনিয়া দলের সঙ্গে যুক্ত সার্গিস কারাপেতিয়ান একটি আলোচনাভিত্তিক অনুষ্ঠানে নারীদের যৌন অতৃপ্তি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি এমন একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার ধারণার কথা বলেন, যার মাধ্যমে দেশের কোনো নারী অসন্তুষ্ট থাকবেন না। তাঁর বক্তব্যে নারীদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক সক্রিয়তার মধ্যে সম্পর্কের দাবি উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে নারী অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশে সমালোচনা দেখা দেয়।

সমালোচকদের বক্তব্য, নারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তাঁদের ব্যক্তিগত যৌনজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা নারীদের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে খাটো করে দেখানোর শামিল। নারী অধিকারকর্মীরা এ ধরনের বক্তব্যকে বৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সার্গিস কারাপেতিয়ানের বক্তব্যকে আনুষ্ঠানিক সরকারি নীতির প্রস্তাব হিসেবে গ্রহণ করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংসদে সংঘর্ষের দিনও মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে ছিল না।

সংঘর্ষের পর আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সহিংসতার নিন্দা জানালেও ক্ষমতাসীন নাগরিক চুক্তি দলের সদস্যদের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। পাশিনিয়ান বিরোধী দলের আচরণকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করেন এবং বলেন, সংসদে বিরোধী সদস্যদের আচরণের জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কারণ, সংসদে শারীরিক সহিংসতার গ্রহণযোগ্যতা এবং আইনপ্রণেতাদের আচরণ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে বিরোধী শক্তিশালী আর্মেনিয়া দল অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতাসীন পক্ষ ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। দলটি বিশেষভাবে আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত নতুন যোগাযোগপথ প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছিল। তবে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে পৃথক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

আর্মেনিয়ার সংসদে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিফলন। ক্ষমতাসীন নাগরিক চুক্তি দল এবং বিরোধী শক্তিশালী আর্মেনিয়া দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদে শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও রাজনৈতিক আলোচনার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তবে ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে এমন দাবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকলেও ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রস্তাবটি সেদিন সংসদের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে ছিল না। ফলে ঘটনাটিকে কেবল একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে আর্মেনিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।


ট্যাগ: আর্মেনিয়াআর্মেনিয়ার সংসদসংসদে সংঘর্ষশক্তিশালী আর্মেনিয়ানারীদের অধিকারবিতর্কিত প্রস্তাবরাজনৈতিক সহিংসতানিকোল পাশিনিয়াননারেক কারাপেতিয়ানআন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।