সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন, ইউক্রেনকে অপেক্ষা করতে হতে পারে কয়েক বছরযুক্তরাজ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে পরিবারগুলোর আয় কমবে ১,০৫০ পাউন্ড, বাড়ছে জীবনযাত্রার সংকটডেটোনার সভায় তিন দফা বাধা, বিক্ষোভকারীদের ‘অপদার্থ’ বলে তোপ দাগলেন ট্রাম্পবাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা, উত্তর কোরিয়ার দিকে সন্দেহের তির যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে ট্রাম্পের নজরমিশিগানে বাংলাভাষীদের চিকিৎসায় বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. মুবিনা খান

বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা, উত্তর কোরিয়ার দিকে সন্দেহের তির যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে ট্রাম্পের নজর

বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সন্দেহ করছে তদন্তকারীরা, জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা, উত্তর কোরিয়ার দিকে সন্দেহের তির যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে ট্রাম্পের নজর
বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা, উত্তর কোরিয়ার দিকে সন্দেহের তির যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে ট্রাম্পের নজর

বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনের প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্সে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সাইবার হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আর্থিক ও প্রযুক্তি খাতে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার কোনো হ্যাকার গোষ্ঠী রয়েছে কি না, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে।

৩০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, বাইন্যান্সে হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র তা খতিয়ে দেখছে। চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি শুনেছেন অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং প্রতিষ্ঠানটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে হামলার বিপুল আর্থিক পরিমাণের কারণে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর সংঘটিত এই হামলায় বাইন্যান্সের বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রার ভান্ডার থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলাকারীরা একাধিক অনলাইন লেনদেনব্যবস্থা ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করেছে।

এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটারের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করছে একাধিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান। তবে উত্তর কোরিয়াকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য দায়ী ঘোষণা করা হয়নি। বাইন্যান্সও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি। ফলে এই গোষ্ঠীর নাম তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এলেও এটিকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার একটি সম্ভাব্য প্রবেশপথ ছিল প্রতিষ্ঠানের একজন প্রযুক্তি প্রকৌশলীর ব্যবহৃত কম্পিউটার। ওই কম্পিউটারটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর তারা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ব্যবস্থার একটি অংশে প্রবেশের সুযোগ পায়। সেখান থেকে অনুমোদন ছাড়াই অর্থ উত্তোলনের লেনদেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি নিরাপত্তাগত দুর্বলতা ও অনুপ্রবেশের পথের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাইন্যান্স জানিয়েছে, ঘটনাটি একাধিক ধাপের সমন্বয়ে পরিচালিত জটিল হামলা। শুধু একজন কর্মীর কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার মধ্যেই পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দল বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান করছে।

হামলার পরপরই বাইন্যান্স সাময়িকভাবে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গ্রাহকদের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থের ক্ষতিপূরণ দেওয়া তাদের অগ্রাধিকার। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় গ্রাহকদের ক্ষতি হলে তা সম্পূর্ণভাবে বহন করা হবে।

এদিকে চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ আটকে দেওয়ার দাবি করেছে বাইন্যান্স ও সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ বিভিন্ন অনলাইন লেনদেনব্যবস্থায় জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তবে অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনো হামলাকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই অর্থ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও দেশটির গোপন গোয়েন্দা সেবা বিভাগ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের ৩০ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বাইন্যান্স আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে। চুরি হওয়া সম্পদের গতিপথ শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট হিসাব জব্দ এবং অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, চুরি হওয়া অর্থ কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে তা উদ্ধার করা সম্ভব। ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন সাধারণত বিভিন্ন অনলাইন ব্যবস্থায় সম্পন্ন হয়। এসব লেনদেনের তথ্য প্রকাশ্য খতিয়ানে দেখা গেলেও অর্থের প্রকৃত নিয়ন্ত্রককে শনাক্ত করা সব সময় সহজ নয়। অপরাধীরা বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রায় অর্থ রূপান্তর, একাধিক হিসাব ব্যবহার এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কে সম্পদ স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মুদ্রার বাজারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে। গত বছর বাইবিট নামের আরেকটি ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা উত্তর কোরিয়ার ট্রেডারট্রেইটার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল। বাইন্যান্সের সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে আগের ঘটনার কিছু মিল পাওয়ায় তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ডিজিটাল মুদ্রা চুরির অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের মধ্যে দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাইবার গোষ্ঠী অনলাইন আর্থিক অপরাধে জড়িত বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তে চুরি করা ডিজিটাল সম্পদ দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নিষিদ্ধ সামরিক কর্মসূচির অর্থায়নে ব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাইন্যান্সের ঘটনায় ঠিক কারা নির্দেশ দিয়েছে, কারা প্রযুক্তিগতভাবে হামলা পরিচালনা করেছে এবং অর্থ কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের জন্য আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি রয়েছে। বাইন্যান্সের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে এত বড় অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

এদিকে বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সম্পদ নিরাপদ থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার হিসেবে গ্রাহকদের সম্পদের ক্ষতি পূরণ করা হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

বাইন্যান্সের এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্ভাব্য হ্যাকার গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে হামলাকারীদের পরিচয় ও অর্থের গতিপথ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্তর কোরিয়াকে সরাসরি দায়ী করা কিংবা চুরি হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ উদ্ধার হবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ট্যাগ: বাইন্যান্সডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রউত্তর কোরিয়াসাইবার হামলাডিজিটাল মুদ্রাঅর্থ চুরিহ্যাকারআন্তর্জাতিক তদন্তআর্থিক নিরাপত্ত

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।