‘আমেরিকান নাগরিক হতে গর্বিত’—ডব্লিউএনবিএর জাতীয় সংগীত বিতর্কে মুখ খুললেন সোফি কানিংহাম
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ও সামরিক সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সোফি কানিংহাম। আটলান্টা ড্রিম ও গোল্ডেন স্টেট ভালকিরিজকে ঘিরে বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন ডব্লিউএনবিএ তারকা বাস্কেটবল খেলোয়াড় সোফি কানিংহাম। একই সঙ্গে দেশটির সাবেক ও বর্তমান সামরিক সদস্যদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন ইন্ডিয়ানা ফিভারের এই খেলোয়াড়। তাঁর এমন বক্তব্য সামনে এসেছে ডব্লিউএনবিএর ফাইনালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় আটলান্টা ড্রিম ও গোল্ডেন স্টেট ভালকিরিজের খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকার ঘটনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে।
সম্প্রতি জনপ্রিয় উপস্থাপক থিও ভনের পডকাস্ট ‘দিস পাস্ট উইকেন্ড’-এ অংশ নিয়ে কানিংহাম জাতীয় সংগীতের সময় খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং সামরিক বাহিনীর প্রতি নিজের শ্রদ্ধার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সেখানে তিনি বলেন, নিজের দেশ এবং জাতীয় পরিচয় নিয়ে তাঁর অনেক গর্ব রয়েছে। দেশের জন্য যারা কাজ করছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞ। কানিংহামের ভাষায়, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি, তা নিয়ে আমার অনেক গর্ব। আমি একজন আমেরিকান নাগরিক হতে পেরে গর্বিত।’
নিজের বক্তব্যে কানিংহাম আরও জানান, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন। তাঁদের মতো অসংখ্য মানুষ দেশের জন্য কঠিন দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণে অন্যরা নিজেদের জীবন ও স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান বলে মনে করেন তিনি। তাই সুযোগ পেলেই সাবেক সেনাসদস্য, প্রবীণ যোদ্ধা এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত সামরিক সদস্যদের প্রতি সম্মান ও সমর্থন প্রকাশ করবেন।
জাতীয় সংগীত নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কানিংহাম বলেন, চলতি মৌসুমজুড়েই বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় মাঠের বাইরে থাকার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নতুন নয়। তবে ফাইনালকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান তুলে ধরলেও অন্য খেলোয়াড়দের ওপর সেই মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁর মতে, প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও অবস্থান থাকতে পারে। একই দলে খেললেও সবার মতামত এক হওয়া জরুরি নয়। মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের ডব্লিউএনবিএ ফাইনালে আটলান্টা ড্রিম ও গোল্ডেন স্টেট ভালকিরিজের খেলোয়াড়দের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় মাঠে দেখা যায়নি। সংগীত শেষ হওয়ার পর তাঁরা আবার মাঠে ফিরে আসেন। ফাইনাল সিরিজের একাধিক ম্যাচে একই ধরনের প্রাক্-ম্যাচ রুটিন অনুসরণ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় সংগীতের সময় খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকার সমালোচনা করেছেন। এমনকি দর্শকদের ডব্লিউএনবিএ বয়কট করার আহ্বানও জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনালের এই ঘটনা একেবারে নতুন নয়। ডব্লিউএনবিএর বেশ কয়েকটি দল অন্তত ছয় মৌসুম ধরে জাতীয় সংগীতের আগে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার রীতি অনুসরণ করে আসছে। কোনো কোনো দল সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো সামনে আনতে এবং অন্যরা নিজেদের প্রাক্-ম্যাচ প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে এ সময় মাঠের বাইরে থাকে।
ডব্লিউএনবিএর নিয়মবইয়ে জাতীয় সংগীত চলাকালে খেলোয়াড়, কোচ ও প্রশিক্ষকদের মাঠের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ২০১৭ সালে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে সহিংস ঘটনার পর লিগ কর্তৃপক্ষ জাতীয় সংগীতসংক্রান্ত বাধ্যতামূলক নিয়ম স্থগিত করেছিল। ওই সিদ্ধান্তের ফলে খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য সংগীত চলাকালে নির্দিষ্টভাবে দাঁড়িয়ে থাকার বাধ্যবাধকতা আর কার্যকর রাখা হয়নি।
২০২০ সালেও সামাজিক ন্যায়বিচারসংক্রান্ত প্রতিবাদের সময় অনেক দল জাতীয় সংগীতের আগে মাঠ ছেড়ে যায়। এরপর থেকে বিভিন্ন দলের মধ্যে এই রীতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে বর্তমান বিতর্কে লিগের নিয়ম, দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গোল্ডেন স্টেট ভালকিরিজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটি লিগে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই জাতীয় সংগীতের সময় লকার রুমে থাকার প্রাক্-ম্যাচ রুটিন অনুসরণ করছে। অন্যদিকে আটলান্টা ড্রিমও কয়েক বছর ধরে একই ধরনের রীতি অনুসরণ করে আসছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কানিংহামের বক্তব্যে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও সামরিক সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যদিকে খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বানও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর অবস্থান অনুযায়ী, নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি অন্যদের ভিন্ন মতামতের প্রতিও সম্মান দেখানো জরুরি।
ডব্লিউএনবিএর ফাইনাল ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন আর শুধু বাস্কেটবল মাঠে সীমাবদ্ধ নেই। দেশপ্রেম, জাতীয় সংগীত, ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং খেলাধুলার সংস্কৃতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কানিংহামের বক্তব্য সেই আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।