হাসিনার পতনের আগে ইউনূসের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, সাংবাদিক শিশিরের ভূমিকা জানালেন শফিকুল আলম
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রেখেছিলেন সাংবাদিক কদরুদ্দীন শিশির—এমন তথ্য জানিয়েছেন সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রেখেছিলেন সাংবাদিক কদরুদ্দীন শিশির। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানানোর উদ্যোগে তিনি বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় বার্তা সংস্থা এএফপির ঢাকা ব্যুরোতে কর্মরত শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেন।
শফিকুল আলম জানান, এএফপির ঢাকা কার্যালয়ে নিজের ডেস্ক থেকে মাত্র এক গজ দূরে বসেই শিশির পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বিষয়টি জানতেন খুব অল্পসংখ্যক বিশ্বস্ত ব্যক্তি। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও শিশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
ওই সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছাড়ার দুই দিন আগেও এই যোগাযোগের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন শফিকুল আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি প্রকাশ পেলে শিশির এবং এএফপির সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারতেন। এমনকি তাঁদের গোপন বন্দিশালায় আটক রাখার আশঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
শফিকুল আলমের বর্ণনায়, পুরো পরিস্থিতিতে শিশির শান্ত ও অবিচল থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে ২০২৪ সালের আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ গোপনে সংগ্রহের কাজও শুরু করেছিলেন তিনি বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে সাংবাদিক কদরুদ্দীন শিশির সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই ভূমিকার বিবরণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সংবাদকর্মীদের যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
তবে ঘটনাটির বিবরণ এখানে শফিকুল আলমের ফেসবুক পোস্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিশিরের ভূমিকা, যোগাযোগের সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য ছাড়া এগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।