অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
মিশিগানের সিনেট লড়াইয়ে স্টিভেন্সের সমালোচনায় ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও প্রকট হচ্ছে নির্বাচনের আগে
মিশিগানে সিনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধ তীব্র হচ্ছে; প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্সের সমালোচনা আবদুল এল-সাইয়েদের প্রচারে নতুন চাপ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত আগস্টে দলের প্রাথমিক নির্বাচনে আবদুল এল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব এখনো কাটেনি। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই নেতার মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি এবং একসঙ্গে প্রচারে অনুপস্থিতি দলটির ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সিএনএনের ২৮ অক্টোবর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর স্টিভেন্স ও এল-সাইয়েদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি এবং নির্বাচনের আগে তাঁদের যৌথ প্রচার কর্মসূচিও দেখা যায়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গত আগস্টের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সাইয়েদ স্টিভেন্সকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। ওই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই নেতার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, নির্বাচনী কৌশল এবং প্রচারের অর্থায়ন নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। স্টিভেন্স দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, এল-সাইয়েদ স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে বড় অর্থদাতাদের প্রভাব হ্রাসের মতো বিষয় সামনে এনে প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন অর্জন করেন।
প্রাথমিক নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। স্টিভেন্স এল-সাইয়েদকে অভিনন্দন জানান এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করার লক্ষ্যে দলের প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের কথা জানান। এল-সাইয়েদও দলের ভেতরের মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই প্রাথমিক সৌহার্দ্য পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টিভেন্স মিশিগানের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেও এল-সাইয়েদের নির্বাচনী সমাবেশে তাঁকে দেখা যায়নি। তিনি ডেমোক্র্যাটিক দলের অন্য প্রার্থী জোসেলিন বেনসনের সঙ্গে প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তবে এল-সাইয়েদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার কোনো নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এল-সাইয়েদের প্রচারশিবিরের বক্তব্য, দুই নেতার নির্বাচনী দলের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। স্টিভেন্স এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
দুই পক্ষের এই দূরত্বের পেছনে প্রাথমিক নির্বাচনের সময়কার রাজনৈতিক বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রচারের সময় এল-সাইয়েদ স্টিভেন্সের প্রতি ইসরায়েলপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সমর্থন এবং বড় অঙ্কের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অন্যদিকে, স্টিভেন্স এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। এসব বিরোধের কারণে দলের ভেতরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের ভোটারদের একত্র রাখা। স্টিভেন্সের সমর্থকদের একটি অংশ এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখাও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব ভোটারের একটি অংশ প্রাথমিক নির্বাচনে স্টিভেন্সকে সমর্থন করেছিলেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সও বিভিন্ন ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
রয়টার্সের ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রজার্স ও তাঁর সমর্থকেরা এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক অবস্থান, গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কথিত পারিবারিক সম্পর্কের অভিযোগ সামনে এনেছেন। এল-সাইয়েদ ওই সংগঠনের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর প্রচারশিবিরের দাবি, এসব অভিযোগের মাধ্যমে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা চলছে। অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিশিগানের সিনেট আসনটি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ায় আসনটি এবার নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় এই আসনের ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে দলীয় বিরোধ শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক সমস্যা নয়; জাতীয় পর্যায়েও এর প্রভাব পড়তে পারে।
নির্বাচনী জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটিকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হলেও জরিপের ফল পরিবর্তিত হতে পারে। এগুলো নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না। একইভাবে, স্টিভেন্সের সমর্থকদের অসন্তোষ এল-সাইয়েদের ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রাথমিক নির্বাচনের বিরোধ কাটিয়ে ডেমোক্র্যাটরা শেষ মুহূর্তে একত্র হতে পারবেন কি না। দলের একাংশ মনে করছে, রিপাবলিকানদের মোকাবিলায় ঐক্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, প্রাথমিক নির্বাচনের সময়কার বিরোধ এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
হ্যালি স্টিভেন্স ও আবদুল এল-সাইয়েদের সম্পর্কের টানাপোড়েন মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপাদান হয়ে উঠেছে। তবে স্টিভেন্সের সমালোচনা বা দুই নেতার দূরত্বই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় রাজনীতি, প্রার্থীদের প্রচার এবং ভোটারদের উপস্থিতিই নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে চার বড় তদন্ত

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ওবামা-ট্রাম্পের সমাবেশ ঘিরে জনসমাগমের তুলনা নিয়ে তুমুল আলোচনা

ট্রাম্পের শক্তিপ্রদর্শনের বিপরীতে তালারিকোর জনজোয়ার, টেক্সাসের সিনেট লড়াইয়ে বাড়ছে নাটকীয় উত্তেজনা




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।