সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মিস র‍্যাচেলের বর্ণবাদ অভিযোগ, ফ্লোরিডায় শিশুর ফুটবল বিতর্কে পুলিশের ভিডিওতে নতুন মোড়ফরাসি ভাষা জানলে কানাডায় পিআরের সুযোগ, ১২ ড্রয়ে আমন্ত্রণ ৬০ হাজার ৫০০ জনকেযুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নিয়ম আদালতে দেশজুড়ে আপাতত আটকে গেলযুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনাযুক্তরাষ্ট্রে ৮২৯ শ্রমিকের বকেয়া মজুরি আদায়, ফেরত পাচ্ছেন ছয় লাখ ডলারের বেশি

মিস র‍্যাচেলের বর্ণবাদ অভিযোগ, ফ্লোরিডায় শিশুর ফুটবল বিতর্কে পুলিশের ভিডিওতে নতুন মোড়

ফ্লোরিডা তিন বছরের নেভাডার ফুটবল খেলা ঘিরে পুলিশের উপস্থিতি, পরিবারের অভিযোগ, লিগের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

মিস র‍্যাচেলের বর্ণবাদ অভিযোগ, ফ্লোরিডায় শিশুর ফুটবল বিতর্কে পুলিশের ভিডিওতে নতুন মোড়
মিস র‍্যাচেলের বর্ণবাদ অভিযোগ, ফ্লোরিডায় শিশুর ফুটবল বিতর্কে পুলিশের ভিডিওতে নতুন মোড়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশুর ফুটবল খেলা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিশুটির নাম নেভাডা পিয়েরে। বয়সে ছোট হলেও ফুটবল মাঠে তার অসাধারণ দক্ষতা, একের পর এক গোল এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের পাশ কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এই প্রতিভাই শেষ পর্যন্ত তাকে ঘিরে এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে। একটি শিশু ফুটবল প্রতিযোগিতায় তার খেলার সময় কমিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সঙ্গে আয়োজকদের বিরোধ তৈরি হয়। পরে সেখানে পুলিশ ডাকা হলে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনায় আসে।

শিশুদের জনপ্রিয় ভিডিও নির্মাতা মিস র‍্যাচেল ঘটনাটিকে বর্ণবাদী আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে পুলিশের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের পর পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে ডাকার কারণ হিসেবে আয়োজক শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে বিরোধ এবং মাঠে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অভিযোগ করেছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে পুলিশের নথি ও ভিডিওতে পাওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য সামনে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর ফ্লোরিডার উইন্টার পার্ক শহরের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র পার্কে। নেভাডা আই৯ স্পোর্টস আয়োজিত শিশুদের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছিল। তার বয়স তিন বছর হলেও সে খেলছিল প্রায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে। পরিবারের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, নেভাডা বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের পাশ কাটাচ্ছে এবং একের পর এক গোল করছে।

শিশুটির মা মার্টাসিয়া গ্রিফিনের দাবি, তার ছেলে পুরো মৌসুমজুড়েই ভালো খেলার কারণে সমস্যার মুখে পড়েছে। অন্য শিশুদের অভিভাবকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছিলেন, নেভাডা মাঠে থাকলে অন্য শিশুরা বল নিয়ে খেলার সুযোগ কম পায়। এ কারণে কয়েকবার তাকে মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার দিনও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেভাডাকে আবারও মাঠের বাইরে বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা এর প্রতিবাদ করেন। তাদের প্রশ্ন ছিল, একটি শিশু ভালো ফুটবল খেলতে পারলে তাকে কেন বারবার খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে?
অন্যদিকে, আয়োজকদের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। পুলিশের প্রকাশ করা শরীরে ধারণ করা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটবল লিগের একজন কর্মকর্তা পুলিশকে বলছেন, নেভাডা অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক ভালো খেলে এবং প্রচুর গোল করে। তবে তার অভিযোগ, খেলতে গিয়ে নেভাডা অন্য শিশুদের ধাক্কা দিচ্ছিল। এ কারণে তাকে অন্যদের সঙ্গে নিরাপদে খেলার নিয়ম বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
কর্মকর্তা আরও জানান, এর আগেও একদিন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে অন্য শিশুদের খেলার সুযোগ দেওয়ার সময় নেভাডার বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওই সময় বাবা-মা তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং তাকে অপমানজনক কথা বলেন।

পুলিশের ক্যামেরায় ধারণ করা বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনও শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে অন্য অভিভাবকদের বিরোধ তৈরি হয়। আয়োজকের দাবি, শিশুটির মা তাকে অনুসরণ করছিলেন, তার সঙ্গে তর্ক করছিলেন এবং অন্যদের সামনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছিলেন। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি পুলিশের সহায়তা চান।
তবে শিশুটির মা এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি বলেন, তিনি তার ছেলের হয়ে কথা বলছিলেন। তার মতে, সন্তানকে খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যায়। তিনি আরও দাবি করেন, মাঠে অন্য অভিভাবকদের একটি দল তার ছেলেকে নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বিষয়টি দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
মার্টাসিয়ার ভাষ্য, তিনি সন্তানকে ফুটবল খেলতে নিয়ে এসেছেন, অথচ ভালো খেলার কারণে তাকে মাঠে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি পুলিশকে বলেন, তার ছেলে ফুটবল খেলতে ভালোবাসে এবং অন্য শিশুদের মতো তারও খেলার অধিকার রয়েছে।
ঘটনার সময় তিন বছরের নেভাডাকেও পুলিশের উপস্থিতিতে মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, পুলিশের উপস্থিতি শিশুটিকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। তার মা জানিয়েছেন, ছেলেটি বুঝতে পারছিল না কেন তাকে খেলার জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে তার মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়েছে বলেও পরিবারের অভিযোগ।

তবে পুলিশি নথি ও ভিডিওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেখানে শিশুটিকে গ্রেপ্তার করা কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনার ঘটনা ঘটেনি।
উইন্টার পার্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবরের ঘটনার পর একটি ফুটবল লিগের কর্মকর্তা মাঠে অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধের অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে। লিগ কর্তৃপক্ষ পরিবারটিকে তাদের আয়োজিত প্রতিযোগিতা থেকে সরে যেতে বলে এবং নিবন্ধনের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যকার দেওয়ানি বিরোধ, কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, পার্কে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ কাউকে জোর করে পার্ক থেকে বের করে দেয়নি। পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেন এবং নিজেরাই সেখান থেকে চলে যান।

এ তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, মাত্র তিন বছর বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে পুলিশ ডাকা হয়েছিল এবং তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে লিগ কর্মকর্তাদের বিরোধ।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবারের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। শিশুটিকে কেন বারবার মাঠের বাইরে রাখা হয়েছিল, অন্য শিশুদের সঙ্গে তার খেলার ধরন নিয়ে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং আয়োজকদের সিদ্ধান্ত কতটা ন্যায্য ছিল, সেসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। পুলিশের ভিডিওতে দুই পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলেও মাঠে ঠিক কী ঘটেছিল, তার সবকিছু ক্যামেরায় ধারণ করা হয়নি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নির্মাতা ও উপস্থাপক মিস র‍্যাচেল প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তার আসল নাম র‍্যাচেল গ্রিফিন অ্যাকুরসো। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র তিন বছর বয়সী একজন কৃষ্ণাঙ্গ শিশুর বিরুদ্ধে পুলিশ ডাকা হয়েছে, কারণ সে ফুটবল খুব ভালো খেলে।
তিনি ঘটনাটিকে বর্ণবাদী, অসুস্থতাকর ও শিশুর জন্য মানসিকভাবে আঘাতজনক বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের পরিচিত ব্যক্তিদের নেভাডার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। শিশুটিকে তার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেন, যাতে সে নিজের ফুটবল দক্ষতা সবার সামনে তুলে ধরতে পারে।
মিস র‍্যাচেলের এই বক্তব্যের পর বিতর্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে শিশুটির প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে, পুলিশের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের পর অনেকে মনে করছেন, ঘটনার পেছনে শুধু শিশুটির ভালো খেলার বিষয়টি ছিল না; বরং অভিভাবক ও আয়োজকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।

এখানে বর্ণবাদের অভিযোগ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। নেভাডা কৃষ্ণাঙ্গ শিশু এবং মাঠে তার সঙ্গে খেলতে থাকা অনেক শিশু ছিল শ্বেতাঙ্গ। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ঘটনাটিকে জাতিগত বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের সঙ্গে কথা বলা লিগ কর্মকর্তাও ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কিংবা কোনো স্বাধীন তদন্তে ঘটনাটিকে বর্ণবাদী আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। একইভাবে বর্ণবাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও কোনো তদন্তকারী সংস্থা সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে অভিযোগটিকে এখনই প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
এদিকে নেভাডার মা মার্টাসিয়া গ্রিফিনের বক্তব্য, তার ছেলে মৌসুমে পাঁচটি ম্যাচে ৪০টির বেশি গোল করেছে। অন্য একটি বক্তব্যে পরিবার জানিয়েছে, একটি ম্যাচে প্রায় ৩০ মিনিট খেলার কথা থাকলেও নেভাডাকে তিনবার মাঠের বাইরে বসানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, এত অল্প সময় খেলেও সে ওই ম্যাচে ১০টি গোল করতে সক্ষম হয়।
তার মা আরও জানিয়েছেন, নেভাডা মাত্র ১০ মাস বয়স থেকেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। বর্তমানে তার বাবা প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে ফুটবলের অনুশীলন করান। তবে শিশুটির বয়স বিবেচনায় তার অনুশীলনের সময়, বিশ্রাম এবং স্বাভাবিক শৈশবের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার পর পরিবারটি নেভাডার ফুটবলের ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। তাদের অর্থ সংগ্রহের আবেদনে নিবন্ধন ফি, প্রশিক্ষণ, খেলার সরঞ্জাম, পোশাক এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের খরচের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তহবিলে ৩৫ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়ে। পরবর্তী সময়ে আউটকিকের ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে এই অর্থের পরিমাণ ৪৬ হাজার ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ ঘটনাটি শুধু ক্রীড়াঙ্গনের বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে নেভাডার পাশে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পেশাদার ফুটবলার এডি জনসন। তিনি শিশুটিকে নিজের ফুটবল প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার পরিচালিত অরল্যান্ডোর ফুটবল প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নেভাডার প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, শিশুদের ফুটবলে প্রতিভার বিকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কোনো শিশুর দক্ষতা যেন অন্যদের বিরক্তি বা অযৌক্তিক বাধার কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের ফুটবলে পক্ষপাত, ঈর্ষা এবং বৈষম্যের মতো সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ডব্লিউএফটিভির প্রতিবেদনে জনসনের এই উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মতে, নেভাডার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ফুটবলের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, আই৯ স্পোর্টস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষ সম্পর্কে অনুমাননির্ভর মন্তব্য করতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি।
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ডব্লিউএফটিভির প্রতিবেদনে আই৯ স্পোর্টসের আরও একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, পুলিশের কাছে ফোন করার কারণ ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিরোধ এবং পরিস্থিতি শান্ত করা। শিশুটির ফুটবল দক্ষতা পুলিশ ডাকার কারণ ছিল না বলে তারা দাবি করেছে। তবে ঘটনার সময়কার প্রাপ্তবয়স্কদের বিরোধের সরাসরি ভিডিও তাদের কাছে নেই বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দ, শারীরিক বিকাশ, দলগত সহযোগিতা এবং খেলাটির প্রাথমিক নিয়ম শেখা। এ বয়সে সব শিশু সমান দক্ষ হবে না, এটাই স্বাভাবিক। কেউ দ্রুত শিখবে, কেউ সময় নেবে। তাই একজন প্রতিভাবান শিশুর উন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্য শিশুদেরও বল নিয়ে খেলার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
আবার খেলার নিয়ম শেখানোর নামে কোনো শিশুকে অপমান করা, অযথা বসিয়ে রাখা কিংবা তার প্রতিভাকে বাধা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে সন্তানের হয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিভাবকদেরও আয়োজকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করা জরুরি।
সব মিলিয়ে নেভাডা পিয়েরেকে ঘিরে এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের খেলাধুলা, সমান সুযোগ, অভিভাবকদের আচরণ এবং বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মিস র‍্যাচেল ঘটনাটিকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিলেও পুলিশের ভিডিওতে বিরোধের অন্য একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে বর্ণবাদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, শিশুটিকে মাঠের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তও পুরোপুরি ন্যায্য ছিল কি না, সে প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।


ট্যাগ: মিস র‍্যাচেলফ্লোরিডাযুক্তরাষ্ট্রের খবরশিশু ফুটবলনেভাডা পিয়েরেবর্ণবাদ বিতর্কপুলিশের ভিডিওশিশুদের খেলাধুলাফুটবল প্রতিভাআই৯ স্পোর্টস।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।