সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইরান উত্তেজনার মধ্যেই পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী ব্রেট সিলভিয়াকে সরালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথবাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক বাধা দূর করতে রাষ্ট্রদূতের জোরালো আহ্বানকংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে চার বড় তদন্তঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৫২৫ জন গ্রেপ্তার, ৪৬ মামলায় পুলিশের ব্যাপক অভিযান রাজধানীজুড়েবিবিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা, খারিজের আশঙ্কায় আদালতের কড়া নির্দেশ

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে চার বড় তদন্ত

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসা, ইরান যুদ্ধ, অভিবাসন অভিযান এবং সম্ভাব্য অভিশংসন নিয়ে তদন্তের পরিকল্পনা করছেন ডেমোক্র্যাটরা।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে চার বড় তদন্ত
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে চার বড় তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে ব্যাপক তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির আইনপ্রণেতারা সম্ভাব্য তদন্তের বিষয়, সাক্ষী এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সবগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে রূপ নেয়নি। 

ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে কংগ্রেসের তদন্তক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দলটির হাতে আসতে পারে। এর ফলে শুনানি আয়োজন, নথিপত্র তলব এবং সাক্ষীদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষমতা পাবেন। তবে কংগ্রেসের কোনো কমিটি নথি তলব করলেই সব তথ্য অবিলম্বে হাতে পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ, গোপনীয়তার দাবি এবং আদালতের হস্তক্ষেপ তদন্তকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের আলোচনায় প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন। দলটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানতে চান, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে কি না। বিশেষ করে ডিজিটাল মুদ্রাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিদেশি বিনিয়োগ, সরকারি প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ খতিয়ে দেখার আগ্রহ রয়েছে।

কাতারের উপহার দেওয়া প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি উড়োজাহাজ, যা ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের সরকারি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত, সেটিও সম্ভাব্য তদন্তের আলোচনায় রয়েছে। এ ধরনের উপহার গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়, নিরাপত্তা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের প্রশ্নে কী ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য, তা জানতে চাইতে পারেন আইনপ্রণেতারা। ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি চুক্তি পাওয়ার প্রক্রিয়াও তাদের নজরে আসতে পারে।

তবে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সরকারি চুক্তি পাওয়া নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। সম্ভাব্য তদন্তের উদ্দেশ্য হবে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যাচাই করে কোনো বিধি লঙ্ঘন ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণ করা। হোয়াইট হাউস অতীতে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদ্যোগের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের ক্ষেত্র ইরান যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সেনাদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন ও সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আইনপ্রণেতারা জানতে চাইতে পারেন, যুদ্ধের লক্ষ্য নির্ধারণে কী ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল কি না এবং ব্যয়ের হিসাব কীভাবে নিরীক্ষা করা হয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচার বন্ধের যুক্তিতে পরিচালিত নৌযানবিরোধী সামরিক অভিযানও সম্ভাব্য তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এসব অভিযানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত শক্তির বৈধতা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা সম্পর্কে জবাব চাইতে পারেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে হেগসেথের নেতৃত্বের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য তদন্তে প্রশাসনের বক্তব্য এবং সামরিক কর্তৃপক্ষের নথিপত্রও গুরুত্বপূর্ণ হবে। তদন্তের মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে মতভেদকে সরাসরি অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

তৃতীয় সম্ভাব্য তদন্তের বিষয় অভিবাসন অভিযান এবং অভিবাসনবিষয়ক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ জানতে চায়, এসব অভিযানে কর্মকর্তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন কি না, আটক ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে কি না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না।

অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি এবং অভিযানের সময় নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আসতে পারে। আইনপ্রণেতারা সরকারি চুক্তি, আটকসংক্রান্ত নথি, অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা যাচাই করতে পারেন। তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সব কার্যক্রমকে বেআইনি বলে ধরে নেওয়া যাবে না। তদন্তে প্রতিটি অভিযোগের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চতুর্থ সম্ভাব্য বিষয় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। দলের কিছু আইনপ্রণেতা ইরান যুদ্ধ পরিচালনা এবং প্রেসিডেন্টের অন্যান্য সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অভিশংসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যরা মনে করেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ও রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া এমন উদ্যোগ নিলে তা কার্যকর ফল দেওয়ার বদলে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে অভিশংসনের অভিযোগ অনুমোদন করা যায়। কিন্তু প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে অপসারণ করতে সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সিনেটে পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকলে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা কঠিন হবে। অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দোষ প্রমাণিত হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন এবং এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনা কেবল প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ, সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং অভিবাসন কার্যক্রমের মতো বিষয়েও কংগ্রেসের নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তদন্তের পরিধি, সময়সূচি এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্বাচনের ফলাফল ও কংগ্রেসের নতুন নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

৩ নভেম্বরের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। কিন্তু তদন্ত শুরু করা, প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং আইনি বা রাজনৈতিক পরিণতিতে পৌঁছানো দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তাই সম্ভাব্য তদন্তকে নিশ্চিত পদক্ষেপ হিসেবে নয়, নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা উচিত।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্পমধ্যবর্তী নির্বাচনমার্কিন কংগ্রেসডেমোক্র্যাট দলট্রাম্প প্রশাসনরাজনৈতিক তদন্তইরান যুদ্ধঅভিবাসন নীতিঅভিশংসনসরকারি জবাবদিহ

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।