সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
গ্যাস থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় সুযোগ দেখছে যুক্তরাষ্ট্রবাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে বড় সুখবর, প্রস্তুতির জন্য আরও তিন বছর সময় দিল জাতিসংঘজলবায়ু অর্থায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্যযুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে গোপনে ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আনছে ইরান‘আমেরিকান নাগরিক হতে গর্বিত’—ডব্লিউএনবিএর জাতীয় সংগীত বিতর্কে মুখ খুললেন সোফি কানিংহাম

জলবায়ু অর্থায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য

জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।

জলবায়ু অর্থায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য
জলবায়ু অর্থায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন বাজার, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং পরিবেশগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লন্ডনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি র‍্যাচেল কাইটের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ আবদুল মুহিতও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, কার্বন বাজারে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলীয় সুরক্ষা, কৃষির অভিযোজন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

এ কারণে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দক্ষতা বিনিময়ের প্রয়োজন রয়েছে।

বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কার্বন বাজার নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য আন্তর্জাতিক নিয়মের আওতায় লেনদেনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্য পরিমাপ এবং পরিবেশগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া সবুজ ও নীল অর্থনীতিতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবেশবান্ধব শিল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখেও বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ২৪ অক্টোবর ঢাকায় এক জাতীয় সংলাপে শামা ওবায়েদ উন্নত দেশগুলোর কাছে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে কম দায়ী হলেও বাংলাদেশকে এর বড় ধরনের ক্ষতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। উপকূলীয় সুরক্ষা, কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জলবায়ুবিষয়ক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব আলোচনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের ওপর।

উল্লেখ্য, লন্ডনের বৈঠকে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হলেও নতুন কোনো নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টিকে আপাতত দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ ও আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ: বাংলাদেশযুক্তরাজ্যজলবায়ু পরিবর্তনজলবায়ু অর্থায়ননবায়নযোগ্য জ্বালানিকার্বন বাজারপরিবেশ সহযোগিতাসবুজ অর্থনীতিনীল অর্থনীতিশামা ওবায়েদ ইসলামর‍্যাচেল কাইট

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।