সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
‘আমেরিকান নাগরিক হতে গর্বিত’—ডব্লিউএনবিএর জাতীয় সংগীত বিতর্কে মুখ খুললেন সোফি কানিংহামনয় মাসেই ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা লোকসান, অর্ধেকে নামল ইসলামী ব্যাংকের নিট সম্পদমূল্যসৌদি আরবে সংকট বাড়লে বড় ধাক্কায় পড়বে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ও অর্থনীতি।ইসরায়েল নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহু, তবু ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তাকাতারের সরবরাহে অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল গ্যাস কেনার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের শঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক বহর পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান পৌঁছেছে, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের শঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক বহর পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের শঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক বহর পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক বিমান পরিবহন কার্যক্রম শুরু করেছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের আনাগোনা বেড়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একাধিক ভারী পরিবহন বিমান পৌঁছানোর খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারেও মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের তথ্য সামনে এসেছে।

৩০ অক্টোবর প্রকাশিত তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমি এলাকার সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০টি সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানো হয়েছে। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিমানগুলো ওভদা ও নেভাতিম সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে যাত্রা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিস সামরিক ঘাঁটি থেকে এসব বিমান যাত্রা করে। ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও পরিচালনার কেন্দ্রগুলোর একটি। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে।

এই বিমান পরিবহনের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এবং মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

তবে প্রতিটি বিমানে কী ধরনের সরঞ্জাম ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সব বিমানেই প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ছিল, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট বিমান চলাচল ও সরঞ্জাম পরিবহনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইসরায়েলের বাইরে জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারেও মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। এসব দেশের সামরিক ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই তৎপরতার অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি মূলত শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং নির্দিষ্ট ধরনের বিমান ও আকাশযান শনাক্ত করে ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হুমকি মোকাবিলায় এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২৮ অক্টোবর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেক্সাস থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে একটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে কতগুলো প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। সামরিক নিরাপত্তার কারণে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ সীমিত রাখা হয়।

এদিকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ওয়াশিংটন কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশকে সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছে। সম্ভাব্য এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করার খবর এবং সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের তথ্য মূলত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ওপর নির্ভরশীল।

বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক তৎপরতার কারণে। ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন পুনঃপ্রকাশ করে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরেছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রয়টার্স ওই বৈঠকসংক্রান্ত প্রতিবেদনের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌবাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানোর পরিকল্পনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরি এবং মেরিন সেনা ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিষয়গুলো। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি এই হরমুজ প্রণালি। এখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত হয়। এ অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও পরিস্থিতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানি, প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেলের দাম বাড়তে পারে, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান পরিবহন বৃদ্ধি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার তৎপরতা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সামরিক প্রস্তুতি মানেই যুদ্ধ শুরু হওয়া নয়। কূটনৈতিক আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইরানের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রইরানমধ্যপ্রাচ্যইসরায়েলসামরিক বিমানপ্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রআকাশ প্রতিরক্ষাসৌদি আরবকাতারজর্ডানউপসাগরীয় উত্তেজনাআন্তর্জাতিক রাজনীতিযুদ্ধের আশঙ্কাবাংলাদেশের অর্থনীতি।

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।