অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ভোটের আগে পাঁচ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা ট্রাম্পের
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সামনে এনেছেন ট্রাম্প। তবে অর্থ বিতরণে কংগ্রেসের অনুমোদন ও অর্থের উৎস নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে নতুন আর্থিক প্রতিশ্রুতি সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে রিপাবলিকান দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই অর্থ বিতরণের ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অর্থকে ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সমর্থন বাড়ানো এবং ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটির বাস্তবায়ন, অর্থের উৎস এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসে কোন দল কতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা বাড়তে পারে।
নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির পেছনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। জ্বালানি, খাবার, বাসাভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে অনেক মার্কিন নাগরিক উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে। ট্রাম্প তাঁর প্রচারে অর্থনীতির সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, সাধারণ মানুষের ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান না হলে শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে।
পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই উদ্যোগের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এত বড় অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে আসবে, কীভাবে বিতরণ করা হবে এবং এতে সরকারি বাজেটের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা ও নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন। ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য থেকে আয় এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেও এসব উৎস থেকে প্রস্তাবিত অর্থের পুরোটা পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এই অর্থ বিতরণের প্রস্তাব বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের ঘোষণা থাকলেও নাগরিকদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কংগ্রেসে এ বিষয়ে সমর্থন পাওয়া যাবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো সরকারি ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা হলে সরকারি ঋণের চাপ বাড়তে পারে। অর্থের জোগান ও ব্যয়ের ধরন অনুযায়ী বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পেলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনা করা জরুরি।
ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত অর্থ হাতে এলে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে সুবিধা হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, তা শুধু আর্থিক সুবিধার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়েও তাঁদের সংশয় রয়েছে।
নির্বাচনের আগে এই প্রস্তাবকে রিপাবলিকানদের সমর্থন বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভোটারদের সিদ্ধান্তে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসননীতি এবং সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাঁচ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ঘোষণাকে নিশ্চিত আর্থিক সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অর্থের উৎস এবং বিতরণের শর্ত স্পষ্ট হওয়া জরুরি। শেষ পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কতটা আকৃষ্ট করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা জানতে নির্বাচনের ফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মার্কিন নির্বাচনের আগে,নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থায় সাইবার হামলার চেষ্টা

নাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামল

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনে বিচারকের প্রশ্ন, বাড়ছে আইনি বিতর্ক






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।