অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
মার্কিন নির্বাচনের আগে,নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থায় সাইবার হামলার চেষ্টা
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনের অনলাইন নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ, রাজনৈতিক অর্থ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে তৈরি হয়েছে বিঘ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে দেশটির ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ব্যবস্থায় সাইবার হামলার চেষ্টার ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনার পর কমিশনের ইলেকট্রনিক নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নির্বাচনী প্রচারে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন সমস্যায় পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে নির্বাচনী অর্থের তথ্য প্রকাশে বিঘ্ন ঘটায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কমিশনের কর্মকর্তাদের একটি ইমেইলে জানানো হয়েছিল, কেউ কমিশনের কম্পিউটার ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। এ কারণে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কিছু অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা সমস্যাটি সমাধান করে সেবা চালু করার চেষ্টা করছিলেন। তবে প্রতিবেদনে হামলাকারীর পরিচয় কিংবা তারা সফলভাবে কোনো তথ্য চুরি করতে পেরেছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
কমিশনের অনলাইন নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ২৬ অক্টোবর রাতে বন্ধ হয়ে যায়। পরদিনও সেটি পুরোপুরি চালু হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়। কমিশন জানিয়েছিল, তাদের কর্মীরা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য দেয়নি।
এই অনলাইন ব্যবস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অর্থায়নের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রার্থী, রাজনৈতিক কমিটি এবং নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়কারী সংগঠনগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের তথ্য জমা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অনুদান, ঋণ কিংবা নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ব্যবস্থাটি বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে এসব প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক সংগঠন কোথা থেকে অর্থ পাচ্ছে এবং কোন নির্বাচনী প্রচারে কত টাকা ব্যয় করছে, তা দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাংবাদিক, গবেষক এবং নির্বাচনী অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ও প্রচার ব্যয়ের পরিমাণও নজর কেড়েছে। নির্বাচনী বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞাপন বুকিং মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১২১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে রেকর্ড পর্যায়ের ব্যয়। ধনী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত বিশেষ রাজনৈতিক কমিটিগুলোও নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের অনলাইন নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। কমিশন মূলত নির্বাচনী অর্থায়নের নিয়ম, অর্থ সংগ্রহ এবং ব্যয়ের তথ্য তদারকি করে। ভোটকেন্দ্র পরিচালনা বা ভোট গণনার দায়িত্ব এই কমিশনের নয়। তাই এই ঘটনার কারণে ভোটারদের সরাসরি ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কোনো গোপন তথ্যের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে ঘটনার প্রকৃত ব্যাপ্তি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ঘটনা নির্বাচনী তথ্যের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনলাইন ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে অর্থ ব্যয়ের তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা কঠিন হতে পারে। তবে সাইবার হামলার চেষ্টার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দেশের বিরুদ্ধে দায় চাপানো সমীচীন হবে না।

ভোটের আগে পাঁচ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা ট্রাম্পের

নাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামল

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনে বিচারকের প্রশ্ন, বাড়ছে আইনি বিতর্ক






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।