সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফায় লাখো মানুষের খাবার, দুর্নীতির অভিযোগে সরব হিলারি ক্লিনটননিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানানাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামলকম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কারবাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে আহ্বান তারেক রহমানের, পোশাকশিল্পে নতুন সম্ভাবনা

কম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

কম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে ৫২ হাজার বিদেশি বহিষ্কার, তাঁদের মধ্যে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

কম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার
কম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা দমনে ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত কম্বোডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবালের প্রতিবেদনে দেশটির অভিবাসন বিভাগের সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে এসব তথ্য জানানো হয়। বুধবার, ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৩ হাজার ১০৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এবার বহিষ্কৃত বিদেশির সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার ৪০০ শতাংশের বেশি।

বহিষ্কৃত বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনা নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। এ ছাড়া আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তালিকায় আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় দুই হাজার মিয়ানমারের নাগরিক এবং দেড় হাজারের বেশি থাইল্যান্ডের নাগরিকও রয়েছেন।

কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিককে সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কতজনকে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তারও পৃথক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।

এ কারণে বহিষ্কৃত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক হবে না। বিদেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কাজে বাধ্য হওয়ার ঘটনাও এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধে স্বেচ্ছায় যুক্ত ছিলেন, নাকি মানব পাচারের শিকার হয়ে বাধ্য হয়েছেন, তা নির্ধারণের জন্য পৃথক তদন্ত ও ব্যক্তিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।

সংগঠনটি আরও বলেছে, কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে অবস্থান করছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেখানে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশে ভালো বেতনের চাকরি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান কিংবা সহজে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেখিয়ে দালালচক্র মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে। পরে তাঁদের প্রতারণাকেন্দ্রে আটকে রাখা, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, নির্যাতন করা কিংবা জোরপূর্বক অবৈধ কাজে বাধ্য করার অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সব কটি একই ধরনের নয়; প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মস্থল, ভিসা এবং চুক্তিপত্র যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাভাবিক উচ্চ বেতনের প্রস্তাব, অস্পষ্ট চাকরির বিবরণ, পর্যটক ভিসায় কাজ করার প্রস্তাব কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার চাপকে সম্ভাব্য বিপৎসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বিদেশে গিয়ে কেউ আটকে পড়লে, নির্যাতনের শিকার হলে কিংবা জোরপূর্বক কাজে বাধ্য হলে দ্রুত বাংলাদেশি দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে মানব পাচারকারী ও প্রতারণাচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিও উঠেছে। শুধু বিদেশ থেকে নাগরিকদের বহিষ্কার করলেই এ ধরনের অপরাধের মূল সমস্যা সমাধান হবে না। যেসব দালাল ও নিয়োগচক্র মিথ্যা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিদেশে পাঠায়, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।

কম্বোডিয়া থেকে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কারের তথ্য বিদেশে কর্মসংস্থান, অনলাইন প্রতারণা ও মানব পাচারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং কম্বোডিয়ায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।


ট্যাগ: কম্বোডিয়াবাংলাদেশি নাগরিকঅনলাইন প্রতারণামানব পাচারবিদেশে কর্মসংস্থানঅভিবাসনপ্রতারণাচক্রপ্রবাসী শ্রমিকদেশে প্রত্যাবর্তনপুনর্বাসন

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।